Advertisement
E-Paper

বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসঘাঁটিতে হামলা! আরও তীব্র হবে বিশ্বের জ্বালানি-সঙ্কট? বিপদঘণ্টা শুনতে পাচ্ছেন ট্রাম্পও?

কাতারের রাস লাফরান শিল্পতালুকে থাকা গ্যাসঘাঁটি থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ এলএনজি রফতানি করা হয়। ইরানের হামলায় ওই ঘাঁটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৭
How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০১ / ১৯

আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট দেখা গিয়েছে। তবে জ্বালানিক্ষেত্রের দিক দিয়ে সেই সংঘাত আরও তীব্র মোড় নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাসঘাঁটি এবং একটি প্রধান এলএনজি (লিকুইফায়েড ন্যাচরাল গ্যাস) কেন্দ্রে হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০২ / ১৯

ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম বড় ঘাঁটি সাউথ পার্স। পারস্য উপসাগরের কাছে এই গ্যাসঘাঁটিতে হামলা হয় বুধবার। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবেই ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলছিল ইরান। তবে ট্রাম্পের দাবি, ওই হামলার বিষয়ে আমেরিকা কিছু জানতই না। ইজ়রায়েল তাদের না জানিয়েই হামলা করেছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৩ / ১৯

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার জানিয়েছে যে, ইজ়রায়েল আসালুয়েহের কাছে উপসাগরীয় উপকূল বরাবর অবস্থিত সাউথ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস। এই গ্যাসঘাঁটিটি ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণ করে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৪ / ১৯

উপকূলীয় এই গ্যাসঘাঁটিতে হামলার পরই প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। ইতিমধ্যে প্রত্যাঘাত করেও ফেলেছে দেশটি। কাতারের অন্যতম বড় গ্যাসঘাঁটি রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তেহরান। কাতার তো বটেই, এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের অন্যতম বড় ঘাঁটি।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৫ / ১৯

কাতারের রাস লাফরান শিল্পতালুকে থাকা এই ঘাঁটি থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি করা হয়। ইরানের হামলায় ওই ঘাঁটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে বিশেষ দল নিযুক্ত করেছে কাতার। আপাতত হতাহতের কোনও খবর নেই।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৬ / ১৯

সাউথ পার্স গ্যাসঘাঁটিতে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতারের জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পাঁচটি ইরানি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আঘাত হেনেছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৭ / ১৯

কাতারের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার নিন্দা করে জানিয়েছে, ইরানের হামলায় গ্যাসঘাঁটিটির বড় অংশে আগুন লেগে গিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতও করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কাতারের বিদেশ মন্ত্রক এ-ও জানিয়েছে, তারা ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসাবে ঘোষণা করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানি দূতাবাসের কর্মীদের কাতার ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৮ / ১৯

ইরানের গ্যাসঘাঁটিতে ইজ়রায়েলের হামলা এবং কাতারের গ্যাসঘাঁটিতে ইরানের হামলা পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের তেজ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে সরে গিয়ে ওই অঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে চলে গিয়েছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
০৯ / ১৯

বিশ্বের জ্বালানির বাজারে রাস লাফানের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে হয়। ইউরোপ, এশিয়া এবং তার বাইরেও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে রাস লাফান। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে গ্যাসক্ষেত্রটির কিছু অংশ ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের অন্যতম বড় ঘাঁটি সেই রাস লাফানেই এ বার হামলা চালাল ইরান।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১০ / ১৯

ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে। ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সহযোগী সংবাদসংস্থা তাসনিম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েলের ‘গুরুতর ভুলের’ জবাবেই তেহরান অন্যান্য দেশের জ্বালানিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করেছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১১ / ১৯

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ‘আরও অনেক কঠোর’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমেরিকা-ইজ়রায়েল এবং তাদের বন্ধুদের জ্বালানিঘাঁটির ওপর পরবর্তী হামলা তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত থামবে না।”

