এক আইএএস অফিসারের গাড়ির নীচে বেঘোরে প্রাণ গেল সাংবাদিকের। শুক্রবার রাতে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে এই ঘটনা ঘটেছে। তাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ওই সাংবাদিকের। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত আইএএস অফিসারকে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, তিনি মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত সাংবাদিকের নাম কে মহম্মদ বশির। ৩৫ বছর বয়সী বশির মালয়ালম দৈনিক ‘সিরাজ’-এর ব্যুরো চিফ ছিলেন। শুক্রবার রাত ১টা নাগাদ কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সে সময় ভেল্লায়াম্বালাম রোডে সরকারি মিউজিয়ামের কাছে তাঁর মোটরবাইকে ধাক্কা মারে ৩৩ বছরের আইএএস অফিসার শ্রীরাম বেঙ্কটরমণের গাড়ি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরবাইকটিকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে মিউজিয়ামের দেওয়ালে চেপে ধরে গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই সাংবাদিকের।

জোবি জি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরছিলাম। সে সময় প্রচণ্ড জোরে শব্দ হয়। এগিয়ে গিয়ে দেখি, দেওয়ালের মধ্যে সেঁটে উল্টো হয়ে ঝুলছে মোটরবাইকটি। তুবড়ে গিয়েছে গাড়ির সামনের অংশ। সেই অবস্থাতেই চালকের আসন থেকে বেরিয়ে আসেন এক ব্যক্তি।’’

আরও পড়ুন: নাশকতার সম্ভাবনা, নাগরিকদের জম্মু-কাশ্মীর আসা নিয়ে সতর্ক করল ব্রিটেন এবং জার্মান​

খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত মোটরবাইক এবং গাড়িটির থেকে খানিকটা দূরে মহম্মদ বশিরের জুতো পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। রাস্তায় রক্তের দাগও স্পষ্ট ছিল। দুর্ঘটনার সময় শ্রীরাম বেঙ্কটরমণের গাড়িতে এক মহিলাও ছিলেন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ। তবে সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। শ্রীরাম বেঙ্কটরমণকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিরুঅনন্তপুরমের পুলিশ প্রধান ধীনেন্দ্র কাশ্যপ।

দুর্ঘটনায় চুরমার হয়ে গিয়েছে আইএএস অফিসারের গাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত।

শুরুতে শ্রীরাম বেঙ্কটরমণ পুলিশকে তদন্তে কোনও রকম সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি পুলিশের। তাদের কথায়, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন কি না তা যাচাই করতে রক্তের নমুনা চাওয়া হয় ওই অফিসারের কাছে। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। রক্তের নমুনা দিতে রাজি না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তাই শেষমেশ তিনি রাজি হন। শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ রক্তের নমুনা ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেলে জানা যায়, তিনি মদ্যপ ছিলেন। তার পরই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলা​

নিহত সাংবাদিক মহম্মদ বশিরের বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই কন্যা রয়েছেন। তাঁদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারাও। অভিযুক্ত আইএএস অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।