সমস্যা জমির। রেলের কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণে সাহায্য করছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর জমি না-পাওয়াকেই রাজ্যের রেল প্রকল্পগুলির দীর্ঘসূত্রিতার জন্য দায়ী করে আজ বাজেট বিতর্কের জবাবি বক্তব্যে তৃণমূলকে আক্রমণ শানালেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।

বাজেট বিতর্কে গত কাল রেল নিয়ে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের আচরণকে ‘বঞ্চনামূলক’ বলে সরব হন একাধিক তৃণমূল সাংসদ। আজ জবাবি বিতর্কে রাজ্যগুলির প্রশ্নে শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করেন রেলমন্ত্রী। রাজ্যে প্রকল্পগুলির দীর্ঘসূত্রিতার পিছনে রাজ্য প্রশাসনের গা-ছাড়া মনোভাবকে দায়ী করে পীযূষ জানান, পশ্চিমবঙ্গে ৫৬টি নতুন প্রকল্প চলছে। ১৬টি নতুন লাইন, ৪টি গেজ পরিবর্তন ও ৩৪টি ডাবলিং-এর কাজ চলছে। প্রকল্পের খরচ ৪২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু রাজ্য সরকার জমি না-দেওয়ায় কিছু প্রকল্প ১৯৭৪-’৭৫ সাল থেকে চালু রয়েছে! যেমন হাওড়া-আমতা, বরগাছিয়া-চাপাডাঙা প্রকল্প। মন্ত্রী বলেন, ‘‘১৯৮৩-’৮৪তে ঘোষিত একলাখি-বালুরঘাট ১৬৩ কিলোমিটার প্রকল্পের ৭৬ কিলোমিটার ও ১৯৮৪-’৮৫ সালে তমলুক থেকে দিঘা ১৬৮ কিলোমিটার প্রকল্পের ৮০ কিলোমিটার কাজ জমি জটে আটকে রয়েছে।’’ 

পীযূষের কথায়, ‘‘জমি না-দিলে কাজ হবে কী করে। জমি পেলে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে টাকার অভাব হবে না।’’ তিনি দাবি করেন, জমি চেয়ে তিনি একাধিক বার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। রেলমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গত ১৫ জুন আমি দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)-কে চিঠি দিয়ে কোন প্রকল্পের জন্য কত জমি প্রয়োজন, তা বিস্তারিত জানিয়েছি।’’ তৃণমূলের সাংসদদের উদ্দেশে পীযূষ বলেন, ‘‘জমি পেতে সাহায্য করলে আপনাদের কাছে ঋণী থাকব।’’ 

পরে রেলমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বালুরঘাট-একলাখি প্রকল্প শেষ হয়ে সেখানে ট্রেন চলছে। আমি রেলমন্ত্রীকে সেই ট্রেনে চড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’’ তৃণমূল জানিয়েছে, রেলমন্ত্রীর কাছে সর্বশেষ তথ্য নেই। দীঘা-তমলুক ট্রেন ছুটছে, তা রেলমন্ত্রী জানেনই না! তৃণমূল জানিয়েছে, সংসদকে মন্ত্রীর ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হবে তারা। 

জমি জটে আটকে রয়েছে বুলেট ট্রেনের কাজও। সেই প্রসঙ্গ তুলে এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে জমি জট রয়েছে বলে জানালেন রেলমন্ত্রী। তাঁর নিজের রাজ্য মহারাষ্ট্রে বিজেপি ক্ষমতায়। কিন্তু সেখানেও জমি জটে আটকে রয়েছে বুলেট ট্রেন প্রকল্প।’’ দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়ে পীযূষ বলেন, ‘‘আমাদের সরকার সংবেদনশীল সরকার। আদিবাসীদের বুঝিয়ে সেখানে জমি নেওয়ার কাজ চলছে।’’