সরকারি টাকা নয়ছয়, স্থায়ী আমানতে আত্মসাৎ ১৬৯ কোটি টাকা! অবসরগ্রহণের দিন গ্রেফতার হরিয়ানার আইএএস কর্তা
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির মাধ্যমে হরিয়ানা সরকারের কোনও বিভাগেরই এইচএসপিসিবি-র মতো এত বড় আর্থিক ক্ষতি হয়নি। আর যাঁর সম্ভাব্য জালিয়াতির কারণে এই ক্ষতি হয়েছে, তিনি আইএএস কর্তা প্রদীপ।
১৬৯ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলা! অবসরের দিনই গ্রেফতার হলেন হরিয়ানার আইএএস অফিসার। অভিযুক্ত ওই আইএএস কর্তার নাম প্রদীপ কুমার। হরিয়ানার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (এইচএসপিসিবি)-র প্রাক্তন সদস্য-সচিব তিনি।
প্রদীপকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ফিক্সড ডিপোজ়িট বা স্থায়ী আমানত খোলার অজুহাতে চণ্ডীগড়ের আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের একটি শাখায় ১৬৯ কোটি টাকার সরকারি তহবিল স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রদীপের বিরুদ্ধে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির মাধ্যমে হরিয়ানা সরকারের কোনও বিভাগেরই এইচএসপিসিবি-র মতো এত বড় আর্থিক ক্ষতি হয়নি। আর যাঁর সম্ভাব্য জালিয়াতির কারণে এই ক্ষতি হয়েছে, তিনি আইএএস কর্তা প্রদীপ।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রদীপ ব্যক্তিগত ভাবে হরিয়ানার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজ তদারকি করতেন। অভিযোগ, নির্ধারিত এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে চণ্ডীগড়ের আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের সেক্টর-৩২ শাখায় তহবিল স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রদীপ।
অবসরের গ্রহণের আগে শেষ কর্মদিবসেই গ্রেফতার করা হয় প্রদীপকে। অর্থাৎ, বলা যায় অবসরগ্রহণের দিনই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন সিবিআইয়ের হাতে।
আরও পড়ুন:
প্রদীপ হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসেস আধিকারিক। পরবর্তী কালে আইএএস পদে উন্নীত হন তিনি। অভিযোগ, সেই প্রদীপই এইচএসপিসিবির সদস্য-সচিব থাকাকালীন দফতরের তহবিল জালিয়াতির ঘটনায় সরাসরি ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তবে সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে, যে তহবিলের মাধ্যমে জালিয়াতি হয়েছে, প্রথমে তা এমন একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল যা কোনও বিভাগীয় অনুমোদন বা সরকারি নথিপত্র ছাড়াই এইচএসপিসিবির নামে খোলা হয়েছিল। বাস্তবে কোনও ফিক্সড ডিপোজ়িট বা স্থায়ী আমানত কখনওই খোলা হয়নি।
এর পরিবর্তে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারণামূলক লেনদেন করা হয়েছিল, যার ফলে পুরো ১৬৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের দায়িত্ব যায় সিবিআইয়ের হাতে।
সিবিআই তদন্তে নামার পর ১৬৯ কোটির ওই জালিয়াতির ঘটনায় নাম জড়ায় আইএএস কর্তা প্রদীপের। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, বার বার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও প্রদীপ তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বার বার।
আরও পড়ুন:
এমনকি, পঞ্চকুলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদনও করেছিলেন তিনি। ২ জুলাই সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তবে তার আগেই গ্রেফতার হন প্রদীপ। জানা গিয়েছে, প্রদীপ কোথায় রয়েছেন, তা চিহ্নিত করার পর তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
এইচএসপিসিবি-র এই মামলাটি হরিয়ানা সরকারের আটটি বিভাগের মোট ৫০৪ কোটি টাকার একটি বড় ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির অংশ। অভিযোগ, ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন ফিক্সড ডিপোজ়িট এবং প্রতারণামূলক ডেবিট লেনদেনের মাধ্যমে সরকারের এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং পরে তা বিভিন্ন ‘শেল কোম্পানি’ বা ছায়া সংস্থার মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
রাজ্য সরকারের অনুরোধে হরিয়ানা স্টেট ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর কাছ থেকে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছিল সিবিআই। এখনও পর্যন্ত, এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি হরিয়ানার ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা করেছে।
১৭ অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক এবং এইউ স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্ক-এর ছ’জন কর্তা, হরিয়ানা সরকারের তিন জন কর্তা-সহ আরও ছ’জন ব্যক্তি। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে দু’টি সংস্থার নামও।
সরকারি তহবিল জালিয়াতি মামলায় হরিয়ানা সরকারের অভিযুক্ত তিন কর্তার মধ্যে এক জন প্রদীপ। বাকি দু’জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে আগেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
চণ্ডীগড় স্মার্ট সিটি লিমিটেড (সিএসসিএল) এবং চণ্ডীগড় রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রোমোশন সোসাইটি (সিআরইএসটি)-এর সঙ্গে জড়িত দুটি সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তও নিজের হাতে নিয়েছে সিবিআই। উভয় ক্ষেত্রেই চার্জশিট জমা পড়েছে এবং সিআরইএসটি মামলায় একজন ঊর্ধ্বতন আইএফএস কর্তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থের পুরো গতিপথ শনাক্ত করা, সেই অর্থের হদিস পাওয়া এবং এর জন্য দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলবে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।