Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Sutapa murder case: ‘ওয়েটিং কর, ম্যায় আ রহা হুঁ!’ ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে কেন লিখে রেখেছিল সুশান্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৫ মে ২০২২ ১৬:২৬
সপ্তাহ দু’য়েক আগে বহরমপুরে খুন হন কলেজ পড়ুয়া সুতপা চৌধুরী। ইদের আগের দিন সোমবার ভরসন্ধ্যায় গোরাবাজার শহিদ সূর্য সেন রোডের সুইমিংপুলের গলিতে তাঁকে খুন করেন ‘প্রেমিক’ বলে নিজেকে দাবি করা সুশান্ত চৌধুরী।

এই নৃশংস হত্যা, তার কারণ, মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, সুতপার পরিবারের যুক্তি, সুশান্তের যুক্তি—সব নিয়েই গত সপ্তাহ দু’য়েকে বার বার চর্চা হয়েছে। সুতপার বাবা স্বাধীন চৌধুরীর বক্তব্য, মেয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না সুশান্তর। যদিও সুশান্তর পিসি রানি চৌধুরী দাবি করেছেন, সুতপার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার ভাইপোর। একই দাবি করে সুশান্ত এবং সুতপার বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করে দেখেনি আনন্দবাজার অনলাইন।
Advertisement
খুনের কারণ হিসাবে পুলিশকে সুশান্ত বলেছে, সুতপার ‘অন্য কারও’ সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ গড়ে ওঠা সে মেনে নিতে পারছিল না।

মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘ দিনের অবদমন, প্রেমিকাকে হারিয়ে ফেলা এবং প্রেমিকার অন্যের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ এবং এক বন্ধুর মাধ্যমে সুতপার গতিবিধির সব ‘খবর’ পৌঁছে যাওয়া ধীরে ধীরে সুশান্তের মনে ঘৃণার জন্ম দিয়েছিল। তাতেই বাড়ে জটিলতা।
Advertisement
সেই কারণেই কি ধরা পড়ার পরেও সুশান্ত বার বার পুলিশের কাছে জানতে চাইছিল, ‘ও মরেছে তো?’

বস্তুত, সুশান্তর মনের অন্দরে সুতপাকে নিয়ে যে জট পাকছিল, তা কিন্তু পরবর্তী কালে প্রকাশিত বহু তথ্যই প্রমাণ করে। যেমন প্রকাশ্যে আসে ২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ভিডিয়োবার্তা। ওই ভিডিয়োয় সুশান্তকে আবেগাপ্লুত হয়ে বেশ কিছু কথা বলতে শোনা যায় কোনও এক মহিলার উদ্দেশে। সুশান্তের পরিবারের দাবি, ওই মহিলা আর কেউ নন, সুতপা চৌধুরী। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন।

ওই ভিডিয়োর শুরুতে আবেগতাড়িত হয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা যায় সুশান্তকে। ধরা গলায় সে বলতে থাকে, ‘‘পাঁচ মাস হয়ে গেল ভাল করে কথা বলিস না। পাঁচ মাসে একটা দিনও ভাল কাটেনি (আমার)।’’ তার পর আবার বলে, ‘‘কী করে থাকব তোকে ছাড়া! মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে অভিনয় করে কাঁদতে পারি না। হাসিখুশি হয়ে বললে বিষ খেয়ে মরে যেতাম। আমি কী করে থাকব? তোকে বড় ভালবেসেছিলাম। কান্না কি তোর অভিনয় মনে হয়?’’

এই ভিডিয়োয় সুশান্তকে বার বার কাঁদতে দেখা যায়। সুশান্তের পরিবারের দাবি, সম্পর্ক হারানোর যন্ত্রণা থেকে তীব্র মানসিক অবসাদে সুশান্ত যে ভুগছিল, এই ভিডিয়ো তারই প্রমাণ। আসলে কোনও ভাবেই সে মেনে নিতে পারেননি যে সুতপা তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। ‘সোর্স’ মারফত সেই বার্তা ক্রমেই তার কাছে জোরাল ভাবে পৌঁছে যেতে থাকে। তাই কি ধীরে ধীরে চরম পথ বেছে নিয়েছিল সুশান্ত?

কেন সুতপার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন এল? শুধু মাত্র সেই কারণেই কি সুশান্ত এমন বেপরোয়া হয়ে উঠল? তা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ হেফাজতে, সুতপাকে মন্দিরে বিয়ে করার দাবি করেছে সুশান্ত। সুশান্তের বন্ধুর ছবিও তাদের ‘যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতার’ কথাই বলে। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন। আরও এক ধাপ এগিয়ে, সুতপার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার দাবিও সুশান্ত করেছে তদন্তকারীদের কাছে।

মনোবিদদের একাংশের মতে, সাধারণত দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর বিচ্ছেদ ঘটলে এই ধরনের বিকার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ।

সুতপা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহের অভিমুখও সেই দিকে। সুশান্তের ফেসবুকে গত কয়েক মাসের পোস্ট থেকেও তার মনের জটিলতার কিঞ্চিত হদিস মিলেছিল। ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলেও সুশান্ত লিখে রাখে, ‘ওয়েটিং কর, ম্যায় আ রহা হুঁ’! এর মধ্যেও কি লুকিয়ে ছিল সুতপা-হত্যার ইঙ্গিত?

সুশান্ত তদন্তকারীদের বলেছে, ‘‘সুতপার সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা ওর বাবা-মা জানতেন। এখন তাঁরা অন্য কথা বলতে পারেন। তবে সকলেই আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন। ওদের বাড়িতেও আমার নিয়মিত আসাযাওয়া ছিল। এক সময় আমাদের মধ্যে ফোনে কথাবার্তাও হত নিয়মিত।’’

প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে, সুশান্তর ভাই শুভদীপের গলাতেও। শুভদীপও জানিয়েছেন, ‘‘দাদা রাতে ফোনে কোনও মহিলার সঙ্গে কথা বলত।’’ যদিও সেই মহিলা সুতপা কি না তা জানতেন না শুভদীপ।

সুশান্তর সঙ্গে মেয়ে সুতপার কোনও সম্পর্ক ছিল না, বরাবর এমন দাবি করে এসেছেন নিহত সুতপার বাবা স্বাধীন চৌধুরী। পাশাপাশি, তিনি বলেছেন, ‘‘সুশান্ত মেয়েকে জ্বালাতন করত।’’

কিন্তু উল্টো সুরও রয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুশান্ত এবং সুতপার ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি শেয়ার করা হয়েছে ‘তপন ওয়াইটি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। যদিও এই সব ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন।

‘তপন ওয়াইটি’ নামে ওই পোস্টদাতার বক্তব্য, ‘ছবিগুলো দেখে তো মনে হচ্ছে সুশান্ত এবং সুতপার মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক ছিল।’ ওই পোস্টদাতার প্রশ্ন, তা হলে স্বাধীনবাবু মিথ্যা বলছেন না তো?

সুতপা-হত্যার তদন্তে, উঠে আসছে তাঁর নতুন সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়টিও। সুতপার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মারফত তাঁর গতিবিধির সব খবর পেত সুশান্ত। নতুন সম্পর্কে সুতপা জড়িয়ে পড়েছেন, এটা নিশ্চিত হয়েই কি সুশান্ত তাঁকে খুনের ছক কষে?

সুশান্ত নিজেই বলেছে, ‘‘মেয়ের মা, মেয়ের বাবা সবাই মিলে আমায় মেন্টালি ক্র্যাক (মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত) করে দিয়েছিল, তাই আমি মেরেছি।’’

সুশান্ত এ-ও বলেছে, ‘‘আমি নিজেই খুন করেছি। আদালত আমাকে যে শাস্তি দেবে তা মাথা পেতে নেব।’’

এখনও পুলিশ হেফাজতেই রয়েছে সুশান্ত। তাকে জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের নতুন কোনও দিক আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।