প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বহুপাক্ষিক বৈঠক করতে আগামিকাল সকালে কিরগিজস্তানের বিশকেক-এ যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। পরশু সেখানে এসসিও-র (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) শীর্ষ সম্মেলন। উপস্থিত কিছু রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে মোদীর। চিন এবং রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে। বিশকেক-এ উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। তবে তাঁর সঙ্গে মোদীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

এসসিও রাষ্ট্রগুলির তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পরে ওই সম্মেলনে এটি ভারতের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটা সময়ে এই বৈঠক হতে চলেছে, যখন আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত অত্যন্ত সঙ্কটে। চিন এবং আমেরিকার শুল্ক-যুদ্ধ চরমে। আমেরিকার একতরফা সংরক্ষণবাদী অর্থনীতির প্রভাব এসে পড়েছে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপেও। ইরান থেকে তেল এবং রাশিয়া থেকে অস্ত্র আমদানি নিয়ে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নেমেছে ভারত-সহ বেশ কিছু দেশের উপর। 

সাউথ ব্লক সূত্রে জানানো হয়েছে, এসসিও সম্মেলনে সন্ত্রাস মোকাবিলা এবং অবাধ যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বলাই প্রাথমিক লক্ষ্য মোদীর। পাশাপাশি এই গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে মধ্য এশিয়া এবং ইউরেশিয়া অঞ্চলের সঙ্গে শক্তিক্ষেত্রে বড় মাপের সমঝোতা গড়ে তোলাটা তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে। কিছু দিন আগে সরকারের প্রথম দফাতেই ‘ইন্ডিয়া-সেন্ট্রাল এশিয়া ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত। মোদী নিজে ২০১৫ সালের মধ্যে এশিয়ার সমস্ত দেশ সফর করেছিলেন। পরে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ওই গ্রুপটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ভারত এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক, শক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সে ব্যাপারে কথা এগোতে পারে বিশকেক-এ।

বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ইরান থেকে তেল আমদানি যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে তখন বিকল্প উৎসের জন্য এই ব্লকটির সঙ্গে বাণিজ্য করা সুবিধাজনক। এ ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তাও স্তরে হয়েছে ভারতের। আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি ঝালিয়ে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তি করার দিকে এগোবেন মোদী।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।