Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

অপরাজিতা রাধারাণী

১৮ মে ২০১৯ ০০:০১

২৪ নভেম্বর, ১৯২৯। সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠান ‘রবিবাসর’ ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সেখানেই একদিন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জলধর সেন, নরেন্দ্র দেব-সহ আরও অনেকে আড্ডায় মশগুল।

আচমকা জলধরবাবু বললেন, ‘রাধাকে এ বার আমাদের সদস্য করে নিতে হবে।’ তীব্র আপত্তি জানালেন শরৎচন্দ্র। তাঁর দাবি, এই আসরে মহিলা সদস্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তা না হলে ‘পুরুষ’ সাহিত্যিকদের ‘জিভে লাগাম’ পরাতে হবে।

শরৎচন্দ্রের এ কথা শুনে ফোঁস করে উঠলেন ‘রাধা’ও। বললেন, ‘সাহিত্য সংস্থায় পুরুষ এবং মেয়ের যোগ দেবার অধিকার সমান।’ রাধা অর্থাৎ রাধারাণী দেবী। আড্ডা মোড় নিল তর্কে। শেষমেশ শরৎবাবুরই প্রস্তাব মতো ঠিক হল, ‘কবি’ যা বলবেন, সেই মতো সিদ্ধান্ত হবে।

Advertisement

এই ঘটনার প্রায় এক মাস বাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন জোড়াসাঁকোয় রয়েছেন। সেখানেই একদিন রাধারাণী পৌঁছলেন। দেখলেন, কবির ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন শরৎচন্দ্র। শরৎবাবুও দেখলেন রাধারাণীকে। ফের ঢুকলেন কবির ঘরে। খানিক বাদে বেরিয়ে এলেন একরাশ হাসি নিয়ে।

একটু পরে রবীন্দ্রনাথ জানালেন তাঁর সিদ্ধান্ত, ‘না বাপু, আমিও শরতের সঙ্গে একমত। তোমরা ছেলেদের একটুও জিরোতে দেবে না, সব জায়গায় পাহারা দিয়ে হাজির থাকবে, এ হয় না।’ তখনকার মতো কবির সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন রাধারাণীও। কিন্তু বোধহয় সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

এলও সুযোগটা। শরৎচন্দ্রের অশ্বিনী দত্ত রোডের বাড়িতে ‘রবিবাসর’-এর আড্ডা বসবে। সেখানে আসবেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। শরৎবাবু আয়োজনের যাবতীয় দায়িত্ব দিলেন প্রিয় ‘রাধু’ ও নরেন্দ্র দেবকে। আয়োজন সম্পূর্ণ। কবিও চলে এসেছেন। কিন্তু এক ফাঁকে বাড়ি চলে গেলেন রাধারাণী। তাঁকে নিতে শরৎবাবু গাড়ি পাঠালেন। রাধারাণী চালককে বললেন, ‘বলে দিও কালী, ‘রবিবাসরে’ মেয়েদের যেতে নেই।’

ওই রাতেই নরেন্দ্র দেবের সঙ্গে এক ঝুড়ি লুচি, পোলাও-সহ নানা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হলেন শরৎচন্দ্র। এ আসলে বোন রাধুর মান ভাঙাতে ‘বড়দা’ শরৎচন্দ্রের আসা। রাধারাণী খুবই লজ্জিত হলেন ঠিকই। কিন্তু তার পরেও লিখেছেন, ‘আমি ঐ সংস্থায় যোগ দিতে কখনও পারিনি।’

রাধারাণী এমনই। আত্মমর্যাদাবোধ, মাথা নত না করতে চাওয়ার জেদ, এই নিয়েই রাধারাণী। আর তাই তিনিই বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি যাপনের নিজস্ব ‘অপরাজিতা’। রাধারাণী এবং অপরাজিতা দেবী, একই ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এই দু’টি নামের মধ্যে ‘ওরফে’ শব্দটি যোগ করা যায় না। কারণ, একই ব্যক্তিত্ব হলেও রাধারাণী ও অপরাজিতা সম্পূর্ণ আলাদা দু’টি সত্তা।

তেরোয় বিয়ে, বৈধব্যও

এই সত্তার নির্মাণ কী ভাবে, তার সন্ধানের চেষ্টা করতে হলে রাধারাণীর জীবনের গোড়ার দিকে তাকাতে হয়। আশুতোষ ঘোষ ও নারায়ণী দেবীর দশম সন্তান এই মেয়ে। ৩০ নভেম্বর, ১৯০৩-এ জন্ম। মেয়ের রূপ দেখে ঠাকুমা কামিনীসুন্দরী বললেন, ‘এ যে স্বয়ং রাধা গো, রাধারাণী!’ পরেও রাধারাণীর রূপের সামনে নিশ্চিত ভাবেই ডাকসাইটে সুন্দরীদেরও গ্রহণ লাগবে! পেশায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আশুতোষবাবু কলকাতার পাট চুকিয়ে প্রথমে দিনহাটায়, পরে মাথাভাঙায় চলে যান। রাধারাণীর শৈশবস্মৃতি বেশির ভাগই খেলা করে এই এলাকায়।

শৈশব কেটেছে ভারী আনন্দে। আশুতোষবাবু বাড়ির সদস্যদের প্রত্যেককে এক একটি পত্রিকার গ্রাহক করে দিয়েছেন— ‘প্রবাসী’, ‘শিশু’, ‘মৌচাক’, ‘সন্দেশ’, ‘সোপান’, ‘ভারতবর্ষ’... আরও কত কী। সে সবের পাতা ওল্টানো তো রয়েইছে। বাড়ির ভাইবোনদের পত্রিকা ‘সুপথ’-এ দশ বছর বয়সে কবি রাধারাণী আত্মপ্রকাশ করলেন।

এমন শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে ঘরবসত। সেই বসতে প্রায়ই উঁকি দেয় বন্যা, হাতি, বাঘ আর ভল্লুক। এই পর্বের নানা গল্প এক বার শুনিয়েছেন স্বয়ং রাধারাণীই।

যেমন ‘বুড়ার ব্যাটা’র গল্প। রাতে সাপ যেমন ‘লতা’, তেমনই বাঘ হল ‘বুড়ার ব্যাটা’। একদিন কিশোরী রাধারাণী বাড়ির বৈঠকখানায় বসে পড়াশোনা করছেন। মাস্টারমশাই রয়েছেন। আচমকা বাইরে ক্যানেস্ত্রা পেটানোর শব্দ। সঙ্গে সমস্বর, ‘বুড়ার ব্যাটা বারাইসে’। এই শব্দবন্ধ বড্ড ‘থ্রিলিং’ রাধারাণীর কাছে। সেই থ্রিল আরও বাড়ে পড়ার ঘর থেকে মায়ের ঘরে যাওয়ার পথটুকুতে। চাপরাশিদের জ্বালানো কড়া লণ্ঠনের আলো, পরিচারকদের কাঁধে চেপে বাঘের কবল থেকে ফেরা, এর উত্তেজনাই যে আলাদা। আবার বাড়িতেই জোড়া বেলগাছে ‘ব্রহ্মদত্যির আস্তানা’, এমন ধারণাও তো কম উত্তেজনার নয়। আর বন্যা হলে কিশোরী রাধারাণীর প্রার্থনা, জল আরও একটু বাড়ুক। তা হলে আর স্কুল যেতে হবে না! রাধারাণীর স্কুলের নাম— ছবিরউন্নিসা বালিকা বিদ্যালয়। সেখান থেকেই মাইনর পর্যন্ত পাশ করেন তিনি। প্রকৃতির এত কাছাকাছি থাকার সূত্রেই হয়তো পরবর্তী সময়ে অর্কিড আর ছোট ছোট ক্যাকটাস বড় প্রিয় হয়ে ওঠে রাধারাণীর।

জল ছপছপ এই মেয়েবেলার মধ্যেই রাধারাণী একটু একটু করে যেন বড় হচ্ছিলেন। আর তাই বন্ধুরা ‘মেয়েমানুষ’ বললেই তিনি সটান বলেন, ‘খবরদার, মেয়েমানুষ বলবি না, বলবি মানুষ মেয়ে। আগে মানুষ। পরে মেয়ে।’



‘ভালো-বাসা’য় এখনও স্বাগত জানান দেব দম্পতি

তা এমন ‘মানুষ মেয়ে’কে ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও মায়ের কথায় বসতে হল বিয়ের পিঁড়িতে। বয়স মোটে ১৩ বছর। পাত্র ভবানীপুরের বাসিন্দা বছর ২৪-এর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। কর্মস্থল উত্তরপ্রদেশের রামপুর। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই আচমকা ‘এশিয়াটিক ফ্লু’তে মৃত্যু হল সত্যেন্দ্রনাথের। বিধবা হলেন রাধারাণী দত্ত।

বৈধব্য কী, সেটা বুঝতেই খানিকটা সময় লাগল রাধারাণীর। শাশুড়ি মা সুশীলাবালা দত্ত ঠিক করলেন, ফের বৌমার বিয়ে দেবেন। কিন্তু রাধারাণীর মা নারায়ণী সেকেলে মানুষ। কলকাতা থেকে বাপের বাড়ি মাথাভাঙায় ফিরতে হল রাধারাণীকে। পাতে পড়ল হবিষ্যান্ন। মাথা প্রায় ন্যাড়া করে দেওয়া হল। গায়ে উঠল থান। ঠারেঠোরে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হল— বৈধব্যযাপন কারে কয়!

কিছু দিন পরে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এলেও মা প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছেন, রঙিন শাড়ি আর আমিষ আহার চলবে না। সে কথা জেনে কষ্ট পেলেন শাশুড়ি সুশীলাবালা। কিন্তু হাল ছাড়লেন না তিনি। আদরের বৌমার গায়ে ফের উঠল ইঞ্চিপাড় কাপড়, হাতে দু’গাছি চুড়ি, গলায় কানে সোনা। রাধারাণীকে তিনি দিলেন বড় ছেলের সম্মান! সংসারের আয়ব্যয়ের যাবতীয় হিসেব রক্ষার দায়-দায়িত্ব বর্তাল তাঁর উপরে। বৌমার সাহিত্যচর্চা যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার জন্য বন্দোবস্ত হল টেবিল, চেয়ার, খাতাকলমের। মাঝে বাবা আশুতোষবাবুর সঙ্গে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায় বেড়াতে যাওয়া, তা-ও হয়েছে।

কিন্তু এত কিছুর পরেও কোথাও যেন রাধারাণী ‘শূন্যমনা কাঙালিনী মেয়ে’। ছোট বোন সুধীরা দেবীর সঙ্গে রাধারাণী বিয়ের আগে কত কথা, কত আলাপ করতেন। কিন্তু এই সময়ে প্রিয় রাঙাদি রাধারাণী যেন ‘দিনে দিনে শামুকের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিল...’, অভিজ্ঞতা সুধীরা দেবীর।

তবে রাধারাণীর প্রকাশ দেখা গেল সাহিত্যক্ষেত্রে। এ পর্যন্ত পাওয়া রাধারাণী দত্তের লেখালেখির মধ্যে প্রথম গল্প ‘বিমাতা’ প্রকাশিত হয় ‘মাসিক বসুমতী’তে, ১৯২৪ সালে। প্রথম প্রবন্ধ ‘পুরুষ’। প্রকাশিত হয় ‘কল্লোল’-এ। এর পাঁচ বছর বাদে প্রকাশিত হল প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাধারাণী দত্তর ‘লীলাকমল’।

এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের কিছু দিন পরে স্বর্ণকুমারী দেবীর সানি পার্কের বাড়িতে এক সান্ধ্য আড্ডায় ঘটনাটা ঘটল। রয়েছেন প্রমথ চৌধুরী, ইন্দিরা দেবীও। বেশ শীত তখন কলকাতায়। চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গেই আচমকা, তর্কের তুফান উঠল প্রমথবাবুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, ‘...আজ পর্যন্ত কোনও মেয়ের লেখায় তার স্বকীয়তার ছাপ ফুটে উঠলো না।’ মানতে পারলেন না রাধারাণী। বললেন, ‘শিল্পীর মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয় সত্তাই থাকে।’ সেই সঙ্গে মহৎ পুরুষ শিল্পীর লেখায় যেমন নারীর কথা জীবন্ত হয়ে ওঠে, তেমনই তার বিপরীত ঘটনা কেন ঘটবে না, প্রশ্ন তুললেন রাধারাণী। প্রমথবাবুও নাছোড়। শেষমেশ তাঁর মোদ্দা বক্তব্য দাঁড়াল, ‘মেয়েরা কেন এমন লেখা লিখবে না, যে-লেখায় লেখকের নাম না থাকলেও কারুর বুঝে নিতে ভুল হবে না এ লেখা মেয়ের। পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়, ঠিক এমনতর লেখবার।’

বক্তব্যটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিলেন রাধারাণী। এই সন্ধ্যার কিছু দিন বাদে শিলং পাহাড়ে হাওয়াবদলের জন্য গেলেন তিনি। পাইনের সারির মাঝে ধীরে ধীরে জন্ম নিলেন অপরাজিতা দেবী। ওই নামে ‘ভারতবর্ষ’য় দু’টি কবিতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্য-মহলে বিস্তর হুলস্থূল। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হল শ্রীমতী অপরাজিতা দেবীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বুকের বীণা’। অপরাজিতার নামধারী এই মহিলা আসলে কে, তা নিয়েই ধন্দ বাধল। এর প্রধান কারণ, অপরাজিতার নামে লেখা কবিতাগুলি রূপে, রসে, গন্ধে, প্রকৃতিতে আর পাঁচ জনের চেয়ে এক্কেবারে আলাদা। কারও সঙ্গে মেলানোই যায় না। রহস্য যাতে আরও দানা বাঁধে, সে জন্য অপরাজিতা দেবীর ‘পুরবাসিনী’ কাব্যগ্রন্থটির উৎসর্গ অংশে দেখা গেল, তা ‘রাধারাণী দেবী ও নরেন্দ্র দেবের করকমলে’ অর্পিত হয়েছে!

এমনকি অনেকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে বললেন, ‘এ কবি নিশ্চিত পুরুষ’। রাধারাণী গেলেন কবির কাছে, কবিরই ডাকে। রাধারাণী জানালেন, অপরাজিতা তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। কিন্তু তাঁর এখন আত্মপ্রকাশের জো নেই। আর প্রমথবাবু কবিতাগুলি সম্পর্কে বললেন, ‘এ’রচনা যারই লেখা হোক, পুরুষের হতে পারে না। এ মেয়ের লেখা নিঃসন্দেহ।’

অর্থাৎ মনে মনে নেওয়া ‘চ্যালেঞ্জ’টা প্রথম পর্বেই জিতে নিলেন রাধারাণী। ১৯৩৮-এ রাধারাণীর তৃতীয় ও শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বনবিহগী’ প্রকাশিত হয়। এর এক বছর আগে অপরাজিতা দেবীরও চতুর্থ ও শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বিচিত্ররূপিণী’ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও কাব্যানুবাদ, ‘গল্পের আলপনা’, ‘নীতি ও গল্প’র মতো ছোটদের গল্প সংগ্রহ, ‘অষ্টমী’, ‘রসচক্র’ উপন্যাসের কিছু অংশ, বেশ কিছু গ্রন্থের সম্পাদনা, একগুচ্ছ প্রবন্ধ-সহ বহুধাবিস্তৃত ছিল সাহিত্যিক রাধারাণীর কর্মকাণ্ড।

এমন এক কর্মকাণ্ডেই লীলা মজুমদার প্রথম দেখেন বৌদি রাধারাণীকে। সেই অভিজ্ঞতাটি, ‘‘প্রেসিডেন্সি কলেজে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা। ...‌চোখের সামনে ভাসে সেই একহারা মানুষটি। সাদা গরদের উপরে চাদর জড়ানো মুখ তুলে, নির্ভীক কণ্ঠে যা বললেন, তার সঙ্গে মামুলী বক্তাদের একঘেয়ে কথার কোনও সাদৃশ্য ছিল না।’’

সন্তানহারা মায়ের ভালো-বাসা

একঘেয়ে জীবনবোধকেই আসলে অস্বীকার করেছেন রাধারাণী। ‘পুরুষ’, ‘সতীত্ব মনুষ্যত্বের সঙ্কোচক না প্রসারক’, ‘নারীর ভালোবাসা’— রাধারাণীর কয়েকটি প্রবন্ধের নাম। শিরোনামগুলি দেখেই বোঝা যায়, উনিশ শতকের গন্ধ লাগা ছাঁচে ঢালা বাঙালি সমাজের একঘেয়েমি ধ্যানধারণা থেকেও বেরোতে চেয়েছিলেন রাধারাণী।

ঠিক এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী মৈত্রেয়ী দেবীও। ঘটনাস্থল, বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ দিকে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশন। সেখানেই একটি বিতর্কসভা আয়োজিত হয়। বিষয়— ‘ডিভোর্স উচিত কি না’। বিপক্ষে অনুরূপা দেবী। পক্ষে রাধারাণী। জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন রাধারাণী।

ব্যক্তিজীবনেও এমন একরোখা জীবনবোধের প্রমাণ বারবার রেখেছেন তিনি। কবিতার সূত্রে আগেই তাঁর আলাপ ছিল কবি নরেন্দ্র দেেবর সঙ্গে। ২৮ বছর বয়সে, ৩১ মে ১৯৩১-এ সেই নরেন্দ্রর সঙ্গেই বিয়ে হল রাধারাণীর। শুরু হল সুখী দাম্পত্য-জীবনের এক নতুন পর্ব। ঠিক তার পরের দিন একটি সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়, ‘রাধারাণী-নরেন্দ্র দেব বিবাহ: কন্যার আত্মসম্প্রদান’! এই ঘটনা ব্যাপক শোরগোল ফেলে বাঙালি সমাজের একাংশে। কিন্তু লিলুয়ার ‘দেবালয়’ বাড়িতে প্রমথ চৌধুরী, জলধর সেন, হেমেন্দ্রকুমার রায়, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী-সহ সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের দিকপালদের উপস্থিতিতে বিবাহপর্ব নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়।

তবে ফের বিয়ে করার আগে রাধারাণীও খানিক দোলাচলে ছিলেন। সে জন্য রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র ও প্রমথের কাছে এ বিষয়ে মতামত চান। প্রত্যেকেই এই বিয়েকে সাদরে স্বাগত জানান। রবীন্দ্রনাথ দ্বিধাহীন ভাবে লিখেছেন, এতে ‘জটিলতা কিছু নেই। মেলবার বাধা কোন পক্ষেই দেখচিনে।’

তবে বিবাহ-বাসরে দু’জনের অনুপস্থিতি ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করল দেব-দম্পতিকে। প্রথম জন, শরৎচন্দ্র। বিয়ের চিঠিবাহকের পারিবারিক দুর্যোগের কারণে তা পৌঁছল না শরৎচন্দ্রের কাছে। বিয়ের খবর তিনি জানলেন খবরের কাগজ থেকে। আর তার ফলও মিলল যথারীতি। আশীর্বাদ জানিয়ে চিঠি এল। কিন্তু চিঠির তলায় ‘বড়দা’র বদলে সই নিজ নামে!

যদিও এ অভিমান ভাঙাতে পেরেছিলেন দেব-দম্পতি। আর তাই রাধারাণীর সংসার গোছাতেও এগিয়ে এলেন বড়দা। রাধুর সংসারের জন্য কখনও রাসের মেলা থেকে ‘কয়েকটা টোকা, কয়েকটা চুবড়ি আর কুলো’ কিনে আনেন। কখনও আবার ‘দেবালয়’-এ হরদম বন্ধু, অতিথিদের আগমন দেখে নিজেই বরাত দিয়ে কর্পূর, এলাচ দেওয়া মোয়া নিয়ে আসেন বোনের জন্য। সঙ্গে পরামর্শ, ‘যে যখন আসবে, দু’রকম মোওয়া সাজিয়ে চায়ের সঙ্গে দিলে বেশ হবে।’ আর সঙ্গে থাকবে বাগানের কলা। কারণ ময়রার দোকান থেকে বারবার জিনিস আনতে গেলে গৃহস্থের ফতুর হতেও যে বেশি সময় লাগে না! এই বড়দারই ‘শেষের পরিচয়’ উপন্যাসটি শেষ করেছিলেন রাধারাণী।

বিয়ের খবর না জানানোয় আরও একজন ভীষণ কষ্ট পেলেন। প্রথম স্বামী সত্যেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে বৌমার বিয়ে দিতে যিনি সবচেয়ে বেশি উদগ্রীব ছিলেন, সেই সুশীলাবালা। তাঁকে ও শ্বশুরবাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়েই রাধারাণী বিয়ে করতে এসেছিলেন লিলুয়ায়। কিন্তু অভিমান মনে রাখেননি সুশীলাবালাও। বিয়ের তিন বছরের মাথায় প্রথম বার সন্তানসম্ভবা হলেন রাধারাণী। তখন দেব-দম্পতির ঠিকানা দক্ষিণ কলকাতা। প্রিয় বৌমার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এক দুপুরবেলা স্বয়ং চলে এলেন সুশীলাবালা!

পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন রাধারাণী, চিত্তরঞ্জন সেবা সদনে। কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যেই সে সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সকলকে ছেড়ে চলে গেল। ভেঙে পড়লেন রাধারাণী। বাড়ল হাঁপানির প্রকোপও। স্ত্রীর এই অবস্থা দেখে কবিরাজ শ্যামাদাস বাচস্পতির পরামর্শে ৭২, হিন্দুস্থান পার্কে জমি কিনে সম্পূর্ণ নিজের পরিকল্পনা মতো রোদ-হাওয়া খেলে এমন বাড়ি তৈরি করলেন নরেন্দ্র দেব। নাম দেওয়া হল, ‘ভালো-বাসা’।

সেই বাড়িতেই ১৯৩৮-এর ১৩ জানুয়ারি জন্ম কন্যা খুকুর। এই মেয়ের নাম রাখলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। নবনীতা। শেষ শয্যায় শুয়ে শরৎচন্দ্রও রাধুর মেয়ের একটি নাম রেখেছিলেন, ‘অনুরাধা’। নবনীতার জন্মের তিন দিন পরে মৃত্যু হয় শরৎচন্দ্রের। সেই বছরেই রাধারাণীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বনবিহগী’ প্রকাশিত হয়।

এর পরে কলম প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেল রাধারাণীর। কিন্তু সাহিত্য-জগতের সঙ্গে লতায়-পাতায় জড়িয়ে থাকা, সেটা তো কমেনি। বরং বেড়েছে। ঠাকুরঘর নয়, বরং ‘শ্রীমদ্ভগবতগীতা’, ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়েই রাধারাণী সেরেছেন তাঁর সরস্বতীর আরাধনা। নিয়মিত বইয়ে ডুবে থাকার পাশাপাশি, কয়েক বছর পরে ‘মিলনের মন্ত্রমালা’ কাব্যানুবাদ, স্বামীর সঙ্গে যৌথ সম্পাদনায় গল্প সংগ্রহ ‘কথা-শিল্পে’র কাজ করেছেন। আর স্বামীর মৃত্যুর পরে লিখেছেন একগুচ্ছ সনেট। ১৯৭৫ সালে নতুন করে জেগে উঠেছিলেন রাধারাণী। তাঁর বড়দার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, শিলংয়ে নর্থ ইস্ট হিল বিশ্ববিদ্যালয়, কানপুর, লখনউ, ভাগলপুরের নিখিলবঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে গেলেন বক্তৃতা দিতে। ১৯৫৬-য় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুবনমোহিনী স্বর্ণপদক এবং ‘অপরাজিতা রচনাবলী’র জন্য ১৯৮৬ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় রাধারাণীকে।

মেয়েকে বললেন প্রেমিককে নিয়ে ভালো-বাসায় আসতে

পুরস্কার, সাহিত্যকীর্তি, একরোখা মনোভাব— এ সবের পাশাপাশি রাধারাণীর ব্যক্তিজীবন সাজানো আনন্দের সংসারে। সেই সংসারের এক প্রান্তে স্বামী নরেন্দ্র দেব। অন্য প্রান্তে আদরের খুকু। খুকু অর্থাৎ নবনীতার জীবন জুড়ে এখনও প্রতি মুহূর্তে মায়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি। ‘ভালো-বাসা’র সুরুচির বসার ঘরের চার দিকে ঠাসা বইপত্র। আর আনাচে-কানাচে রাধারাণীর ফোটোগ্রাফ। এক প্রান্তের দেওয়ালে বাবা-মায়ের ছবি। তাতে রজনীগন্ধার মালা। কোনও ফোটোগ্রাফে আবার নাতনি কিশোরী অন্তরা আর নন্দনার সঙ্গে সহাস্য দিদিমা।



সারা জীবনের সঙ্গী পড়াশোনা। ছবি: অলোক মিত্র

এ সবের মাঝেই নবনীতা মাকে নিয়ে তাঁর স্মৃতির ঝাঁপি খোলেন। ওঁর বেশ মনে পড়ে, মেয়ের চোখে ঘুমের পরত বুলিয়ে দিতে মায়ের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত। বলেন, ‘মা সব থেকে বেশি ‘তোমার সুর শুনায়ে যে ঘুম ভাঙাও সে ঘুম আমার রমণীয়—’ আর ‘আমার মন চেয়ে রয় মনে মনে হেরে মাধুরী’, এই দু’টি রবীন্দ্রসঙ্গীতই মা বেশি গাইতেন। কেন যে এই দু’টি গান, তা জানি না!’

