পাঁচ দিন ধরে কার্ফু। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। পরিজনেদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে হন্যে হয়ে গিয়েছিলেন এ রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা  জম্মু, কাশ্মীরের বাসিন্দারা। শুক্রবার শ্রীনগরের ডিভিশনাল কমিশনারের অফিস থেকে দু’টি হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়। কিন্তু দিনভর চেষ্টা করে সেখানেও যোগাযোগ করতে পারেননি অনেকে। কমেনি উদ্বেগ।

বর্ধমান শহরে বড়বাজারের একটি গলির ভিতর কাপড়ের দোকান রয়েছে মুস্তানসর আলির। এলাকায় ‘নানা ভাই’ বলে পরিচিত তিনি। মুস্তানসর জানান, শ্রীনগরের দায়রা আদালতের পাশেই তাঁর বাড়ি। সিকি শতাব্দী আগে শাল নিয়ে বর্ধমানে এসেছিলেন ব্যবসা করতে। তারপর থেকে বর্ধমানই তাঁর ঘরবাড়ি। এখন বছরে দু’বার শ্রীনগর যান। সেখানে স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘একটা নম্বর টানা ব্যস্ত বলে যাচ্ছে। আর একটা নম্বরে ফোন ঢুকছে না। ওরা কেমন আছে কে জানে!’’

কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশাপাশি দু’টি ৯৫ বছরের পুরনো দোকানের কাশ্মীরি মালিক এবং কর্মীরাও হেল্পলাইনের নম্বরে ফোন করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত লাইনই পাননি সাজ্জাদ হায়দর ফরিদ। তাঁর কথায়, ‘‘কখনও বলছে ফোন ব্যস্ত, কখনও বলছে পরে চেষ্টা করুন। মোটে দুটো নম্বরে আর কী-ই বা হয়!’’

পাশের দোকানের আহমেদ বাট নানা আশঙ্কার দোলাচলের মধ্যেও আগে টিকিট কাটা থাকায় বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের বিমান ধরেছেন। ওই দোকানে তাঁর সহকর্মী আব্দুল কাইয়ুম বললেন, ‘‘আহমেদ ভাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শ্রীনগর বিমানবন্দরের দু’টি নম্বর পেয়েছিলেন। সেই নম্বরে ফোন করে জানতে পারেন, শহরে ট্যাক্সি চলছে।’’

নতুন হেল্পলাইন দু’টিতে ফোন করে অবশ্য যোগাযোগ করতে পারেননি আব্দুলরা। বলেছেন, ‘‘টিভিতে শুনলাম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। কবে যে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারব কে জানে!’’