মুলায়ম ও অখিলেশের মধ্যে দ্বৈরথ থামিয়ে সন্ধির পথে হাঁটার প্রস্তাব দিলেন পরিবারের আর এক  সদস্য রামগোপাল যাদব।

প্রথমে পিতা-পুত্রের এই দ্বন্দ্ব লোকদেখানো বলেই মনে করেছিল রাজনৈতিক শিবির। কিন্তু তিক্ততা বাড়তে বাড়তে গত কাল চরমে পৌঁছয়। মতের মিল না হলে প্রয়োজনে ভিন্ন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেন অখিলেশ। ৫ নভেম্বর মুলায়ম সিংহের নেতৃত্বে সমাজবাদী নেতৃত্ব দল প্রতিষ্ঠার রজতজয়ন্তী বছর পালন করতে চলেছে। লখনউয়ে সে দিনের অনুষ্ঠানে তিনি থাকতে পারবেন না বলে মুলায়মকে জানান অখিলেশ। চিঠি দিয়ে অখিলেশ জানান, নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ৩ নভেম্বর থেকেই তিনি ‘বিকাশ রথ যাত্রা’ শুরু করবেন। ঘুরবেন গোটা রাজ্য। অখিলেশের বক্তব্যে স্পষ্ট, দরকাের ভিন্ন পথে চলতেও তিনি দ্বিধা করবেন না।

তার পরেই আজ পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নেমেছেন মুলায়মের ভাই ও দলের বর্ষীয়ান নেতা রামগোপাল যাদব। মুলায়মের ভাইদের মধ্যে দু’জন  রামগোপাল ও শিবপাল— সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জড়িয়ে। শিবপালের সঙ্গে অখিলেশের সংঘাত হলেও ভাইপোর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত রামগোপাল। সকালেই রামগোপাল দেখা করেন মুলায়মের সঙ্গে। তাঁকে জানান, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। দল ভেঙে গেলে ভোটের আগে তা হবে আত্মহত্যার সামিল। ঘর বাঁচাতে মুলায়মের কাছে তিন দফা প্রস্তাব রাখেন তিনি।

কী সেই প্রস্তাব? পার্টি সূত্রের খবর, রামগোপালের প্রথম প্রস্তাব হল, দলে অমর সিংহ ও শিবপাল যাদবের প্রভাব খর্ব করা। তাঁর যুক্তি, অমর সিংহের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দলের নেতাদের অনেকেই তাঁকে অপছন্দ করেন। মুলায়মের জন্যই তাঁকে মেনে নিতে হয়। দলের একাংশ অমরকে বিজেপির চর মনে করে। অমরের সঙ্গে শিবপালের ডানা ছাঁটারও সুপারিশ করেছেন রামগোপাল।

দ্বিতীয়ত, ভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি অখিলেশের হাতে ছাড়ার পরামর্শও দিয়েছেন রামগোপাল। যদিও টিকিট বণ্টনের লড়াই থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ শিবপাল-অমর সিংহেরা। আপাতত টিকিট দেওয়ার মূল দায়িত্ব শিবপালের হাতে। অখিলেশ শিবিরের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দিতে চান শিবপাল।

তৃতীয়ত, জিতলে অখিলেশই ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন— এই ঘোষণা করা হোক। সপ্তাহখানেক আগে মুলায়ম জানিয়েছিলেন, জিতলে বিধায়করাই ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন।

ভাইয়ের পরামর্শ শুনেছেন মুলায়ম। শিবপালের উপর যিনি বেশি ভরসা রাখেন, সেই মুলায়ম কি মানবেন রামগোপালের পরামর্শ— এখন সেটাই দেখার। আগামিকাল দলের জেলা সভাপতিদের নিয়ে লখনউয়ে বৈঠকে বসছেন শিবপাল। সূত্রের খবর, অখিলেশ ঘনিষ্ঠরা বৈঠকে না থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরের দিন উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। সেখানে শিবপাল ছাড়াও মুলায়ম ও রামগোপালের থাকার কথা। অখিলেশ থাকবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এই মতভেদের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছেন মুলায়ম। ২৪ নভেম্বরের সেই বৈঠকের পরে জল কোথায় গড়ায়, সেটাই দেখার।