বিগত অনেক বছর ধরেই ‘নতুন ভারত’ গড়ার কথা বলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনশোর বেশি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে এ বারে তার নতুন সংজ্ঞা দিলেন— একবিংশ শতাব্দীর ‘নতুন ভারত’ আসবে ‘পুরনো ঐতিহ্য’ ফিরিয়ে এনেই। হাজার বছরের পুরনো সাহিত্য, বেদকেও আধুনিকতার সঙ্গে জুড়তে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে এগুলিকে সম্পৃক্ত করে মেলে ধরতে হবে গোটা দুনিয়ার সামনে। 

যে কথা কতকটা বলে থাকেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় বিজেপি ও আরএসএসের সমন্বয় বৈঠক হবে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে একের পর এক সঙ্ঘের কর্মসূচি মেনেই এগোচ্ছেন, তা নজর এড়াচ্ছে না কারও।

গত কালই ‘ফিট ইন্ডিয়া’ অভিযান শুরুর সময়ে প্রধানমন্ত্রী পাঠ্যপুস্তকে ‘ত’-এ তরোয়াল ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। আজ আয়ুষ মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানেও অনেকটা একই পথে হাঁটলেন। কিন্তু কোথাও সঙ্ঘের নাম নিলেন না। বরং প্রাকৃতিক চিকিৎসার চলের জন্য মোহনদাস কর্মচন্দ্র গাঁধীকেই মেলে ধরলেন। প্রথমেই নিজে সুস্থ থাকার ‘রহস্য’ উন্মোচন করে বললেন, ‘‘যোগ, প্রাণায়াম, আয়ুর্বেদ— এই তিনের ভরপুর ব্যবহার করেই আমার গাড়ি চলছে।’’ তার পরে বললেন দীনশা মেহতার কথা, যিনি গাঁধীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর নামে এক ডাকটিকিট চালু করে বললেন, ‘‘মহাত্মা গাঁধীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সমর্পিত ছিলেন। গাঁধীর জীবনেও তাঁর প্রভাব পড়েছে।’’ 

দেশের নতুন শিক্ষানীতিতে বৈদিক শিক্ষা প্রচলন, একটি পৃথক বোর্ড, গুরুকুল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি ইতিমধ্যেই তুলেছে সঙ্ঘ। মোদী আজ বলেন, ‘‘হাজার বছরের পুরনো সাহিত্য, বেদে গুরুতর রোগের চিকিৎসার কথা আছে। শতাব্দী ধরে মহাপুরুষদের সমর্পণ, স্বাস্থ্যের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারি। আমাদের দুর্ভাগ্য, নিজস্ব গবেষণা, জ্ঞানের ভাণ্ডারকে আধুনিকতার সঙ্গে জুড়তে পারিনি। পুরনোপন্থী বলে ছেড়ে দেওয়া বিষয় ফেরাতে হবে।’’ দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এই অনুষ্ঠানের আগে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদপত্রের অনুষ্ঠানেও বক্তব্য রাখেন। সেখানেও তিনি ‘পদবি’ মাহাত্ম্য উপেক্ষা করার কথা বলেন, আঞ্চলিক ভাষা প্রচারে গুরুত্ব দেন। 

গত লোকসভা ভোটে জিতে আসার পরেই মোদী জাত-পাতের অঙ্ক মুছে শুধু গরিবি-হঠাও এর কথা বলেন। আরএসএসও জাত-পাত ভুলে সব হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে বলে। সম্প্রতি সংরক্ষণ ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা বলেও বিতর্ক বাধিয়েছেন মোহন ভাগবত। আজ মোদী বলেন, ‘‘এই ভারতে আর পদবির মূল্য নেই। কে নিজের যোগ্যতায় কত নাম করলেন, সেটিই আসল!’’ আরএসএস যেমন সম্প্রতি পরোক্ষে ইংরেজির বিরোধিতা করে হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষার প্রচলনে জোর দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীও আজ সংবাদপত্রে রোজ যে কোনও একটি শব্দ দশটি ভাষায় প্রচারের দাওয়াই দিলেন। তাঁর মতে, ‘‘কর্নাটকের লোক বাংলা শিখবে, হরিয়ানার মানুষ মালয়ালম। তাতে আদান প্রদান বাড়বে।’’

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনে কংগ্রেসের শশী তারুর প্রথমেই একটি শব্দ বিভিন্ন ভাষায় টুইট করেছেন। শব্দটি হল ‘বহুত্ববাদ’।