চমকে দিল আরকে নগর। হিসেবেই ছিলেন না যিনি, ভোট গণনা শুরু হতেই ক্রমশ এগতে শুরু করলেন সেই টি টি ভি দিনকরণ। দিনের শেষে জানা গেল, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রবীণ এআইএডিএমকে নেতা ই মধুসূদননকে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শশিকলা নটরাজনের ভাইপো।

জয়ললিতার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে মূল লড়াই জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে আর বিরোধী দল ডিএমকে-র মধ্যে। ধরে নিয়েছিল গোটা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক শিবির। এআইএডিএমকে দল এবং তার জোড়াপাতা প্রতীকের দখল নেওয়ার জন্য পলানীস্বামী-পনীরসেলভমদের বিরুদ্ধে প্রবল যুদ্ধ চালিয়েছিলেন দিনকরণ। কিন্তু সে লড়াইয়ে তাঁর হারই হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, পলানী-পনীররাই জয়ার দল ও প্রতীকের আসল হকদার। তবু লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে রাজি হননি জয়ার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী তথা বান্ধবী শশিকলা নটরাজনের ভাইপো দিনকরণ। জয়ার আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়তে নামেন তিনি। এআইএডিএমকে-র ব্যানার এবং জোড়াপাতা প্রতীক তাঁর সঙ্গে না থাকায়, হালে পানি পাবেন না দিনকরণ— মনে করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রবীণ এআইএডিএমকে নেতা ই মধুসূদনন এবং ডিএমকে প্রার্থী এন মারুতু গণেশের মধ্যেই লড়াই হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকালে গণনা শুরু হতেই দেখা গেল ‘জোড়াপাতা’ বা ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে ছাপ সে ভাবে পড়েনি। আরকে নগরের মানুষ দেদার ছাপ দিয়েছেন নির্দল প্রার্থী দিনকরণের ‘প্রেশার কুকার’ চিহ্নে।

দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনার শেষেই এআইএডিএমকে-র মধুসূদনন এবং ডিএমকে-র গণেশকে অনেকটা পিছনে ফেলে দেন দিনকরণ। ওই রাউন্ডের শেষে দিনকরণের ঝুলিতে ছিল সাড়ে ১০ হাজারের বেশি ভোট। মধুসূদনন তখন ৪৫০০-র আশেপাশে। অর্থাৎ হাজার ছয়েক ভোটে এগিয়ে গিয়েছিলেন দিনকরণ। আর তৃতীয় স্থানে থাকা গণেশের ভোট তখন ছিল ২৩০০।

নির্দল প্রার্থী দিনকরণ এমন চমক দিয়ে দেবেন, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও তা আগে আঁচ করতে পারেননি। ছবি: পিটিআই।

তৃতীয় রাউন্ড শেষে আরও বেড়ে যায় ব্যবধান। ৮০০০ ভোটে এগিয়ে যান নির্দল প্রার্থী দিকরণ। সেই ধারাই মোটামুটি বজায় থেকেছে পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে। নবম রাউন্ডের শেষে ২২ হাজার ৩৩৬ ভোটে এগিয়ে গিয়েছে যান শশিকলার ভাইপো। তখনই প্রায় নিশ্চিত ভাবে বোঝা যাচ্ছিল যে, এডিএমকে এবং ডিএমকে প্রার্থীদের পক্ষে জয়ে ফেরা মুশকিল।

গণনার শেষে দেখা গিয়েছে, নির্দল প্রার্থী টি টি ভি দিনকরণ পেয়েছেন ৮৯ হাজারেরও বেশি ভোট। মধুসূদননকে তিনি ৪০ হাজার ৭০৭ ভোটে পরাজিত করেছেন। মধুসূদনন পেয়েছেন ৪৮ হাজারের কিছু বেশি ভোট। আর ২৪ হাজারের সামান্য বেশি ভোট পেয়ে বহু পিছনে দৌড় শেষ করেছেন ডিএমকে-র মারুতু গণেশ।

আরও পড়ুন: সবংয়ে বিপুল ভোটে জয়ী তৃণমূল, দু’য়ে সিপিএম, ভোট বাড়ল বিজেপির

ভোট গণনা যত এগিয়েছে, দিনকরণের বাড়ির সামনে সমর্থকদের উল্লাস ততই বেড়েছে এ দিন। ঠিক বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে চেন্নাইতে মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভমের বাসভবনের সামনে। দিনভর সুনসান এআইএডিএমকে সদর দফতর চত্বরও।

এআইএডিএমকে প্রতিষ্ঠাতা এম জি রামচন্দ্রনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পলানী এবং পনীর এমজিআর স্মারকে গিয়ে এ দিন সকালেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু তার পর থেকে নিজেদের মূলত গৃহবন্দিই রেখেছেন জয়ার দলের দুই শীর্ষ নেতা।

আরও পড়ুন: বছর শেষে ফের জেলযাত্রা দোষী লালুপ্রসাদের

উচ্ছ্বসিত দিনকরণ বলেছেন, ‘‘আরকে নগর উপনির্বাচনের মাধ্যমেই নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মানুষ। বিশ্বাসঘাতক এআইএডিএমকে সরকারকে তাঁরা শিক্ষা দিয়েছেন।’’

জয়ললিতার আসল উত্তরসূরি যে তিনিই, এই উপনির্বাচনের ফলাফলে তা-ও প্রমাণ হয়ে গেল। দাবি দিনকরণের। তিনি বলেছেন, ‘‘দল এবং প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ নয়। কর্মী-সমর্থকরা কার সঙ্গে রয়েছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’’ পলানী-পনীরের সরকার আর টিকবে না বলেও দিনকরণের দাবি। তামিলনাড়ুর জনতা কার দিকে, আরকে নগরের রায় তা বুঝিয়ে দিল বলে মনে করছেন তিনি। তিন মাসের মধ্যে এআইএডিএমকে সরকারের পতন ঘটবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।