প্রধানমন্ত্রী চাইছেন নারদ-কাণ্ড নিয়ে অবিলম্বে বৈঠক ডাকুক সংসদের নীতি (এথিক্স) কমিটি। কিন্তু সংসদের অধিবেশন অন্তত এক দিন না চললে নীতি কমিটির বৈঠক ডাকার কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়ে দিলেন কমিটির প্রধান লালকৃষ্ণ আডবাণী। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে তিনি জানিয়েছেন, যেখানে নীতি মেনে সংসদই চলছে না, সেখানে নীতি কমিটির বৈঠক মূল্যহীন। আগে সংসদ একদিন অন্তত ঠিক ভাবে চলুক, তার পর না হয় বৈঠক ডাকা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সব থেকে সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চাপে রাখতে তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে ওঠা নারদ-কাণ্ডের তদন্তের প্রশ্নে নীতি কমিটি যাতে নড়েচড়ে বসে, সে জন্য তৎপর হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। ওই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে নীতি কমিটি। নারদ নিউজের সিইও ম্যাথু স্যামুয়েল ইতিমধ্যেই গোটা ঘুষ-কাণ্ডের ভিডিও জমা দিয়েছেন। যার ভিত্তিতে তৃণমূলের যে সব সাংসদকে ফুটেজে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের নোটিসও ধরিয়েছে নীতি কমিটি।

মাঝে নারদ-তদন্ত অবশ্য গতি হারিয়েছিল। বিরোধীরা দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করছেন, মোদী-মমতা আঁতাতের জন্যই সারদা থেকে নারদ— সব তদন্ত গতি হারিয়েছে। কিন্তু নোট বাতিল-সহ নানা বিষয়ে মোদীর বিরুদ্ধে মমতা সুর চড়ানোর পর থেকেই পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সম্প্রতি সারদা তদন্তে নতুন করে সিবিআই নোটিস পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায়। এ বার নীতি কমিটির মাধ্যমে নারদ-কাণ্ডের বন্ধ খাতা ফের খুলতে চাইছে কেন্দ্র। 

সেই লক্ষ্যেই সম্প্রতি লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল অনুপ মিশ্র নীতি কমিটির চেয়ারম্যান লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে দেখা করে জানান, সরকার চাইছে অবিলম্বে যাতে নারদ কাণ্ডের তদন্তে সক্রিয় হয় তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটি। সংসদীয় সচিবালয় থেকে ওই বার্তা আসা মাত্রই পত্রপাঠ খারিজ করে দেন আডবাণী। সেক্রেটারি জেনারেলকে জানিয়ে দেন, তিনি কোনও ভাবেই ওই বৈঠক ডাকবেন না। আডবাণী জানান, সব কিছুরই একটা নিয়ম রয়েছে। আগে সংসদ, তার পর তো সংসদীয় কমিটি। গোটা শীতকালীন অধিবেশনে সংসদ এক দিনও কার্যত চলেনি বলা যায়। আগে সংসদ চলুক। তার পর বৈঠক ডাকা হবে। আডবাণীর স্পষ্ট বার্তা, যদি নিয়ম মেনে অন্তত একদিনও গোটা দিন সংসদ চলে, তা হলে সেই দিনই তিনি নীতি কমিটির বৈঠক ডাকবেন।

সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শেষ হতে বাকি আর মাত্র তিন দিন। বিরোধীরা এখন চাইছেন, বাকি ক’দিন বিতর্কে অংশ নিয়ে নোট বাতিল ও তার জেরে মানুষের যন্ত্রণা সংসদে তুলে ধরতে। কিন্তু বিরোধীদের সেই ফাঁদে পা দিতে রাজি নয় সরকার। তারা আলোচনার বিপক্ষে। এই চাপানউতোরে আগামী তিন দিনও সংসদের অধিবেশন ভেস্তে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে অন্তত শীতকালীন অধিবেশনের মধ্যে নারদ-কাণ্ড নিয়ে নীতি কমিটির বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছে সংসদীয় সচিবালয়।