রাত পোহালেই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তার আগে আজ ঘরোয়া আড্ডায় সুষমা স্বরাজ বললেন, ‘‘বেঙ্কাইয়াজি, আজই শেষ। কাল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আর আগের মতো কথা বলতে পারবেন না। হুট করে এ দিক-ও দিক যেতে পারবেন না।’’ পাশে বসে প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে বললেন, ‘‘বেঙ্কাইয়াজি জানেন, তাঁকে কী করতে হবে।’’

ওই এক কথায় আসল বার্তাটি দিলেন নরেন্দ্র মোদী। মিশন রাজ্যসভা। আগামিকাল বেঙ্কাইয়ার ভোটে যাতে কোনও গলদ না হয়, তার জন্য এনডিএ সদস্যদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন মোদী। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং উপরাষ্ট্রপতি পদে বেঙ্কাইয়ার মতো আরএসএসের দুই সদস্যকে পেয়ে তাঁর আগামী দিনের পথনির্দেশিকা সেখানেই স্পষ্ট করে দিয়ে মোদী বলেন, ২০১৭ থেকে ২০২২— এই পাঁচ বছর দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রথম রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার স্পিকার একই বিচারধারার লোক হবেন। সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, সংসদের মর্যাদা বাড়াতে রাজ্যসভার কী ভূমিকা হবে, তা এখন বেঙ্কাইয়ার হাতে। বেঙ্কাইয়ার দিকে তাকিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘‘নিজেকে উপরাষ্ট্রপতি ভাবতে শিখুন!’’

বেঙ্কাইয়া যে ভাবতে শিখেছেন, সেটা কিছুটা বুঝিয়েও দিলেন নিজেই!  সভায় উঠে বললেন, ‘‘কাল থেকে বলতে পারব না, আজ বলি— বাজপেয়ী-আডবাণী জমানাকেও ছাপিয়ে মোদী ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন।’’ সেই সঙ্গেই সম্ভাব্য উপরাষ্ট্রপতির সংযোজন— ‘‘বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সবাই মোদীর হাত শক্ত করুন।’’

বিরোধীরা বলেছেন, প্রথমে মোদী এবং তার পরে বেঙ্কাইয়ার কথাতেই স্পষ্ট— আগামি দিনে দেশ চলবে সঙ্ঘের ইশারায়। আসলে বেঙ্কাইয়ার জয় নিয়ে বিজেপি এতটাই নিশ্চিত যে, তারা পরের ধাপের অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে। হিসেব বলছে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বেঙ্কাইয়া নায়ডুর জয় নিশ্চিত। বিজেপির নতুন শরিক জেডিইউ বিরোধী প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ গাঁধীকে সমর্থনের আশ্বাস দিলেও। কাল ফল প্রকাশের পর ‘উষাপতি’ নির্বাচিত হবেন উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে। শপথ নেবেন ১১ অগস্ট। আর ১৮ অগস্টের মধ্যে চলে যাবেন উপরাষ্ট্রপতি নিবাসে।

স্ত্রী উষাকে মস্করা করে বলেও রেখেছেন, ‘‘নতুন বাড়িতে সব নতুন, শুধু স্ত্রী পুরনো।’’

মধ্যপ্রদেশ থেকে বিজেপির এক সাংসদের শপথের পর সদ্য গত কালই কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে প্রথম বার রাজ্যসভায় সব থেকে বড় দল হয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালে লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতলেও গত তিন বছরে মোদীকে সব থেকে বেশি বেগ দিয়েছে রাজ্যসভাই। যে কারণে বিরোধীদের আক্রমণ হজম করেও অনেক বিল পাশ রাজ্যসভা এড়িয়ে গিয়েছে মোদী সরকার।

বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, সেই পরিস্থিতির বদল হবে এ বার। উপরাষ্ট্রপতি হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হবেন বেঙ্কাইয়া। বিরোধীদের অভিযোগ, মোদীকে ২০১৯-এ ফের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাওয়া বেঙ্কাইয়ার মতো স্বয়ংসেবক রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হলে নানা ভাবে বিজেপির দাপট বাড়বে উচ্চকক্ষে। সামনের অধিবেশন থেকে রাজ্যসভায় আসবেন অমিত শাহও। পাশাপাশি, আগামী এপ্রিলে খালি হবে আরও ৫৭টি রাজ্যসভার আসন। উত্তরপ্রদেশের ১০টির মধ্যে ৯টি পাবে বিজেপি। এ ছাড়া মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, হরিয়ানার মতো রাজ্যেও বিজেপির দখল থাকায় সেখান থেকেও দলের সাংসদ বাড়বে। একবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেই বদলে যাবে খেলা।

এই কারণেই মোদী-শাহের লক্ষ্য— আরও বেশি রাজ্যে ক্ষমতা দখল। যত রাজ্যে ক্ষমতা বাড়বে, রাজ্যসভাতেও শক্তি বাড়বে তত। এখনই ১৮টি রাজ্যে বিজেপি নিজে অথবা শরিকের সঙ্গে ক্ষমতায়। আগামি দিনে তা আরও বাড়বে, আশা মোদী-শাহের। এটাই ভাঁজ ফেলছে বিরোধী নেতাদের কপালে।