প্রজ্ঞাকে ভোটে লড়তে আটকাল না আদালত
ভোপালের বিজেপি প্রার্থী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিল মুম্বইয়ের একটি আদালত। মালেগাঁও বিস্ফোরণে নিহত এক যুবকের বাবা আদালতে এই আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার কোর্ট বলেছে, প্রজ্ঞার জামিন যে হেতু ওই আদালত থেকে হয়নি, তাই আর্জি জানানোর সঠিক জায়গাও এটি নয়।
1

প্রচারে: ভোপালে প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুর। বুধবার। পিটিআই

ভোপালের বিজেপি প্রার্থী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিল মুম্বইয়ের একটি আদালত। মালেগাঁও বিস্ফোরণে নিহত এক যুবকের বাবা আদালতে এই আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার কোর্ট বলেছে, প্রজ্ঞার জামিন যে হেতু ওই আদালত থেকে হয়নি, তাই আর্জি জানানোর সঠিক জায়গাও এটি নয়।

২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রজ্ঞাকে সম্প্রতি ভোপাল থেকে লোকসভা ভোটের প্রার্থী করেছে বিজেপি। এর পরেই জামিনে মুক্ত প্রজ্ঞার প্রার্থীপদ বাতিলের আর্জি জানিয়ে মামলা করেন ওই বিস্ফোরণে নিহত এক যুবকের বাবা নিশার সইদ। মুম্বইয়ের একটি আদালতে তিনি এ-ও জানান, প্রজ্ঞার জামিন বাতিলের আবেদন ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। বুধবার সইদের আর্জি খারিজ করে বিশেষ বিচারক ভি এস পাডালকার বলেন, ‘‘আইনজীবীরা নিশ্চয়ই জানেন, এই আর্জির জন্য এই কোর্ট সঠিক জায়গা নয়। কারণ, অভিযুক্ত এখান থেকে জামিন পাননি। আর্জি জানানোর জন্য আবেদনকারী ভুল জায়গা বেছেছেন।’’

প্রজ্ঞার আইনজীবী জে পি মিশ্র কোর্টে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল ‘আদর্শের জন্য’ এবং ‘দেশের স্বার্থে’ ভোটে লড়ছেন। তাঁর মন্তব্য, ‘‘যাঁরা হিন্দু সন্ত্রাসবাদের কথা বলছেন, তাঁদের নিন্দা করতেই ভোটে লড়ছেন প্রজ্ঞা।’’ আবেদনে সইদ যুক্তি দিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণে জামিন পেয়েছিলেন অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুর। গ্রীষ্মের কড়া রোদে তিনি যদি ভোটের প্রচার করতে পারেন, তা হলে বোঝা যাচ্ছে, তিনি যথেষ্ট সুস্থ। আর এ সবের অর্থ, প্রজ্ঞা আদালতকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। জবাবে মিশ্র দাবি করেন, প্রজ্ঞা মোটেই আদালতকে ভুল পথে চালনা করেননি। আদালত জামিন দেওয়ার পরে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি হাঁটতেই পারতেন না। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে ঠিকই। তবে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। প্রজ্ঞার আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল ষখন ভোটের প্রচার করছেন, তাঁর সঙ্গে সব সময়েই এক জন চিকিৎসক থাকছেন। পাশাপাশি, মিশ্রের দাবি, শারীরিক কারণে নয়, প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দোষগুণ বিচার করেই তাঁকে জামিন  দেওয়া হয়েছিল।

মালেগাঁও বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রজ্ঞাকে গ্রেফতার করেছিল মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড। পরে এনআইএ প্রজ্ঞাকে ‘ক্লিন চিট’ দিলেও আদালত তাঁকে মুক্তি দেয়নি। প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন বা ‘মোকা’-য় আনা অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্য কয়েকটি ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত