চার জন বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আপত্তি মানতে রাজি হল না শীর্ষ আদালতের কলেজিয়াম। ফলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু, বিচারপতি এ এস বোপান্না, বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি সূর্য কান্তের শীর্ষ আদালতের বিচারপতি পদে নিয়োগে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্র। এই চার বিচারপতি নিযুক্ত হলে আপাতত শীর্ষ আদালতে বিচারপতির কোনও পদ শূন্য থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টে এখন বিচারপতির পদ ৩১টি। বর্তমানে কাজ করছেন ২৭ জন বিচারপতি।

১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের জন্য ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এ এস বোপান্নার নাম সুপারিশ করে কলেজিয়াম। এই দুই বিচারপতির নাম নিয়ে আপত্তি জানায় কেন্দ্র। তাদের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দুই বিচারপতির চেয়েও সিনিয়র বিচারপতিরা রয়েছেন। পরে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি বি আর গাভাই ও হিমাচলপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নামও সুপারিশ করে কলেজিয়াম। বিচারপতি বসু ও বিচারপতি বোপান্নার নাম নিয়ে আপত্তি অগ্রাহ্য করে কলেজিয়াম জানায়, ‘‘সুপারিশ করার সময়ে এই বিচারপতিদের সততা ও কর্মদক্ষতা ছাড়াও সারা দেশে বিচারপতিদের সিনিয়রিটি এবং সুপ্রিম কোর্টে সব হাইকোর্টের প্রতিনিধিত্বের কথাও মাথায় রাখা হয়েছে।’’ নিয়োগের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের আপত্তি কলেজিয়াম অগ্রাহ্য করে সুপারিশ করা নাম ফেরত পাঠালে তা সরকারকে মানতে হবে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আগেও বিচারপতি বসুকে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল কলেজিয়াম। তখনও তাঁর নামে আপত্তি জানিয়েছিল কেন্দ্র। তার পরে তাঁকে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ করা হয়। ১৯৮৫ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন বিচারপতি বসু। ২০০৪ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হন। ২০১৮ সালের ১১ অগস্ট নিযুক্ত হন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে। সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত হলে ২০২৫ সালে প্রধান বিচারপতি হওয়ার কথা বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের। সে ক্ষেত্রে বিচারপতি কে জি বালকৃষ্ণনের পরে এই প্রথম দলিত সম্প্রদায়ের কোনও সদস্য প্রধান বিচারপতি হবেন।