বিস্ফোরণ ছত্তীসগঢ়ে, ভোট কম দ্বিতীয় দফায়
প্রথম পর্বের দিনে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, হাওয়া তাঁর সরকারের পক্ষে। আজ একই দাবি করেন বিজেপির মথুরা কেন্দ্রের প্রার্থী হেমা মালিনী।
Vote

ছত্তীসগঢ়ের রাজনন্দগাঁওয়ের ডোঙ্গারগাঁওয়ে ভোট দেওয়ার পর এক ভোটার। ছবি পিটিআই।

প্রথম পর্বে প্রায় গত বারের সমান-সমান হলেও লোকসভা ভোটের দ্বিতীয় পর্বে ভোট পড়ল কিছুটা কম। ২০১৪-র দ্বিতীয় পর্বে যেখানে সার্বিক প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, এ বার তা দাঁড়াল ৬৬ শতাংশের কাছাকাছি।

প্রথম পর্বের দিনে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, হাওয়া তাঁর সরকারের পক্ষে। আজ একই দাবি করেন বিজেপির মথুরা কেন্দ্রের প্রার্থী হেমা মালিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সচরাচর ভোটের হার বাড়লে মনে করা হয়, তা প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ইঙ্গিত। হয়তো ভোট কম পড়ছে বলেই বিজেপি নেতারা মনে করছেন, হাওয়া তাঁদের পক্ষে। তবে অন্য একটি ব্যাখ্যা ঘুরছে বিজেপি শিবিরেই। নেতাদের একাংশের প্রশ্ন, দল ও সঙ্ঘের কর্মীরা ভোটারদের বুথ পর্যন্ত নিয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছেন না তো? তাই কি হার কমেছে ভোটের? মোদীকে ফের জিতিয়ে আনার ব্যাপারে ভোটদাতাদের আগ্রহে কি ভাটা পড়েছে? 

কমিশনের পরিসংখ্যান, বিহারে পড়েছে ৬২.৩৮% ভোট। পাঁচ বছর আগে যা ছিল ৬৫%। কর্নাটকে ৬১.৮৪%। ২০১৪ সালে ছিল ৭%শ বেশি। উত্তরপ্রদেশে ৬১.৮৭%, ২০১৪ সালে ছিল প্রায় ৬৪%। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে কাঁপুনি ধরেছে বিজেপির অন্দরে।’’ আজ উত্তরপ্রদেশে যে ক’টি আসনে ভোট হয়েছে, সেগুলি প্রায় সবই মায়াবতীর গড়। যে ভাবে ওই এলাকাগুলিতে সংখ্যালঘু মহিলারা দীর্ঘ লাইনে ভোট দিয়েছেন, তাতে চিন্তা বাড়ার কথা বিজেপির। তাই উত্তরপ্রদেশে মেরুকরণের কৌশল পাঁচ বছর আগের মতো কার্যকরী হবে কি না, প্রশ্ন রেখে দিচ্ছে প্রথম দুই পর্ব। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

আজও অবশ্য মেরুকরণ তাস খেলেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। কর্নাটকের বাগলাকোটের নির্বাচনী জনসভায় মোদী প্রশ্ন রাখেন, ‘‘কংগ্রেস-জেডিএস সরকারের জনভিত্তি বাগলাকোট, না পাকিস্তানের বালাকোট— সেই জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।’’ ছত্তীসগঢ়ে অমিত শাহ টেনে এনেছেন সাধ্বী প্রজ্ঞা প্রসঙ্গ। বলেছেন, ‘‘প্রজ্ঞা নির্দোষ। হিন্দু সন্ত্রাস একটি কাল্পনিক বিষয়।’’ জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরের ভোটের কথা মাথায় রেখে ক্ষমতায় এলে ধারা ৩৭০ তুলে দেওয়ার দাবিও করেছেন অমিত। 

মাওবাদীদের বোমা বিস্ফোরণ, কয়েকটি রাজ্যে ইভিএমে গোলমাল এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মোট ৯৫টি আসনের এই দফার ভোটে কোনও প্রাণহানি হয়নি। ছত্তীসগঢ় কিংবা জম্মু-কাশ্মীরও ব্যতিক্রম নয়। ছত্তীসগঢ়ের রাজনন্দগাঁওয়ের মেধা ও ডাব্বা গ্রামে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আইটিবিপি-র জওয়ানেরা এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন। সেই সময়েই আইইডি বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। জওয়ানদের থেকে কিছুটা দূরে সেই বিস্ফোরণ ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। রাজনন্দগাঁওয়ের বাকি এলাকায় যদিও আজ সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় ভোট হয়েছে।

ভোট ছিল কাশ্মীরের শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রেও। শ্রীনগর, বদগাম, গান্ধেরবালে ছিল নিরাপত্তার ব্যাপক বন্দোবস্ত। রাজ্যের উধমপুর কেন্দ্রেও আজ ভোট হয়েছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শ্রীনগরে ভোট পড়েছে ১৫%। উধমপুরে ৬৫% ভোট পড়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় বিক্ষোভ দেখান কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশ। ভোটের দিনে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। বদগামের হাফরু গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রকে নিশানা করে হঠাৎ পাথর ছোড়া শুরু হলে বাহিনী পাল্টা ছররা চালিয়েছে বলে খবর। তাতে এক মহিলা-সহ তিন জন আহত হন। 

উত্তরপ্রদেশের আটটি কেন্দ্রের বেশ কিছু এলাকায় ইভিএমে বিভ্রাটের খবর মেলে। বিহারের বাঁকা লোকসভা কেন্দ্রের শম্ভুগড়ের দু’টি বুথে নির্দল প্রার্থী পুতুল সিংহ ও জেডিইউ প্রার্থী গিরিধারী যাদবের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যার জেরে গুলি চালায় বাহিনী। তবে হতাহতের খবর নেই। কর্নাটকের ১৪টি, মহারাষ্ট্রের ১০টি আসনে বড় গোলমালের খবর নেই।

অসমে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৪%। করিমগঞ্জে প্রায় ৭২%, শিলচরে ৭২%, স্বশাসিত অঞ্চলে ৭০%, মঙ্গলদৈয়ে ৭৫% ও নগাঁওতে ৭৬% ভোট পড়েছে। বিভিন্ন বুথ থেকে ইভিএম বিকল হওয়ার খবর মিলেছে। মঙ্গলদৈয়ের গেলাইডিঙি বুথে ভোট দেওয়ার পরে এক মহিলা সংজ্ঞা হারান ও পরে মারা যান।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত