বিশ্বকাপে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল, ২০ বছরের ব্যবধান এবং হাওয়াবদল
ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া। ২০ বছর পর আবার একই ঘটনার সমাপতন। তবে দুই দশকের ব্যবধানে আগাগোড়া বদলে গিয়েছে দুই দল।
রবিবার গুজরাতের আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া। ২০ বছর পর আবার একই ঘটনার সমাপতন। তবে দুই দশকের ব্যবধানে আগাগোড়া বদলে গিয়েছে দুই দল, হয়েছে হাওয়াবদলও।
২০০৩ সালে ১০টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০ বছর পর এ দৃশ্য যেন একেবারে বিপরীত।
১০টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে ভারত।
২০০৩ সালের বিশ্বকাপের লিগ পর্বে ভারতকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই দশক পর এ বারের বিশ্বকাপে ছবিটা বদলে যায়।
এ বারের রাউন্ড রবিন লিগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয় ভারত।
আরও পড়ুন:
২০০৩ সালে আটটি ম্যাচে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ২০ বছর পর এই ঘটনায়ও বদল লক্ষ্য করা গেছে।
২০২৩ সালে আটটি ম্যাচে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া।
২০০৩ সালে রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে জোহেনেসবার্গে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২ উইকেটে ৩৫৯ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হয়েছিলেন রিকি পন্টিং।
২০০৩ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে মাঠে নেমেছিল ভারত। ২৩৪ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১২৫ রানে হেরেছিল সৌরভের দল।
আরও পড়ুন:
২০০৩ সালের ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকা রাহুল দ্রাবিড় ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে। কোচ হিসাবে এ বার তিনি চাইবেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের হাত ধরে বিশ্বকাপ জিততে।
পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে কি তৃতীয় বার বিশ্বকাপ জিততে পারবে ভারত? প্যাট কামিন্সের দল কি এবার রোহিত শর্মার দলের কাছে হার মানবে, না কি ২০ বছর পর এখানেও হবে হাওয়া বদল? ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন।
রবিবার বিশ্বকাপ চলাকালীন মাঠে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সঙ্গে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লস্। শুক্রবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলের দফতর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন থাকছে আরও আয়োজন। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ দল ‘সূর্যকিরণ’ রবিবার আকাশে একটি প্রদর্শনী করবে।
খেলা শুরুর আগে, টসের ঠিক পরেই ভারতীয় বায়ুসেনার ন’টি বিমান উইং কমান্ডার সিদেশ কার্তিকের নেতৃত্বে স্টেডিয়ামের উপর ‘এয়ার শো’ দেখাবে। ১০ মিনিটের একটি প্রদর্শনী হবে।
জাতীয় সঙ্গীতের সময়েও স্টেডিয়ামের উপর দিয়ে উড়ে যাবে বিশেষ বিমান। জাতীয় পতাকা নিয়ে বিমান ওড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল। তবে তা খারিজ করে দিয়েছে ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসি।
প্রথম ইনিংসের শেষেও থাকছে নানা আয়োজন। অতীতের সব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ফাইনালের দিন। বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হবে। কপিল দেব এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনিও রয়েছেন আমন্ত্রিতদের তালিকায়।
নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত ফাইনালে উঠেছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। ২০০৩ সালের পর আবার ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে।