উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যুবকদের একমঞ্চে আনার উদ্যোগ নিল বরাকের তিন সংগঠন। মণিপুরি ইয়ুথস ফ্রন্ট অব আসাম, ইয়ুথস ফোরাম ফর প্রোটেকশন অব হিউম্যান রাইটস এবং নর্থ-ইস্ট ডায়লগ ফোরাম।

সংগঠনগুলির দাবি, দেশের অন্য অংশের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে। দিল্লি-সহ অন্যত্র উত্তর-পূর্বের যুবাদের উপর সংঘটিত হামলা-হয়রানি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় তিন দিনের অধিবেশনে। সিদ্ধান্ত হয়, এ সব ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন (ডোনার) মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ এবং উত্তর-পূর্বের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। আগামী কালই সবাইকে স্মারকপত্র পাঠানো হবে।

আয়োজক তিন সংস্থা ছাড়াও অল ত্রিপুরা ট্রাইবাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, অল মণিপুরি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আসাম, বড়োল্যান্ডের নর্থ-ইস্টার্ন সোশ্যাল সার্ভিস, কার্বি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, কেএসভিসি-র প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নেয়। ছিলেন স্থানীয় সংগঠন ইয়ুথ এগেনস্ট সোশ্যাল ইভিলস, অল বরাক ইয়ুথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

তিন দিনের আলোচনায় উঠে আসে, উত্তর-পূর্বে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের জায়গা মোটেও কম নয়। উপজাতি-অনুপজাতি দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। রয়েছে ইনার লাইন পারমিটের পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো অভিমত। উপজাতি জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যেও একে অপরকে সহ্য করতে পারে না। হিংসা-হানাহানি কিছু দিন পর পর মারাত্মক চেহারা নেয়। রয়েছে জঙ্গি সমস্যা, অনুপ্রবেশের মতো নানা বিভাজনকামী উপাদান। সে-সবেরই সুবিধা নেয় অন্যান্য অঞ্চলের একাংশ মানুষ। দিল্লি-মুম্বইয়ে কে কোন জনগোষ্ঠীর, তা আর দেখে না কেউ। তাদের কাছে একটিই পরিচয়— উত্তর-পূর্বের মানুষ। নিজের দেশেই যেখানে-সেখানে হেনস্থার শিকার হতে হয় এই অঞ্চলের মানুষদের। পারস্পরিক বিভাজনের দরুণ তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সে জন্য সবাই একতাবদ্ধ হওয়ার উপর জোর দেন।

২০২০ সালের মধ্যে লক্ষ্যপূরণে একটি ‘রোডম্যাপ’ও তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়ুথস ফোরাম ফর প্রোটেকশন অব হিউম্যান রাইটস প্রধান ইউ জেনিসন। তাতে  শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যুবকদের বেশি করে সংগঠিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বলা হয়েছে, দূর করতে হবে লিঙ্গ বৈষম্য। ছড়িয়ে দিতে হবে উপযুক্ত শিক্ষার বার্তা। যুবসমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নতিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিবেশনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের নামে আদি বাসিন্দাদের উৎখাত করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। জমি অধিগ্রহণের জন্য সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট ও এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট যথাযথ হওয়া চাই। গণশুনানির সময় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতকে উপযুক্ত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশির নামে আদি বাসিন্দাদের হয়রানি করা চলবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।

আজ অধিবেশনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে গুরুচরণ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওক্রাম চূড়ামণি সিংহকে মণিপুরি সমাজসেবীদের জনক বলে অভিহিত করে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে চূড়ামণিবাবুও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির উপর চাপ সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপর জোর দেন।

মণিপুরি ইয়ুথস ফ্রন্ট অব আসাম (মাইফা)-এর সভাপতি সেরাম হেরাজিত সিংহ ও সম্পাদক এফ লোকনাথ জানান, উত্তর-পূর্বের যুব সংগঠনগুলিকে একমঞ্চে আনার এটিই প্রথম উদ্যোগ। এখন তারা এই অঞ্চলের অন্যান্য সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কথা বলবেন। ২০১৮ সালে গুয়াহাটিতে হবে পরবর্তী অধিবেশন। তাঁদের আশা, সবাইকে একমঞ্চে আনা হলে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন ঠেকানোর সাধ্য নেই কারও। একই ভাবে তাঁদের আর যেখানে-সেখানে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হবে না। সঞ্জীব রায়, কৃষ্ণেন্দু ভট্টাচার্যও সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।