কচি পাঁঠা ফেলে যাঁরা গাছপাঁঠার আদর করেন, প্রথমেই বলে নিই আমি তাঁদের দলে নেই। যদিও সেই সব নিরামিষহারীর সঙ্গে কোনও তর্কে যেতে চাই না, তবু একজন পিওর নন-ভেজ হিসেবে আরও অনেকের মতো আমারও যা মনে হয়, সেটা মনে মনে বলি: ওঁরা কী হারাইতেছেন তা ওঁরা জানেন না। এই যে আমাদের বাঙালির মেনুতে শুক্তো-ছোলার ডাল থেকে শুরু করে মাছ-মাংস হয়ে দই-মিষ্টির যে সর্বগ্রাসী কালমিনেশন, ভেজ-ননভেজের যে পোয়েটিক ব্যালান্স—এ যে না খেল, সে আর কী খেল? হ্যাঁ, তা বলে কি জীবনে এঁচোড়ের কোপ্তা থাকবে না, নাকি পটলের দোলমা মেনু থেকে বাদ! নিরামিষ না থাকলে আমিষের মাহাত্ম্য বুঝবেন কী করে? আমার নির্ভেজাল ভেজ বন্ধুদের এই সহজ কথাটা কিছুতেই বোঝাতে পারলাম না, অন্ধকার আছে বলেই আলোর গুরুত্ব, কালো আছে বলেই সাদার জয়জয়কার। ঠিক তেমনই নিরামিষের উপস্থিতিতেই আমিষের সার্থকতা।

সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা কী জানেন! যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা নিরামিষও খান, কিন্তু যাঁরা নিরামিষাহারী তাঁরা কিন্তু পেঁয়াজ-রসুনসুলভ উদ্ভিদের গন্ধ পেলেই রামনাম জপ করেন। এহেন কমিউনালিজমের কী যুক্তি তাঁরাই জানেন।

মাংসের চপ যাঁরা খাননি, খেতেও চান না, মোচার চপেই যাঁদের উদরপূর্তি হয়, সেই সব নিরামিশাষীদের কাছে বিনীত অনুরোধ, গন্ধরাজ ভেটকি ভক্ষণ করে আপনাদের এই রেকারিং সেমি-উপবাস ব্রত অবিলম্বে ভঙ্গ করুন। এটা অনেকটা সেই এক দেশে প্রথম জুতো বিক্রির মতো গল্প, যে দেশে কেউ জুতো আবিষ্কারের কথা জানতই না।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে যাঁরা আজ ভেজভোজে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের আমি অবশ্য শ্রদ্ধাই করি, অ্যাট লিস্ট দে হ্যাভ টেস্টেড দ্য টেস্ট অব পয়জন! পাপ না করে পুণ্য করা যায় না। আমিষের যত পাপ, নিরামিষে নির্বিষ—এই ফিলজফির হোতাদের তাও ফিরিয়ে আনা যায়, কিন্তু ভেজভূগোলের নিরামিষ জমিতে যাঁরা পয়েন্ট অব নো রিটার্ন মোডে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের ফেরায় কার সাধ্য!