চোখে অভিনেতা হওয়ার অফুরান স্বপ্ন ছিল ধর্মেন্দ্রের। তবে পরিবারের অর্থকষ্টের কারণে সেই স্বপ্ন থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর কম বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল ধর্মেন্দ্রের কাঁধে। রেলের কেরানির পদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মাসিক বেতন ছিল ১২৫ টাকা। কিন্তু চাকরিতে মন বসত না তাঁর।
ধর্মেন্দ্রের কেরিয়ারের কঠিন সময়ে বলিউডের কয়েক জন অভিনেতা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। শোনা যায়, বলিপাড়ার এক পরিচালকের সঙ্গে ট্যাক্সিতে চেপে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু তাঁর পকেটে ট্যাক্সির ভাড়া মেটানোর মতো টাকা ছিল না। অন্য দিকে, সেই পরিচালকও নামার সময় ধর্মেন্দ্রের ভাড়া দিতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই সময়ে বলি অভিনেতা শশী কপূর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করেছিলেন ধর্মেন্দ্রকে। ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে খাওয়ানোর জন্য ধর্মেন্দ্রকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছিলেন শশী।
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ ছবিতে অভিনয় করে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু বক্স অফিসে সেই ছবি একেবারেই ব্যবসা করতে পারেনি। কেরিয়ার শুরুর প্রথম পাঁচ বছর ধর্মেন্দ্রের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ২০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও ছবিই বক্স অফিসে তেমন সফল হয়নি।
‘ফুল অউর পত্থর’ মুক্তি পাওয়ার পর একে একে ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’-এর মতো হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করতে শুরু করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। বলিউডের ‘হি-ম্যান’-এর তকমাও পেয়েছিলেন তিনি। সত্তর থেকে আশির দশকের মধ্যে বলিপাড়ার সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছিলেন ধর্মেন্দ্র।
‘আয়া সাওন ঝুম কে’ মুক্তি পাওয়ার এক বছর পর ১৯৭০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘জীবন মৃত্যু’। এই ছবিতে রাখীর সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে। ‘জীবন মৃত্যু’ ছবিতে ‘ঝিলমিল সিতারোঁ কা’ গানের দৃশ্যে রাখীর সঙ্গে রোমান্স করেছিলেন ‘হি-ম্যান’। তিনটি ছবিতেই নায়িকার বদল হলেও পরনের জামা বদলাননি ধর্মেন্দ্র।
প্রথম স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। বহু বছর সম্পর্কে থাকার পর ১৯৮০ সালের মে মাসে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। ধর্মেন্দ্র-হেমার প্রথম ছবি ‘তুম হাসীন ম্যায়ঁ জওয়ান’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭০ সালে। ক্যামেরার সামনে প্রেম করতে করতে বাস্তবেই একে অপরের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন দুই তারকা।
সত্তরের দশকে ধর্মেন্দ্র এবং হেমা, দু’জনেই কেরিয়ারের শীর্ষে। পর্দার বাইরেও সে সময় তাঁদের প্রেমের রসায়ন তুঙ্গে। ‘শরাফত’, ‘নয়া জ়মানা’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘দোস্ত’, ‘জুগনু’, ‘আজ়াদ’, ‘দিল্লাগি’, ‘শোলে’র মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। হেমা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে, ধর্মেন্দ্র তাঁর মনের মানুষ। ধর্মেন্দ্রের সঙ্গেই সারা জীবন কাটাতে চান তিনি। কিন্তু ধর্মেন্দ্র তখন বিবাহিত এবং চার সন্তানের পিতা।
বলিপাড়ার জনশ্রুতি, হেমাকে এক বার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলি অভিনেতা সঞ্জীব কুমার। কিন্তু নায়িকা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় মন ভেঙে গিয়েছিল সঞ্জীবের। ‘শোলে’ ছবির সেটে দেখা হওয়ায় আবার হেমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সঞ্জীব। সেই সময়ে ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন হেমা। সে কারণে ধর্মেন্দ্রের রোষের কবলেও পড়েছিলেন নায়ক।
বলিউডের গুঞ্জন, সঞ্জীবের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে ‘শোলে’র পরিচালক রমেশ সিপ্পির কাছে গিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। ‘শোলে’ ছবিতে সঞ্জীব এবং হেমার একসঙ্গে কোনও দৃশ্য যেন না থাকে, সেই আবদারও করেছিলেন অভিনেতা। এমনকি, বলি অভিনেতা জীতেন্দ্রের সঙ্গেও নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল হেমার। মদ্যপ অবস্থায় সেই অনুষ্ঠানবাড়িতে গিয়ে অশান্তি করে হেমা-জীতেন্দ্রের বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র।
নিজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন, ১৯৬৯ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘সত্যকাম’ ছবিটি। ধর্মেন্দ্রের বিপরীতে এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। ছবি বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মেন্দ্রের কেরিয়ারে সেরা ছবি ‘সত্যকাম’। কিন্তু এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য বলিপাড়া থেকে কোনও সম্মান পাননি ধর্মেন্দ্র। এমনকি, কোনও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও দেওল পরিবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয় না বলে দাবি করেছিলেন অভিনেতা।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর ভুয়ো খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় হেমা-ঈশা তাঁদের সমাজমাধ্যমে সত্য জানিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। ধর্মেন্দ্র চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলেও জানান তাঁরা। দিন কয়েক আগে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন অভিনেতা। বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ডিসেম্বর মাসে ৯০ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ধর্মেন্দ্রের। জন্মদিনের আগেই প্রয়াত হলেন তিনি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy