মার্কিন ডলারের সঙ্গে দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়ল টাকা। গড়ে ফেলল পিছিয়ে পড়ার নতুন সর্বকালীন রেকর্ড। ফলে পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হয়েই বিদেশি মুদ্রা বাজারে (ফরেক্স মার্কেট) কোমর বেঁধে নেমে পড়তে হল রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে।

নামতে নামতে মঙ্গলবার ভারতীয় মুদ্রার দাম যেখানে পৌঁছল, তাতে এখন এক ডলার কিনতে গেলে খরচ করতে হবে ৭১ টাকা ৮০ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি-সহ কয়েকটি ভূরাজনৈতিক (জ্যপলিটিক্যাল) কারণ এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতি সামলাতে দেশের বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় থেকে ডলার বেচার পথে এগোচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাতে রিটার্ন অনেক কম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের জোগান বাড়ানো যাচ্ছে। ফলে, টাকার তুলনায় ডলারের দামের উর্দ্ধগতিতে কিছুটা হলেও রাশ টানা যাবে বলে ধারণা দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

আরও পড়ুন- পড়ছে টাকা, প্রশ্নের মুখে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক​

আরও পড়ুন- নোট সঙ্কটেই উপচে পড়া কয়েন বাজারে​

মাসদু’য়েক আগে দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ছিল, মার্কিন ডলারের সঙ্গে টক্করে এই পর্যায়ে ভারতীয় মুদ্রার দাম পৌঁছবে ৭২ টাকায়। এ দিন মার্কিন মুদ্রার সঙ্গে দরদামের দাঁড়িপাল্লায় পিছিয়ে পড়ে তার খুব কাছাকাছিই চলে গেল টাকার দাম। বিশেষজ্ঞদের এখন আশঙ্কা, ডলারের সঙ্গে টক্করে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে ভারতীয় মুদ্রার দাম। এক ডলারের দাম হতে পারে ৭৫ টাকা।

আন্তর্ব্যাঙ্ক বিদেশি মুদ্রা (ইন্টারব্যাঙ্ক ফরেন এক্সচেঞ্জ) লেনদেনের বাজার খুলতেই এ দিন মার্কিন ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম চলে যায় ৭১ টাকা ২৪ পয়সায়। এর আগে লেনদেনের বাজার বন্ধ হওয়ার সময় যে দাম ছিল ৭১ টাকা ২১ পয়সা। তার পর ফের ‘অমঙ্গল’-এর খবর এল মঙ্গলে। দিনভর পড়েছে টাকার দাম। বাজার বন্ধ হওয়ার সময় তা পৌঁছয় ৭১ টাকা ৫৪ পয়সায়।

হালে ডলারের সাপেক্ষে এশিয়ায় সব থেকে দ্রুত দর পড়েছে ভারতীয় মুদ্রারই। ফলে খরচের বহর বেড়ে চলেছে আমদানিকারীদের।

এ দিন টাকার দাম পড়ার প্রধান কারণ দু’টি। আরও কিছু চিনা পণ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বসানোর হুমকি দেওয়ায় মার্কিন-চিন বাণিজ্য যুদ্ধের আঁচ বাড়া। আর বিশ্ব বাজারে তেলের দামের মাথা তোলা। এ দিন উন্নত মানের ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলে ৭৮ ডলারে ঠেকেছে।

এই পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট মহল কিছুটা হতচকিত। কারণ দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রের আশ্বাস ছিল, ডলারের দাম ৬৮-৭০ টাকায় থিতু হবে। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা। অথচ টাকা আরও পড়ছে। বাড়ছে তেল। যা আশঙ্কা তৈরি করেছে লগ্নিকারীদের মধ্যে। কারণ আমদানি নির্ভর শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি আরও মাথা তোলার আশঙ্কা। দুশ্চিন্তা বাড়ছে ঘাটতি নিয়ে।