• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাফাল নিয়ে অম্বানীর আইনি চিঠির পাল্টা কটাক্ষ

Rafale

Advertisement

কাগজের বিমান বানিয়ে সংসদে উড়িয়ে কংগ্রেস নেতাটি বলেছিলেন, ‘‘অনিল অম্বানীর থেকে ভাল বিমান বানাব!’’

পঞ্জাবের সেই কংগ্রেস নেতা সুনীল জাখর আজ পেয়েছেন অনিল অম্বানীর থেকে আইনি নোটিস— ‘রাফাল নিয়ে বলা বন্ধ করুন, নয় তো আইনি ফল ভোগ করুন।’’ হাসিমুখে আর একটি কাগজের বিমান বানিয়ে জাখর বললেন, ‘‘অনিল অম্বানীর বিমান বানানোর অভিজ্ঞতা নেই। সত্যি ওঁর থেকে ভাল বিমান বানাব।’’

শুধু কি তিনি একা? প্রায় ডজন খানেক কংগ্রেস নেতা আজ সামনে এসে বললেন, তাঁরাও রাফাল নিয়ে মুখ খোলার জন্য অনিল অম্বানীর থেকে আইনি নোটিস পেয়েছেন। আর সকলেরই হাসিমুখ! সকলেই বলছেন, প্রশ্ন তো করা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীকে। অথচ আইনি নোটিস দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন অনিল অম্বানী। এ তো ‘ঠাকুর ঘরে কে’…. অবস্থা!

রাফালে কী বিতর্ক?

• মনমোহন সরকার ২০১২-তে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের থেকে বায়ুসেনার জন্য ১২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, ১৮টি রাফাল কেনা হবে সরাসরি। বাকি ১০৮টি ভারতেই তৈরি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল। সিদ্ধান্ত হলেও চুক্তি সই হয়নি।

• মোদী সরকার ১২৬টি-র বদলে সরাসরি মোট ৩৬টি রাফাল কেনার চুক্তি করে। যার কোনওটিই এ দেশে তৈরি হবে না। ১০ এপ্রিল ২০১৫, মোদীর ফ্রান্স সফরে দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে এই চুক্তি ঘোষণা হয়।

• কংগ্রেসের দাবি, ২০১২-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম পড়ত ৫২৬.১০ কোটি টাকা। এখন দাম পড়ছে বিমান পিছু ১,৬৭০.৭০ কোটি টাকা।

• গোপনীয়তা-শর্তের যুক্তিতে মোদী সরকার এক-একটি বিমানের দাম কত, তা সরকারি ভাবে বলতে রাজি নয়। তার দাবি, দর কষাকষি করে অনেক সস্তাই পড়েছে। সঙ্গে অত্যাধুনিক অস্ত্র আর গ্যারান্টিও আদায় হয়েছে।

অনিল অম্বানীর সংস্থা কী ভাবে যুক্ত?

• এখন চুক্তি অনুযায়ী, মোট মূল্যের ৫০ শতাংশ মূল্যের কাজের বরাত ভবিষ্যতে এ দেশের সংস্থাকে দেবে দাসো। যাতে সেই সংস্থাটি বিশ্ব মানের প্রযুক্তি শিখে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

• কংগ্রেসের অভিযোগ, ইউপিএ-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজের বরাত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল পেত। মোদী সরকার তা অনিল অম্বানীকে পাইয়ে দিয়েছে। অনিল মোদীর সফরে সিইও ফোরামের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন। 

• মোদী সরকারের যুক্তি, কোনও বরাত কাউকে পাইয়ে দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে বরাতটা যে অনিল অম্বানীর রিলায়্যান্স সংস্থা পাবে, তাতে বিশেষ সংশয় নেই। কারণ দাসো ও রিলায়্যান্সের যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ‘দাসো রিলায়্যান্স অ্যাভিয়েশন লিমিটেড’ তৈরি হয়েছে। 

যে সব প্রশ্নের উত্তর নেই

• বাস্তবে রাফাল যুদ্ধবিমান কত দামে কেনা হচ্ছে?

• বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, রাষ্ট্রনেতাদের সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয় না। তবে যৌথ বিবৃতিতে রাফাল-চুক্তি ঘোষণা কেন?

• চুক্তি যখন নতুন করেই হল, তখন জার্মানির ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো যুদ্ধবিমান আরও সস্তায় কেনার চেষ্টা হল না কেন?

একবার নয়, দু’-দু’বার অনিল অম্বানীর নোটিস পেয়েছেন গুজরাত কংগ্রেসের  নেতা শক্তিসিন গাহিল। আজ দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন, ‘‘আসলে মোদী নিজে ভয় পান, তাই অন্যকে ভয় পাওয়ান। আমরা এই আইনি নোটিসে ভয় পাই না। জেলে যেতে হলে যাব। রাফাল মোদীর সবথেকে বড় দুর্নীতি। আমার বিরুদ্ধে ৫ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করার কথা বলা হয়েছে। নিজের এত দাম জেনে বেশ ভাল লাগছে!’’

গত সপ্তাহেই অনিল অম্বানী রাফাল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাহুল গাঁধীকে চিঠি লেখেন। কিন্তু উল্টে রাহুল দলের সব রাজ্যের নেতাকে দিল্লিতে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশজুড়ে রাফালের দুর্নীতি নিয়ে প্রচার করতে হবে। সেই বৈঠকেই মহারাষ্ট্রের নেতা অশোক চহ্বাণ রাহুলকে বলেছিলেন, রাফাল নিয়ে আইনি নোটিস এসেছে। রাহুল মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘‘স্বাগত। আদালতে যেতে হলে যান।’’

সুনীল জাখর, শক্তিসিন গাহিল, অশোক চহ্বাণ ছাড়াও আজ জয়পাল রেড্ডি, প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী, জয়বীর শেরগিল, পবন খেরা, অর্জুন মোধওয়াড়িয়া, ত্রিপুরার প্রদ্যোৎ দেব বর্মণ, প্রণব ঝা-র মতো নেতা নোটিস পেয়েছেন বলে কংগ্রেস জানিয়েছে। এঁদের অনেকেই রাফাল নিয়ে রাহুল গাঁধীর তৈরি কংগ্রেস টাস্কফোর্সের সদস্য।

জয়বীর শেরগিল একটি ভিডিও তৈরি করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মোদীকে। তিনি বলেন, ‘‘নোটিস পাঠিয়ে বিজেপি প্রমাণ করল, রাফালে দুর্নীতি রয়েছে। বিজেপি ও তাঁর শিল্পপতি বন্ধু আরও উকিল তৈরি রাখুন। করদাতাদের টাকা নয়ছয় হলে গণতন্ত্রে প্রশ্ন করবেই কংগ্রেস। নোটিসে ভয় পাই না।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন