মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলির মধ্যে অন্যতম হল পওয়ার পরিবার। বর্তমানে এর কেন্দ্রে রয়েছেন শরদ পওয়ার। কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে শরদ ১৯৯৯ সালে এনসিপি তৈরি করেছিলেন। কয়েক দশক ধরে পওয়ার পরিবারের সদস্যেরা আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতিতে, বিশেষ করে এনসিপির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তবে পওয়ার পরিবারের সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল পুণে জেলার বারামতীতে, যেখানে তাদের অনেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, আন্দোলন চালিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গত কয়েক মাসে পওয়ার পরিবার তথা এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত মিলছিল। মনে করা হচ্ছিল, দুই এনসিপি মিলে যাবে। রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন শরদ। অজিতই জোটবদ্ধ এনসিপি-র হাল ধরবেন। আর জাতীয় স্তরে এনসিপি-র মুখ হবেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। সেই এনসিপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে বিজেপির জোটেই থাকবে বলে আন্দাজ করছিলেন রাজনীতির অলিন্দে ঘোরাফেরা রয়েছে এমন বিশেষজ্ঞেরা।
তবে অজিতের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু সারা দেশকে যেমন হতবাক করেছে, তেমনই তাঁর পরিবার তথা বংশের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত গুরুত্ব— উভয়ই তুলে ধরেছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, মহারাষ্ট্রের তথা দেশের অন্যতম ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক পরিবার পওয়ারদের দল এবং পরিবারের রাশ এ বার কে ধরবে? অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা বা দুই পুত্রের মধ্যে কেউ অজিতের এনসিপি-র হাল ধরবেন? না কি দুই এনসিপি মিলে শরদ-সুপ্রিয়ার হাতে রাশ থাকবে দলের?
তা বোঝার আগে জেনে নেওয়া যাক পওয়ার পরিবারের শিকড়, শাখা-প্রশাখা এবং উত্তরাধিকারীদের বিষয়ে। পওয়ার পরিবারের শিকড় মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকায়। ভিত্তি বারামতী, মহারাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৃষিক্ষেত্র। সেখান থেকে উঠে এসেই শরদ মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আঙিনায় আবির্ভূত হন এবং রাজ্য তথা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন।
অজিত হলেন শরদের দাদা অনন্তরাও পওয়ারের পুত্র। অজিতের যখন মাত্র ১৮ বছর বয়স, তখন মারা যান অনন্তরাও। কাকার ছত্রছায়াতেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রকট হয়ে ওঠেন অজিত। একাধিক মেয়াদে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কুশলী এবং নেতা হিসাবেও ব্যাপক ভাবে স্বীকৃত ছিলেন।
এ ছাড়াও রয়েছেন সম্পর্কে শরদের নাতি রোহিত পওয়ার (শরদের দাদা আপ্পা সাহেবের নাতি)। রোহিত করজাত-জামখেড়ের বিধায়ক। শরদ নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এক জন তরুণ নেতা হিসাবে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আঙিনায় আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। সদ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন সম্পর্কে শরদের আরও এক নাতি যুগেন্দ্র পওয়ার।
পওয়ার পরিবারের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, তাদের রাজনৈতিক কৌশল এবং জনসাধারণের উপর তাদের প্রভাব, অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয় ছিল। কিন্তু মাঝখানে কাকা-ভাইপোর সম্পর্কে চিড় ধরে। দূরত্ব তৈরি হয় শরদ এবং অজিতের মধ্যে। এনসিপিতেও ভাঙন দেখা দেয়। ২০২৩ সালে বিজেপি-শিবসেনা জোটের সঙ্গে হাত মেলান অজিত। শরদের এনসিপি থেকে সরে আসেন। তবে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও পারিবারিক উৎসব একসঙ্গেই উদ্যাপন করত শরদ এবং অজিতের পরিবার।
গত লোকসভা নির্বাচনে শরদ পওয়ারের এনসিপি মহারাষ্ট্রের ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১০টি জিতেছিল। অজিতের এনসিপি মাত্র একটি আসন জিতেছিল। আবার বিধানসভা নির্বাচনে অজিতের এনসিপি মহারাষ্ট্রের ২৮৮টি আসনের বিধানসভায় ৪১টি আসন জেতে। শরদের এনসিপি মাত্র ১০টি আসন জিতেছিল। সম্প্রতি শরদ এবং অজিতের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছিল।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy