মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞাকে ভোপালের প্রার্থী করল বিজেপি
২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা। এই মুহূর্তে জামিনে মুক্ত রয়েছেন তিনি।
sadhvi pragya

ভোপালে বিজেপির দফতরে ঢোকার মুখে সাধ্বী প্রজ্ঞা। ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত।

সেই হিন্দুত্ববাদকে মূলধন করেই ভোপালে ‘ধর্মযুদ্ধে’ নামল বিজেপি। দীর্ঘ টালবাহানার পর সেখানে মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরকে প্রার্থী ঘোষণা করল তারা। তাও আবার তাঁর দলে যোগ দেওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই।

এর আগে ভোপাল থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নরেন্দ্র সিংহ তোমর, শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং উমা ভারতীর মতো প্রবীণ নেতাদের নাম উঠে আসছিল। কিন্তু তাঁরা কেউই রাজি হননি।  গত কয়েকদিন ধরেই সাধ্বী প্রজ্ঞার নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।  যার পর বুধবার সকালে ভোপালে বিজেপির দফতরে দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘ধর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং জিতবও।’’ভোপালের বিদায়ী সাংসদ অলোক সাঞ্জর জানান, ‘‘সাধ্বী প্রজ্ঞার প্রতি দলের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তাঁর জয় নিশ্চিত করে ছাড়ব আমরা। ওঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণ হয়নি। একজন মহিলাকে চরম হেনস্থা করা হয়েছিল। এ বার প্রতিশোধ নেওয়ার পালা।’’

আরও পড়ুন: ভেলোরের পরও শিক্ষা হয়নি, ভোটের মুখে তামিলনাড়ুতে ফের বিলির জন্য রাখা টাকা উদ্ধার​

আরও পড়ুন: ইমরানের মন্তব্য কংগ্রেসের ‘খেল’, অভিযোগ নির্মলা সীতারমণের​

২০০৮ সালে ইউপিএ জমানায়, মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেফতার হন সাধ্বী প্রজ্ঞা। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালানোর ঘটনাকে সেই সময় ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’বলে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যা নিয়ে পরবর্তীকালে একাধিকবার বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ। তার পাল্টা হিসাবে আবার দিগ্বিজয়কে হিন্দু বিরোধী বলে আক্রমণ করেন গেরুয়াপন্থীরা। এমনকি ভোটের ময়দানে তাঁকে পরাস্ত করতে প্রস্তুত বলে গতমাসে মন্তব্য করেন সাধ্বী প্রজ্ঞা নিজেও। তার পরই বিজেপির পছন্দের তালিকায় তিনি উঠে আসেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

তবে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে প্রার্থী করে বিজেপি কতটা লাভবান হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেছন, সমস্ত অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি পাননি সাধ্বী প্রজ্ঞা। ২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ আইন (মকোকা)থেকে রেহাই দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ আদালত। তবে সন্ত্রাস দমন এবং ইউএপিএ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত