Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

মিউচুয়াল ফান্ড

Risk O Meter: আপনার বিনিয়োগে ঝুঁকি কতটা? কী বলছে রিস্ক-ও-মিটার

সুপর্ণ পাঠক
২৯ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৪৬
অনেকেই খেয়াল করেননি খবরটা। কিন্তু বিনিয়োগের ঝুঁকি মাপতে রিস্ক-ও-মিটার খুলে অনেকেই আঁতকে উঠছেন। কিছুটা গেল গেল রব যেমন উঠেছে, তেমনই আবার অনেকের মুখে একগাল হাসি। যাঁরা আঁতকে উঠেছেন তাঁরা দেখছেন বিনিয়োগের ঝুঁকি হঠাতই এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে। আবার যাঁদের মুখে হাসি তাঁরা দেখছেন যে, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টাকা ঢেলেছেন এবং তাতে রাতারাতি লগ্নির ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে।

ম্যাজিক? না। আসলে অনেকেই খেয়াল করেননি যে রিস্ক-ও-মিটারকে ঢেলে সাজা হয়েছে। আগে কী ছিল? আগের ঝুঁকির মিটারের সঙ্গে আপনার পছন্দ করা ফান্ডের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল না বহু অর্থেই! অবাক হচ্ছেন? কিন্তু উত্তরটা হল, “হ্যাঁ।” তার মানে এই নয় যে আগের মিটারে ঝুঁকির কোনও আন্দাজ পাওয়া যেত না। অবশ্যই যেত। কিন্তু বদলে যাওয়া মিটারের মতো নয়।
Advertisement
প্রতিটি ফান্ড তৈরি হয় সেবির অনুমতি নিয়ে। সেবি নির্ধারিত বিনিয়োগের দিশা নিয়ে তৈরি হয় ফান্ড। এক একটি দিশায় বিভিন্ন সংস্থা তৈরি করে তাদের ফান্ড। কিন্তু সব ফান্ড তো এক রকম লাভ দেয় না। তার কারণ বহু। যেমন, কে সেই ফান্ডটি পরিচালনা করছে।

ধরুন দু’টি সংস্থা একই শ্রেণির ফান্ড বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু একটির পরিচালক অনেক দক্ষ। তিনি বিনিয়োগ এমন ভাবে পরিচালনা করছেন যে অন্য ফান্ডটির তুলনায় তাঁর পরিচালনাধীন ফান্ডটি অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। এবং তা হয় বলেই আমরা খুঁজে থাকি সেই ফান্ডটি যেখানে তুলনামূলক ভাবে লাভের স্রোত অনেক বেশি তেজি। অথচ, রিস্ক-ও-মিটার দু’টি ফান্ডের ক্ষেত্রেই ঝুঁকির অঙ্ক দেখাত একই রকম!
Advertisement
কেন? কারণ, এত দিন পর্যন্ত, ঝুঁকি মাপার অঙ্কটি ছিল শ্রেণি ভিত্তিক। সব ফান্ড যে শ্রেণিতে বিনিয়োগ করত, সেই শ্রেণির ঝুঁকিটাই সেই ফান্ডের ঝুঁকি হয়ে উঠত। কিন্তু তা তো ঠিক নয়। নির্দিষ্ট শ্রেণির বিভিন্ন ফান্ডের মধ্যেও ঝুঁকির তারতম্য হয়।

একটি ফান্ড অনেক দক্ষ ভাবে পরিচালিত হতে পারে প্রতিযোগী আরেকটি ফান্ডের তুলনায়। দক্ষতর ভাবে পরিচালিত ফান্ডের ঝুঁকি তাই অনেক কম হতে পারে সেই শ্রেণির ঝুঁকির তুলনায়। আবার আরেকটি ফান্ডে তার নির্দিষ্ট শ্রেণির তুলনায় ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে তুলনামূলক ভাবে অদক্ষ পরিচালনার জন্য।

এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটন সংস্থার কয়েকটি ঋণপত্রে বিনিয়োগের ফান্ড। প্রায় ডুবতে বসা এই ফান্ডগুলিতে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের লগ্নির সব টাকা হারাতেই বসেছিলেন। কিন্তু আদালতের এবং সেবির হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের টাকা কিস্তিতে ফেরত পেতে শুরু করেছেন। অথচ একই শ্রেণিতে বিনিয়োগ করে অন্য ফান্ডগুলির বিনিয়োগকারীদের এই ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়নি।

কিন্তু নতুন নিয়মে এই অবস্থা বদলে গিয়েছে। রিস্ক-ও-মিটার এখন আর কোনও ফান্ড কোন শ্রেণিতে বিনিয়োগ করেছে তার ভিত্তিতে ঝুঁকি মাপছে না। প্রতিটি ফান্ডের জন্য আলাদা ভাবে ঝুঁকির দিশা দিচ্ছে বদলে যাওয়া মিটার।

অর্থাৎ, প্রতিটি ফান্ড কোন সংস্থায় বিনিয়োগ করেছে এবং সেই বিনিয়োগের চরিত্র বিচার করেই তৈরি হচ্ছে ঝুঁকির অঙ্ক। তাই মিটার এখন আর বিনিয়োগের শ্রেণি নির্ভর না হয়ে, প্রতিটি ফান্ডের নির্দিষ্ট চরিত্র ও দক্ষতা নির্ভর হয়ে উঠেছে।

তাই দু’টি ফান্ড একই শ্রেণিতে বিনিয়োগ করলেও বিনিয়োগের ঝুঁকির অঙ্কে তারা আলাদা হয়েই থাকছে। তাই বিনিয়োগকারীরা আলাদা করে বিভিন্ন ফান্ডের ঝুঁকির দিশা পাচ্ছেন। আর তা দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

শুধু তাই নয়। মাথায় রাখতে হবে, ফান্ড পরিচালকরা তাঁদের নিজের অঙ্ক অনুযায়ী বিনিয়োগের লাভ বাড়াতে পোর্টফোলিও ঝাড়পোঁচ করতে থাকেন। বদলাতে থাকে পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার। এক সংস্থার থেকে অন্য সংস্থায়। তারই সঙ্গে বদলাতে থাকে ঝুঁকি।

বাজার বদলের সঙ্গেও সঙ্গেও বদলায় ঝুঁকির চরিত্র। আগে এই বদলের ফলে যে ঝুঁকি বদলে যাচ্ছে তার প্রতিফলন সে ভাবে মিটারে দেখা যেত না। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকি বদলালে তার তাৎক্ষণিক প্রতিফলন দেখা যাবে রিস্ক-ও-মিটারে।

তাই ঝুঁকি সামলাতে নজর রাখুন আপনার বিনিয়োগ করা ফান্ডের বদলাতে থাকা রিস্ক-ও-মিটারে।