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১২ / ১৯

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানও সতর্ক করেছেন যে ইরানের জ্বালানি কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে পরিণতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসঘাঁটিতে ইজ়রায়েলের হামলার পর পেজ়েশকিয়ান সমাজমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডগুলি ইহুদি-মার্কিন এবং তাদের সমর্থকদের কোনও লাভ এনে দেবে না। বরং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং এমন অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করবে।”

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৩ / ১৯

ইরান এবং কাতারের মধ্যে বিভক্ত সাউথ পার্সও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যদিও কাতারের অংশ নর্থ ফিল্ড নামে পরিচিত। সাউথ পার্সও বিশ্বের অন্যতম এলএনজি শক্তিকেন্দ্র। মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে গ্যাসঘাঁটিটি। তবে বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও, পুরনো অবকাঠামো এবং সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ইরান বিদ্যুৎঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৪ / ১৯

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে ইরান। ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটার কারণে জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানিঘাঁটিগুলিতে আরও হামলার আশঙ্কায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ইতিমধ্যেই।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৫ / ১৯

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইজ়রায়েলের ইরানের গ্যাসঘাঁটিতে হামলা এবং কাতারের গ্যাসঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা বিশ্বের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বিপজ্জনক সঙ্কট ডেকে আনতে পারে। দুই গ্যাসঘাঁটিতে হামলার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৬ / ১৯

বিশেষজ্ঞদের অনেকে আবার মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই গ্যসঘাঁটিতে হামলার কারণে জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট অব্যাহত থাকতে পারে অনেক দিন। ফলে অনেক দেশই সমস্যার মুখে পড়তে পারে। রাস লাফানের মতো গ্যাসঘাঁটিতে আরও হামলার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৭ / ১৯

পুরো বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন ট্রাম্প। দাবি করেন, ইজ়রায়েল তাঁদের না জানিয়েই ইরানের গ্যাসঘাঁটিতে হামলা করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “এই হামলাটির বিষয়ে আমেরিকার বিন্দুমাত্র কোনও ধারণা ছিল না। কাতারও কোনও ভাবেই এর সঙ্গে জড়িত ছিল না। এমন কোনও হামলা যে হতে পারে, সে বিষয়েও কাতারের কোনও ধারণা ছিল না।” ট্রাম্পের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতেই ‘রেগে গিয়ে’ ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসঘাঁটিতে ‘মারাত্মক পর্যায়ে’ হামলা করেছে ইজ়রায়েল। হামলার জেরে সার্বিক গ্যাসঘাঁটির একটি ছোট অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৮ / ১৯

এর পরেই কাতারের গ্যাসঘাঁটিতে হামলা নিয়ে তেহরানকে সতর্ক করে দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকা বা কাতার যে ওই হামলায় জড়িত ছিল না, সে বিষয়ে কোনও সম্যক ধারণাই ছিল না ইরানের। সেই কারণে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অন্যায় ভাবে’ কাতারের এলএনজি ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করেছে তেহরান। তিনি ইরানকে আশ্বাস দিয়েছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সাউথ পার্স গ্যাসঘাঁটিতে ইজ়রায়েল আর কোনও হামলা করবে না। তবে শর্ত হল, ইরানও আর কাতারের উপর হামলা করতে পারবে না।

How Attacks on LNG Plants in Qatar and Iran Could Impact Global Gas Supply
১৯ / ১৯

ইরান যদি ফের কাতারে হামলা করে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে ইজ়রায়েল সাহায্য করুক বা না করুক, তাদের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক— পুরো সাউথ পার্স গ্যাসঘাঁটিকে ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বিশ্বের জন্য গ্যাসঘাঁটিগুলির গুরুত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট বোঝেন। আর বিপদঘণ্টা আগে থেকে শুনতে পেয়েছেন বলেই আগেভাগে সব পক্ষকে সাবধান করেছেন তিনি।

সব ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy