গ্রামে কাজ নেই। কখনও সখনও কাজ মিললেও যা টাকা পাওয়া যায়, তাতে সংসার চলে না। বাধ্য হয়েই তাই গ্রাম ছেড়ে কাজের খোঁজে ভিন্‌ রাজ্যে পাড়ি দেন বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন কোচবিহারের দিনহাটা, সিতাই, শীতলখুচি, মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ, তুফানগঞ্জের কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে পরিচয়পত্র হিসেবে ভোটার কার্ড দেখানোর পরেও ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁদের। পোয়াতুর কুঠির জাভেদ আলি মিয়াঁ, রফিকুল ইসলামরাও এই অভিজ্ঞতারই শরিক।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের নাগরিক অভিযোগে যাঁদের গ্রেফতার করেছে নয়ডার পুলিশ, তাঁদের অনেকেই কোচবিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। রফিকুল ইসলাম দিনহাটার পোয়াতুর কুঠির বাসিন্দা। ওই মহকুমারই বড় আটিয়াবাড়ির বাসিন্দা জাবেদ আলি মিয়াঁ। তাই ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাম।

রফিকুলের বাবা কাশেম আলি বলেন “ছেলে ও ছেলের বৌ দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন দিল্লিতে। ছ’মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। কষ্ট করে সংসার চালান। তাঁদের কেন বাংলাদেশি বলা হবে।’’ ওই এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন,‘‘দেশের মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকেই।’’

কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ও এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখনও অনেকেই কাজের জন্য ভিন্‌ রাজ্যে রয়েছেন। তাঁদের উপরে কোনও রকম জুলুম মেনে নেওয়া হবে না। যেখানে তাঁরা ভোটার কার্ড সহ সমস্ত পরিচয় পত্র প্রমাণ হিসেবে দেখাচ্ছেন। তার পরেও কেন গ্রেফতার করা হবে? দ্রুত তাঁদের ছেড়ে দেওয়া না হলে জোরদার  প্রতিবাদ করব আমরা।”

কোচবিহারের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ ভিন্‌ রাজ্যে কর্মরত। তাঁদের অভিযোগ, কল-কারখানা না থাকায় এখানে কাজের সুযোগ নেই। ভরসা শুধু কৃষিকাজ। স্বাভাবিক ভাবে অন্য রাজ্যে যেতে হয় তাঁদের। সারা ভারত যুবলিগের রাজ্য সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, “কয়েক বছর আগেও বাঙালিদের অনেককে বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করা হয়েছে। সে
সময় আমরা আন্দোলন করি। প্রয়োজনে এ বারেও নয়ডা গিয়ে আন্দোলন করব।”