বিতর্কের চাপে শেষপর্যন্ত পিছু হঠতে হল জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে। সোমবার নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেন, ‘‘রাগের বশে ওই মন্তব্য করে ফেলেছি।’’ তবে রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন ওমর আবদুল্লা। তাঁকে পাল্টা ‘নাবালক’ বলে আক্রমণ করে নতুন করে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন সত্যপাল।

রবিবারের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠতেই সোমবার সুর নরম করেছেন সত্যপাল। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপাল হিসেবে আমার এই মন্তব্য করা উচিত হয়নি। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও বড় আমলাই দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছেন। তা দেখে ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই আমি এই মন্তব্য করেছি।’’

রবিবার, কার্গিলে একটি অনুষ্ঠানে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল বলেন, ‘‘যে সব যুবক বন্দুক হাতে তুলে নিয়েছে তারা আপনজনকেই খুন করছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা স্পেশাল পুলিশ অফিসারেরা খুন হচ্ছেন। যাঁরা কাশ্মীরের সব সম্পদ লুট করেছেন তাঁদের খুন করা উচিত।’’

আরও পড়ুন: র‌্যাঙ্কে রদবদল থেকে নতুন পদ তৈরি, সেনার দক্ষতা বাড়াতে ঢেলে সাজছে সদর দফতরগুলি​

সরাসরি কারও নাম না করলেও কাদের দিকে রাজ্যপাল ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট। সত্যপালের এই মন্তব্যের পরপরই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। টুইটে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। জঙ্গিদের ‘পরামর্শ’ বিতর্কে পিছু হাঁটলেও, একেবারে মধুরেণ সমাপয়েত হয়নি। এ দিন ওমরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সত্যপাল। তিনি বলেন, ‘‘ ওমর রাজনৈতিক ভাবে নাবালক। সবকিছুতেই টুইট করে। ওর টুইটের প্রতিক্রিয়াগুলি দেখুন তাহলেই বুঝতে পারবেন। আর আমার মর্যাদা কতটা তারও পরিচয় পাবেন। সাধারণ মানুষকে ওঁর আর আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন।’’ এর পরেই, নাটকীয় ঢংয়ে তাঁর ঘোষণা, ‘‘কারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তা এই রাজ্য ছাড়ার আগে প্রমাণও করে যাব।’’

এর আগে, রবিবার রাজ্যপালের বিতর্কিত মন্তব্যের পর, সত্যপালকে লক্ষ্য করেই ওমর আবদুল্লা টুইট করেন ‘‘এই ব্যক্তি দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। কিন্তু তিনিই জঙ্গিদের বলছেন যে সব নেতাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে হয় তাঁদের খুন করতে। দিল্লিতে এখন নিজের ভাবমূর্তি কী তা আগে ওঁর জানা উচিত। তার পরে না হয় অবৈধ হত্যার অনুমতি দেবেন।’’ আর এতেই বেজায় খাপ্পা সত্যপাল।

আরও পড়ুন: গাঁধী পরিবারের বাইরের কেউ সভাপতি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেস ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে, মন্তব্য নটবরের​