এক জন আইআইটি স্নাতক, অন্য জন চিকিৎসক! আয়েশ-জীবন ছেড়ে ইউপিএসসিকে বেছে নেন আইএএস-আইপিএসের ‘পাওয়ার কাপল’
দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করা স্বপ্নের সমান। অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় সফল হওয়া মুখের কথা নয়! হাই স্কুল বা কলেজের পঠনপাঠন শেষের পর কেরিয়ার গড়তে অনেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
এ দেশের অন্যতম কঠিন এবং সম্মানজনক পেশা হল আইএএস, আইপিএস বা আইএফএস। সেই পেশায় পা রাখার প্রথম ধাপ হল ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি পরিচালিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
একাগ্রতা, অধ্যবসায়, মেধা আর পরিশ্রম, এই চার মন্ত্রেই আইএএস, আইপিএস এবং আইএফএস হওয়ার স্বপ্নপূরণ সম্ভব। ইউপিএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম এবং ধৈর্যের প্রয়োজন।
দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করা স্বপ্নের সমান। অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় সফল হওয়া মুখের কথা নয়! হাই স্কুল বা কলেজের পঠনপাঠন শেষের পর কেরিয়ার গড়তে অনেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।
তবে যাঁদের নিয়ে কথা, তাঁরা ইউপিএসসি যুগল। বলা ভাল, সিভিল সার্ভিসের ‘পাওয়ার কাপল’। স্বামী আইএএস এবং স্ত্রী আইপিএস। ইউপিএসসি পাশ করার আগেই তাঁরা যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন। যুক্ত হতে পারতেন সম্মানজনক পেশাতেও। কিন্তু ইউপিএসসির জন্য সব বিসর্জন দেন তাঁরা।
কথা হচ্ছে আইএএস তুষার সিংলা এবং আইপিএস নভজ্যোত সিমিকে নিয়ে। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের অন্যতম সেরা দম্পতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাঁদের। কেরিয়ার, দায়িত্ব এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় কী ভাবে রাখতে হয়, তার সুন্দর উদাহরণ এই দম্পতি।
আরও পড়ুন:
তুষারের পড়াশোনা আইআইটি দিল্লি থেকে। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতকের ডিগ্রি অর্জনের পর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর করেন তুষার।
স্নাতকোত্তর করার সময় থেকেই ইউপিএসসির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তুষার। ২০১৩ সালে প্রথম বার পরীক্ষায় বসেন। ব্যর্থ হন।
তবে হাল ছাড়েননি তুষার। আরও জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। সাফল্য আসে ২০১৫ সালে। ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তুষার। সারা ভারতে ৮৬ র্যাঙ্ক হয় তাঁর।
ইন্টারভিউ প্যানেলে গিয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন তুষার। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক ছিলেন তুষার। তার পর ২০২০ সালে ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক হন । ২০২১ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে কর্তব্যরত ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে বিহারের ক্যাডার হন তুষার। বর্তমানে তিনি বেগুসরাইয়ের জেলাশাসক হিসাবে কর্মরত। তার আগে বিহারের অর্থ দফতরে যুগ্ম সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, নভজ্যোত পঞ্জাবের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা। লুধিয়ানার বাবা যশবন্ত সিংহ ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কিন্তু দন্তচিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেন নভজ্যোত।
নভজ্যোতের সাফল্য আসে ২০১৭ সালে। ইউপিএসসি পাশ করে আইপিএস অফিসার হন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর স্বামীর মতো নভজ্যোতকেও বিহার ক্যাডারে নিয়োগ করা হয়।
নভজ্যোতের প্রথম পোস্টিং ছিল বিহারের রাজধানী পটনায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) হিসাবে। বর্তমানে বেগুসরাইয়ে বিহার মিলিটারি পুলিশ (বিএমপি) ৮-এর কমান্ড্যান্ট হিসাবে নিযুক্ত।
নভজ্যোত এক জন নেটপ্রভাবীও বটে। ইনস্টাগ্রাম-সহ সমাজমধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁর প্রচুর অনুরাগী রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ।
তুষার এবং নভজ্যোতের প্রেমের সূত্রপাত, ইউপিএসসির প্রস্তুতি চলাকালীন একটি কোচিং সেন্টারে। উভয়েই পঞ্জাবের বাসিন্দা হওয়ার সূত্রে কোচিং সেন্টারে তাঁদের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। শীঘ্রই বন্ধুত্ব পরিণত হয় প্রেমে।
একই সঙ্গে আলোচনা করে ইউপিএসসির পড়াশোনা করতেন তুষার এবং নভজ্যোত। একে অপরের ভুলভ্রান্তিও ঠিক করে দিতেন। ২০১৩ সালে তুষার ইউপিএসসির লক্ষ্যপূরণের পর কয়েক বছর তাঁদের সম্পর্কে ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়ে। এর পর ২০১৭ সালে স্বপ্নপূরণ হয় নভজ্যোতের।
আরও বছর তিনেক পরে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ প্রেমদিবসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তুষার এবং নভজ্যোত। পরিণতি পায় তাঁদের সম্পর্ক। সিভিল সার্ভিসের ‘পাওয়ার কাপল’ হয়ে ওঠেন তাঁরা।
আইআইটি শেষ করার পর মোটা বেতনের চাকরি না করা এবং চিকিৎসার মতো পেশা ছেড়ে আসা তুষার এবং নভজ্যোতের যাত্রা সহজ ছিল না। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় থাকলে জীবনে সাফল্য আসবেই, স্বপ্নপূরণ হবেই।
বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এবং যুগলের কাছে অনুপ্রেরণার অপর নাম হয়ে উঠেছেন তুষার এবং নভজ্যোত।