• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিনোদন

ঘড়ি, গাড়ি বিক্রি করে যুদ্ধে, পরভিন ববির টানে বলিউডে পা রাখা অস্ট্রেলীয় ইঞ্জিনিয়ারই পরে বব ক্রিস্টো

শেয়ার করুন
২২ 1
ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে এক পত্রিকায় পরভিন ববির ছবি দেখেছিলেন। তার পরেই সব যেন ওলটপালট হয়ে গেল তাঁর চারপাশে। ঠিক করলেন, কাজ করতে হবে হিন্দি ছবির ইন্ডাস্ট্রিতেই। তার পর বলিউড তাঁকে চিনেছিল বব ক্রিস্টো নামে।
২২ 2
পুরো নাম রবার্ট জন ক্রিস্টো। জন্ম ১৯৩৮ সালে, সিডনিতে। যৌবনে পড়াশোনার জন্য তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন জার্মানি। তাঁর বাবা-ই তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। জার্মানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি থিয়েটারেও অভিনয় করতেন।
২২ 3
থিয়েটারে অভিনয় সূত্রেই আলাপ জার্মান তরুণী হেলগার সঙ্গে। পরবর্তী কালে তাঁকেই বিয়ে করেন বব ক্রিস্টো। কিন্তু দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হল না। ১৯৭৪ সালে দুই মেয়ে, এক ছেলে এবং স্বামীকে রেখে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন হেলগা।
২২ 4
এর পর ববের জীবন অনেকটাই এলোমেলো হয়ে যায়। তিন সন্তানকে তিনি এক মার্কিন দম্পতির জিম্মায় রেখে চলে যান ভিয়েতনাম। মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে তিনি সেখানে যুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর কাজ ছিল ল্যান্ড মাইন খুঁজে বার করা।
২২ 5
জীবনের প্রথম দিকে কোনও কাজ বেশিদিন করেননি তিনি। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে ঘড়ি এবং গাড়িও বিক্রি করেছেন তিনি। যুদ্ধফেরত বব মন দিলেন মডেলিংয়ে। সেইসঙ্গে এক বন্ধুর পরামর্শে সিনেমার সেট তৈরির কাজও করতে শুরু করলেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অভিনেতা হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই বন্ধু।
২২ 6
সিনেমার সেট তৈরির কাজে বব একবার গিয়েছিলেন ফিলিপিন্স। সেখানে মার্লন ব্র্যান্ডোর একটি ছবির সেট তৈরি করেছিলেন তিনি। ছবিতে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয়ও করেছিলেন তিনি।
২২ 7
ফিলিপিন্সে থাকার সময় মারিয়া নামে এক তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ববের। মারিয়া গর্ভবতীও হয়ে পড়েছিলেন সম্পর্কের জেরে। কিন্তু মারিয়াকে তিনি বিয়ে করেননি। কাজের জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন মাসকট। ববের কথায় এবং উদ্যোগে নিজের ছোটবেলার বন্ধুকে বিয়ে করেন মারিয়া।
২২ 8
মাসকট যাওয়ার পথে দুবাই বিমানবন্দরে তাঁর হাতে আসে ‘টাইম’ পত্রিকার একটি সংখ্যা। পত্রিকায় হিন্দি ছবির উপরে একটি নিবন্ধে পড়েন বব ক্রিস্টো। লেখার সঙ্গে ছিল পরভিন ববির ছবি। তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলেই বব ভারতে চলে আসেন। মুম্বইয়ে যখন তিনি পা রাখেন, তখন কাউকেই চিনতেন না। শুধু হিন্দি ছবি এবং পরভিনের টানে বব সেই শহরে চলে এসেছিলেন।
২২ 9
ইন্ডাস্ট্রির কাউকেই চিনতেন না বব। সমুদ্র ভালবাসতেন বলে তিনি সৈকতে বসে থাকতেন। একবার জুহুতে ববের সঙ্গে আলাপ হয় প্রেম কপূরের। তিনি তথ্যচিত্র বানাতেন। বব নিজের পরিচয়ে বলেছিলেন, তিনিও বলিউডের বড় ছবিতে কাজ করেছেন। ক্রমে প্রেম কপূরের সঙ্গে আলাপ জমে ওঠে ববের। তাঁর এবং ক্যামেরাম্যান জুবের খানের সূত্রে পরভিন ববির সঙ্গে আলাপ হয় বব ক্রিস্টোর।
১০২২ 10
কিন্তু ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’ ছবির শুটিংয়ে স্বপ্নের নায়িকাকে প্রথমে দেখে বব কিন্তু চমকে গিয়েছিলেন। বিশ্বাসই করতে পারেননি ওই তরুণী আসলে পরভিন। তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে হেসে পরভিন জানিয়েছিলেন, তিনি শুটিং ছাড়া মেক আপ করেন না। পরভিন-বব বন্ধুত্ব বজায় ছিল দীর্ঘদিন।
১১২২ 11
একবার মু্ম্বইয়ে হঠাৎই এক লেখকের সঙ্গে আলাপ হয় বব ক্রিস্টোর। জানতে পারেন, তিনি প্রযোজক সঞ্জয় খানের জন্য ‘আবদুল্লা’ ছবির গল্প লিখছেন। এরপর বব চলে যান মাসকট। অদ্ভুত ভাবে সেখানে তিনি ফোন পান ওই লেখকের।
১২২২ 12
স্বল্প পরিচিত ওই লেখক বন্ধু ববকে জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজস্থানে ‘আবদুল্লা’-র শুটিংয়ে যেতে পারছেন না। তাঁর বদলে বব যদি যেতে পারেন, খুব ভাল হয়। রাজস্থানে গিয়েই সঞ্জয় খানের সঙ্গে প্রথম আলাপ ববের।
১৩২২ 13
ববের ব্যক্তিত্ব ও কথাবার্তা মুগ্ধ হয়ে যান সঞ্জয় খান। তিনি তাঁকে ‘আবদুল্লা’ ছবিতে অভিনয়ের অফার দেন। শর্ত রাখেন, বব ক্রিস্টোকে ন্যাড়া হতে হবে এবং দাড়ি রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান বব। ‘আবদুল্লা’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন জহ্লাদের ভূমিকায়। বলিউডে আসার পরেই তাঁর নাম রবার্ট থেকে হয়ে যান বব।
১৪২২ 14
পরে সঞ্জয় খানের টিভি সিরিয়াল ‘দ্য গ্রেট মরাঠা’-য় আহমেদ শাহ আবদালির ভূমিকাতেও উল্লেখযোগ্য অভিনয় করেছিলেন বব ক্রিস্টো। তার আগে ‘দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান’-এও অভিনয় করেছিলেন তিনি।
১৫২২ 15
সঞ্জয় খানের সূত্রে ফিরোজ খানের সঙ্গে আলাপ হয় বব ক্রিস্টোর। ফিরোজ তাঁকে সুযোগ দেন ‘কুরবানি’ ছবিতে। ক্রমে বলিউডে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন বব। দীর্ঘ কেরিয়ারে খলনায়ক ছাড়া অন্য ভূমিকায় অভিনয় করেননি বব ক্রিস্টো। খলনায়ক হিসেবেই দর্শকমনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
১৬২২ 16
তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে উল্লেখযোগ্য ছবি হল ‘কালিয়া’, ‘নমক হালাল’, ‘স্টার’, ‘তকদীর’, ‘নাস্তিক’, ‘জানি দোস্ত’, ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘বক্সার’, ‘অগ্নিপথ’, ‘গুপ্ত’, ‘প্রেম’, ‘রূপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ এবং ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’।
১৭২২ 17
অভিনয়ের জন্য আলাদা করে হিন্দি ভাষা শিখেছিলেন বব। মূল খলনায়ক, খলনায়কের সহকারী ছাড়াও তাঁর ইংরেজি টানে হিন্দি উচ্চারণের জন্য অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের ভূমিকাতেও অভিনয় করেছেন তিনি।
১৮২২ 18
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে অভিনয় কমিয়ে দেন তিনি। স্লিপ ডিস্ক-সহ নানারকম শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে ‘কসম’ মুক্তি পাওয়ার পরে দীর্ঘদিন অভিনয় করেননি বব। শেষ ছবি ‘আসন কে ফরিস্তে’ মুক্তি পেয়েছিল তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পরে ২০১৬ সালে।
১৯২২ 19
২০০০ সালে তিনি মুম্বই ছেড়ে চলে যান বেঙ্গালুরু। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন। বেঙ্গালুরুতে সঞ্জয় খানের বিলাসবহুল হোটেলে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু ২০০৬ সালে সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। হোটেলের চাকরি ছেড়ে দেন বব।
২০২২ 20
এরপর আত্মজীবনী লেখায় মন দেন তিনি। তাঁর আত্মজীবনীতে নিজের অভিনয় জীবনের অনেক বর্ণময় ঘটনা আছে। তাঁর রঙিন জীবন থেমে যায় ২০১১ সালের ২০ মার্চ। বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে প্রয়াত হন তিনি।
২১২২ 21
প্রয়াত বব ভারতে রেখে যান তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নার্গিস, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্তকে। নার্গিসেরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তাঁর প্রথম পক্ষের ছেলেকেও আপন করে নিয়েছিলেন বব। পরে তাঁর এবং নার্গিসেরও একটি ছেলে হয়।
২২২২ 22
ভারতে আসার পর নিজের পুরনো পরিচয় ভুলে গিয়েছিলেন বব ক্রিস্টো। বলিউডকেই করে নিয়েছিলেন নিজের জীবনের অংশ। হয়তো বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ কোনওদিন পাননি। কিন্তু যে টুকু সুযোগ পেয়েছেন, তার সাহায্যেই তারকা-মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

Advertisement

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন