• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রণবদার পিটুনির খোঁচায় প্রশংসার মলম মোদীর

Narendra Modi
রাষ্ট্রপতির প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী। পিটিআইয়ের তোলা ফাইল চিত্র।

আগের দিনই সরব হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি এবং কংগ্রেস সভানেত্রী। উত্তরে বিজেপি সভাপতি পাল্টা আক্রমণে যান। প্রত্যুত্তরে বিরোধীরা ঢাল করেন রাষ্ট্রপতিকেই। গোরক্ষকদের তাণ্ডব আর গণধোলাই নিয়ে এ ভাবে বারবার মুখ পোড়ানোর পরে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখে প্রশংসার মলম। রবিবার আবেগঘন গলায় নরেন্দ্র মোদীকে বলতে শোনা গেল, ‘‘প্রণবদা বাবার মতোই আমার দেখভাল করেছেন।’’

যদিও চিঁড়ে বিশেষ ভিজল না। বরং এ দিনও মোদী সরকারের সঙ্গে নিজের মতবিরোধকেই সামনে এনে রাষ্ট্রপতি জানিয়ে দিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হয়েছে বটে, কিন্তু সরকারি কাজে তার প্রভাব পড়েনি।’’ উপস্থিত অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সামনেই প্রণব বললেন, ‘‘বহু বার আমি অর্থমন্ত্রীকে ডেকে জানতে চেয়েছি, এটা কেন হলো, ওটা কেন হচ্ছে? উনি এক জন দুঁদে আইনজীবীর মতোই সব কিছু যুক্তি দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিতেন।’’

শনিবার সনিয়া গাঁধী অভিযোগ করেছিলেন, একদল অসহিষ্ণুতা ছড়াচ্ছে। আর যাঁদের হাতে আইনরক্ষার ভার, তাঁরা একে মদত দিচ্ছেন! একই মঞ্চ থেকে প্রণব মুখোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, ‘‘যখন উন্মত্ত ভিড় অযৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গণপিটুনি দেয়, তখন একটু ভাবা উচিত, আমরা কি যথেষ্ট সতর্ক?’’ সরাসরি নাম না নিলেও আক্রমণের লক্ষ্য যে মোদী সরকার, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারওই। মোদী নিজেও শুক্রবার বলেছিলেন, গোভক্তির নামে মানুষ খুন মানা যায় না। কিন্তু কাল রাতেই গোয়ায় অমিত শাহকে যখন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা, অমিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘‘ইউপিএ জমানায় এর চেয়ে বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। তখন কেউ কিছু বলেননি!’’ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুরে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘চলতি জমানায় গণপিটুনির ঘটনাকে আমি খাটো করছি না, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়। অপরাধীরা তো গ্রেফতার হচ্ছে!’’ অমিতের এই মন্তব্যে বিরোধীরা সরব হয়ে বলেন, এ সব বলে গো-তাণ্ডবকেই আড়াল করছেন বিজেপি সভাপতি।  আজ পাল্টা তথ্য-পরিসংখ্যান দেখিয়ে কংগ্রেস দাবি করে, মোদী-জমানাতেই গণপিটুনি বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা প্রণববাবুর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে।

আরও পড়ুন:হাতে কাজ দিতে মোদীর তাস স্মৃতি

এই আবহে আজ প্রণবকে নিয়ে এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে যান মোদী। যে প্রণববাবুকে তিনি দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি ভবনে চাননি, সেই প্রণববাবুরই ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, দিল্লিতে এসে ‘প্রণবদা’র হাত ধরেই তিনি জমি শক্ত করেছেন। মোদীর কথায়, ‘‘(প্রণবদা) বারবার বলতেন, শরীরের খেয়াল রাখ। ভোটের সময় বলতেন, হার-জিত তো থাকেই, একটু বিশ্রাম নাও।’’

তবে এই প্রশংসা যে বরফ গলায়নি, তা প্রণবের কথাতেই স্পষ্ট।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন