দিল্লিতে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মধ্যে জোট নিয়ে জটিলতা জারি রইল আজও। গত কাল আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল অভিযোগ করেছিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার কথা বলে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আজ জবাবে দিল্লির প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শীলা দীক্ষিত অভিযোগ করেন, ‘‘কংগ্রেসের কারও সঙ্গে জোট নিয়ে কথা বলেননি কেজরীবাল। জোট চাইলে কেজরীবালকে সরাসরি আমার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।’’

দিল্লির সাতটি লোকসভা আসনেই গত বার জিতেছিল বিজেপি। এ বার শুরু থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে জোট প্রার্থী দিতে ইচ্ছুক অরবিন্দ কেজরীবাল। তাঁর দাবি, জোট হলে সাতটি আসনেই হারবে বিজেপি। কংগ্রেস প্রথমে রাজি হলেও পরে তারা জোটের প্রশ্নে পিছিয়ে আসে। সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে শরদ পওয়ারের দিল্লির বাড়িতে বিরোধী নেতাদের যে বৈঠক হয়, সেখানে রাহুল গাঁধীর পক্ষ থেকে কেজরীবালদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে, দিল্লির কংগ্রেস শাখা আপের সঙ্গে জোট করার পক্ষপাতী নয়। সেই সূত্র ধরে গত কাল দিল্লির চাঁদনি চকের একটি জনসভায় কেজরীবাল বলেন, ‘‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে কথা বলে আমি ক্লান্ত। কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে জোটে যেতে চায় না।’’ কেজরীবালের অভিযোগ, কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে এসপি-বিএসপিকে এবং দিল্লিতে আপ-কে দুর্বল করতে চাইছে। কংগ্রসকে কার্যত ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দিয়ে কেজরীবাল আরও বলেন, ‘‘কংগ্রেস যদি দিল্লিতে জেতার প্রশ্নে নিশ্চিত হয়, তা হলে আপ একটি আসনেও লড়বে না।’’ 

আজ কেজরীবালের তোলা অভিযোগের জবাব দিতে মুখ খোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত। তাঁর দাবি, ‘‘কেজরীবাল কংগ্রেসের কার সঙ্গে কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করুন। রাহুল গাঁধীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা জানান। যদি আপ-কে দিল্লিতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতেই হয়, তা হলে কেজরীবাল সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলুন। এ ভাবে ঘুরিয়ে পিছন থেকে বক্তব্য রাখার কোনও দরকার নেই।’’ শীলার বক্তব্যের প্রশ্নে অবশ্য নিরুত্তর আপ শিবির। তবে আপের বিক্ষুব্ধ নেতা কুমার বিশ্বাসের ব্যাখ্যা, ‘‘দিল্লিতে আপের জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিন শিবিরের লড়াই হলে আপ প্রার্থীরা তিন নম্বরে থাকবেন। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে কোনও ভাবে লড়াইয়ে থাকার চেষ্টা করছেন কেজরীবাল। জিতলে লাভ। আর হেরে গেলে পরাজয়ের যাবতীয় দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপাতে সুবিধে হবে কেজরীবালের।’’