শুধুই ঘুম নয়, জাগানিয়া কিশোরী নবনীতা যখন মুখে মুখে ছড়া কাটে, তখন মা-ই তো মেয়ের হাতে তুলে দিলেন পুরনো কালো একখানা ডায়েরি। ‘ও-ই আমার প্রথম কবিতার খাতা’, বলেন নবনীতা। এমনকি কিশোরী নবনীতার ‘চলচ্চিত্ত’ নামে যে কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল, তার নামটিও ঠিক করে দেন রাধারাণীই। প্রথমে নবনীতা সেই কবিতার নাম রেখেছিলেন ‘রাতের রেলগাড়ি’।

কবিতার পাশাপাশি নবনীতার দুয়ারে গুটিগুটি পায়ে কড়া নাড়ল প্রেম। তখন তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্রী। বন্ধু মাকে বিষয়টা জানালেন নবনীতা। মুহূর্তে মায়ের নির্দেশ, প্রেমিককে ‘ভালো-বাসা’য় আনতে হবে। তাকে নিয়েও এলেন নবনীতা। সব দেখেশুনে মেয়েকে মা বললেন, ‘তিনটি জায়গায় যাওয়া যাবে না, পর্দা টাঙানো কেবিনওয়ালা রেস্তোরাঁ, সন্ধ্যার পরে লেকের ধার আর সিনেমায়।’

পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যে মেয়েকে ভর্তি করা, ২১ বছর বয়সে বিদেশে নবনীতার পড়তে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই দেখা গেল রাধারাণীর সক্রিয় ভূমিকা। এমনকি যাদবপুরের পড়ার দিনগুলিতে মাকে এসে প্রতিদিনের ক্লাসে কী পড়া হল, সেটা বলাও রুটিন হয়ে দাঁড়ায় নবনীতার। পরে বুঝেছিলেন মেয়ে, এর ফলে এক দিকে যেমন পড়া ঝালানোটা হয়ে যাচ্ছে, মা তেমনই খোঁজখবর নিচ্ছেন দেশ-বিদেশের নানা সাহিত্যের গতিপ্রকৃতির।

কিন্তু নিষেধ বা আপাত কড়া ভূমিকা শুধু নয়, রসিকতাতেও রাধারাণীর জুড়ি মেলা ভার। তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী নবনীতা। বিদেশে থাকাকালীন কেমব্রিজে নবনীতা ও অমর্ত্য সেনের এনগেজমেন্ট হয়। তার পরেই দোঁহে ঘুরতে যাওয়া। সেই অভিজ্ঞতা মা আর শাশুড়ি মা অমিতা সেনকে জানালেন নবনীতা।

বেড়িয়ে ফিরে অমর্ত্য দেখেন, ট্রিনিটি কলেজে একটি ‘তার’ অপেক্ষা করছে রাধারাণীর। তাতে লেখা, ‘এনজয় ইওরসেলভস। ডোন্ট সেন্ড পোস্টকার্ডস!’

কখনও আবার মেয়ে যখন বড়, তখন তিন তলার ঘর থেকে নিয়মিত রাধারাণীর ‘নোট’ আসত দোতলায় নবনীতার ঘরে। সেই ‘নোট’গুলি বড় আশ্চর্য। তারই একটি, ‘জীবন সম্পর্কে তোমার ধারণা ভুল!’

