বিপুল ঋণের ভারে এমনিতেই ধুঁকছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান পরিবহণ সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এ বার তাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করল বিভিন্ন তেল সংস্থা। জ্বালানি বাবদ এই মুহূর্তে বাজারে কয়েক হাজার কোটির দেনা এয়ার ইন্ডিয়ার। তা না মেটানো পর্যন্ত তাদের জ্বালানি সরবহরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল সংস্থাগুলি।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সাত মাস জ্বালানি এবং এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর খরচ মেটায়নি এয়ার ইন্ডিয়া। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা দেনা তাদের। সেই টাকা মেটানো না পর্যন্ত তাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসিএল) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্প (এইচপিসিএল)-এর মতো সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার বিকালেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আপাতত কোচি, পুণে, পটনা, রাঁচি, ভাইজাগ এবং মোহালি বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একটি তেল সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন, ‘‘৯০ দিনের মধ্যে ধার শোধ করার কথা এয়ার ইন্ডিয়ার। অর্থাৎ আজ জ্বালানি কিনলে ২১ নভেম্বরের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু ২০০ দিনের বেশি কেটে গেলেও, এখনও বকেয়া টাকা মেটায়নি তারা।’’ তিনি আরও জানান, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বাকি থাকলেও, সম্প্রতি মাত্র ৬০ কোটি টাকা মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া, যা বিপুল পরিমাণ ধারের সামনে কিছুই নয়।

আরও পড়ুন: আমেরিকা-চিনের চেয়ে আর্থিক বৃদ্ধি ভাল, নীতি আয়োগের শঙ্কা উড়িয়ে দাবি অর্থমন্ত্রীর​

বিষয়টি নিয়ে সপ্তাহখানেক আগেই এয়ার ইন্ডিয়াকে তিনটি সংস্থার পক্ষ থেকে যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান ওই আধিকারিক। টাকা না মেটালে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল তাতে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। এর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তেল সংস্থাগুলির দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পায় এয়ার ইন্ডিয়া। কিন্তু তেল সংস্থাগুলি সে রকম কোনও সুযোগসুবিধা পায় না। ২০০২-এর এপ্রিল থেকে বাজার দরেই জ্বালানি এবং এটিএফ কিনতে হয় তাদের। আবার বাজার দরেই তা বিক্রি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এত টাকা বাকি রাখা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরেই ভারতে আসছে শক্তি বাড়িয়ে নেওয়া প্রথম রাফাল​

সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাজারে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার দেনা রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার। বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তাদের এক মুখপাত্র। তিনি জানান, আগের থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও, এই মুহূর্তে কোটি কোটি টাকার ঋণ শোধ করার ক্ষমতা নেই তাদের।