কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংসের সাফল্যই কি এ বার ভস্মাসুর হয়ে দাঁড়াবে? ভারতের সামনে কি বাধা হবে ভারতই?

আজ, সোমবার ২৮টি উপগ্রহ নিয়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র পিএসএলভি রকেট উৎক্ষেপণের আগে এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, গত বুধবার মাটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দেগে মহাকাশে নিজের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংসের সফল মহড়া চালিয়েছে ভারত। সেই উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ মাটি থেকে ৩০০ কিলোমিটার উঁচু কক্ষপথে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেই ধ্বংসাবশেষ ইসরো-র পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্‌ল (পিএসএলভি) রকেটের সামনে বাধা হবে কি, উঠছে প্রশ্ন। 

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২৮টি বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহকে পিঠে চাপিয়ে আজ রওনা দেবে একটি পিএসএলভি রকেট। তিনটি পৃথক কক্ষপথে সেই উপগ্রহগুলিকে স্থাপন করবে সে। এমন ধরনের উৎক্ষেপণ এই প্রথম করছে ইসরো। ওই ধ্বংসাবশেষ সেই সব উপগ্রহের পথে ছড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

যদিও নীতি আয়োগের সদস্য এবং ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র প্রাক্তন প্রধান ভিকে সারস্বত একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তত্ত্বগত ভাবে এটা ঠিক যে, ওই ধ্বাংসাবশেষ বিপজ্জনক। তবে মাথায় রাখতে হবে, মহাকাশে এমন অনেক ধ্বংসাবশেষ বা বাতিল উপগ্রহই ভেসে বেড়াচ্ছে। 

ইসরো সূত্রের খবর, ভারত তার উপগ্রহ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগেই তারা এই ধরনের ধ্বংসাবশেষের উপরে নজরদারির কথা ভেবেছিল। মহাকাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের উপরে নজরদারি চালাতে শ্রীহরিকোটায় বিশেষ একটি রেডার সিস্টেমও বসানো হয়েছে। 

শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ হবে আজ সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে। সেটা মাথায় রেখেই রবিবার সকাল ৬টা ২৭ মিনিট থেকে ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইসরো-কর্তাদের মতে, পিএসএলভি রকেট তাদের নির্ভরযোগ্য যান। ১৯৯৩ সাল থেকে এ-পর্যন্ত দু’বার এই রকেট ব্যর্থ হয়েছে। তবে তার মুকুটে রয়েছে প্রথম চন্দ্রাভিযান (চন্দ্রযান-১) ও মঙ্গলযান প্রকল্পের সাফল্য। ওই দু’টি যানকেই নিরাপদে মহাকাশের যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল পিএসএলভি।