মা-মেয়ের এমনই বন্ধুতা। নরেন্দ্র দেবের সঙ্গে ‘পাঠশালা’ পত্রিকার সম্পাদনা করতেন রাধারাণী। ওই পত্রিকার মাথায় লেখা থাকত, ‘পাঠশালার এই আটচালাতে চলবে দেশের মানুষ গড়া।’ আর তাই বন্ধুত্বের সম্পর্কের আড়ালে কখন যেন মেয়েকে এই ‘মানুষ’ই তৈরি করতে চেয়েছেন রাধারাণী। সেই মানুষ ও সাহিত্যিক নবনীতার ‘পরিব্রাজক’ ভিতটির প্রথম ইটটি গেঁথেছিলেন মা-বাবা। তাই ছোট থেকেই কখনও কার্শিয়াং, দার্জিলিং-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তের পাশাপাশি, বাবা-মায়ের হাত ধরে যাওয়া বিদেশেও।



স্টিফেন স্পেন্ডারের সঙ্গে দেব দম্পতি

পিইএন সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন দেব দম্পতি। সেই সূত্রেই ১৯৫০ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল পিইএন কনফারেন্স’-এ ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় যান তাঁরা। সঙ্গী মেয়ে নবনীতাও। ছ’মাস ধরে ঘোরেন হল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি-সহ নানা দেশ। এই পর্বে বার্নাড শ’র সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল দেব দম্পতির। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হয় শ’র। দেব দম্পতি শ’র শেষ যাত্রার সঙ্গী হিসেবে তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

১৯৫৫-য় দেব দম্পতি যান ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে ‘ওয়র্ল্ড পিস কংগ্রেস’-এ। সেই যাত্রায় তাঁরা পরিচিত হন হো চি মিন, মিখায়েল শোলোকাভ, ইলিয়া এরেনবুর্গ, আগাথা ক্রিস্টি-সহ বিশ্ব-ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও... এই সমস্ত বলতে বলতেই খানিক যেন বুজে আসে নবনীতার গলা।

মৃগনাভির গন্ধে কোমা থেকেও তাঁর চেতনা ফেরে

বুজে আসার কারণ, কথায় কথায় কখন যেন মায়ের জীবনের শেষ পর্বে চলে আসা। জীবনের শেষ কয়েক মাস রাধারাণী কোমায় চলে যান। কোমায় যাওয়ার আগের দিনটা ছিল ১ বৈশাখ, ১৩৯৬ বঙ্গাব্দ। দিনভর ঠিকই ছিলেন রাধারাণী। রাতে শুধু বললেন, ‘গুড বাই’। তার পরের দিন থেকেই কোমায় চলে যান রাধারাণী। কিন্তু ওই পর্বেই ঘটল একটি ঘটনা। দেব বাড়ির বহু সুখ-দুঃখের সঙ্গী শ্যামাদাস বাচস্পতির মেজো ছেলে কবিরাজ কৃষ্ণানন্দ গুপ্ত মহাশয় নবনীতাকে একদিন বললেন, ‘আমি পিসিমার জ্ঞান ফেরাতে পারি।’



দুই নাতনি অন্তরা ও নন্দনার সঙ্গে দিদিমা রাধারাণী দেবী

নবনীতা অবাক। তা কী করে হয়? কবিরাজ বললেন, ‘আমাদের শাস্ত্রে বলে, মৃগনাভির গন্ধে চেতনা ফিরবেই, তা মানুষ যতই অচেতন হোন না কেন। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।’ কবিরাজ সেই মৃগনাভিও জোগাড় করে ফেলেন! নবনীতার এ সবে তেমন বিশ্বাস নেই। ভাবছেন, ‘লোক হাসানো হবে না তো।’ কিন্তু অচেতন রাধারাণীর নাকের সামনে সেই ‘মৃগনাভি’ ঠেকাতেই আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। চোখ মেলে তাকালেন রাধারাণী। দেখলেন নাতনিদের। কিছুক্ষণ বাদেই ফের চেতনা লুপ্ত হল তাঁর।

এই ঘটনার কিছু দিন পরে, ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯-এ প্রয়াত হন রাধারাণী দেবী।

ছবি: নবনীতা দেবসেনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ

ঋণ: নবনীতা দেবসেন এবং ‘রাধারাণী দেবীর রচনা-সংকলন’ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)

‘অপরাজিতা রচনাবলী’

‘শব্দ পড়ে টাপুর টুপুর’:

নবনীতা দেবসেন

‘রাধারাণী দেবী’: রত্না মিত্র

‘কথাসাহিত্য’

বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন

আরও পড়ুন

Advertisement