‘বন্ধু’ শিখ নেতা সঙ্গ ছাড়ায় মাথায় হাত, উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধীরাও! ক্ষমতা হারাবেন জাস্টিন ট্রুডো?
২০১৩ সালে কানাডার লিবারেল পার্টির প্রধান হন ট্রুডো। সাধারণ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৫ সালে। ২০২১-এর নির্বাচনে জিতেও প্রধানমন্ত্রী হন।
পাশ থেকে সরে গিয়েছে বন্ধু। গদি টলমল কানাডার জাস্টিন ট্রুডো সরকারের। গত কয়েক দিনে এমন খবরই উঠে আসছে আন্তর্জাতিক মহলে।
২০১৩ সালে কানাডার লিবারেল পার্টির প্রধান হন ট্রুডো। সাধারণ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৫ সালে। ২০২১-এর নির্বাচনে জিতেও প্রধানমন্ত্রী হন।
ট্রুডো সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর ২০২২ সালে ‘বন্ধুত্ব’ হয় লিবারেল পার্টি এবং বামপন্থী এনডিপির।
এত দিন লিবারেল পার্টির অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিল জগমীত সিংহের নেতৃত্বাধীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। কিন্তু সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে সম্প্রতি।
আগামী বছর কানাডায় সাধারণ নির্বাচন। তার আগেই ট্রুডোর সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার কথা জানিয়ে দিয়েছে এনডিপি।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার এনডিপি নেতা জগমীত সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা দিয়ে ঘোষণা করেছেন, লিবারেল পার্টি কানাডাবাসীকে ‘হতাশ’ করেছে। তাই তাদের আর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
পাশ থেকে জগমীতের সমর্থন সরে যাওয়ায় রাজনৈতিক ভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন ট্রুডো। যদিও এখনই ট্রুডো সরকারের পতনের আশঙ্কা কম। তবে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোকে কানাডার আইনসভার নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ কমন্স’-এ অন্য বিরোধী সদস্যদের সমর্থন চাইতে হবে।
অন্য দিকে, কানাডার কনজ়ারভেটিভ পার্টির নেতা তথা আইনসভার বিরোধী দলনেতা পিয়েরে পোইলিভর জানিয়েছেন, জগমীতের অবিলম্বে নির্বাচনের আহ্বান জানানো উচিত।
গত কয়েক মাস ধরেই মুদ্রাস্ফীতি এবং আবাসন সঙ্কট নিয়ে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ট্রুডোকে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে জনরোষ।
আরও পড়ুন:
সে দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে এখনই যদি কানাডায় সাধারণ নির্বাচন করা যায়, তা হলে আখেরে লাভ হতে পারে কনজ়ারভেটিভদের। ক্ষমতা দখল করতে পারে তারা। আর সেই কারণই সময়ের আগেই যাতে নির্বাচন হয়, তার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন পিয়েরে।
যদিও এনডিপি আইনসভায় ট্রুডোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তবে ট্রুডো সরকার আপাতত নিরাপদ। কারণ, কানাডার আইনসভায় আপাতত নির্ণায়ক ক্ষমতা রয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ব্লক কুইবেকয়েসের ৩২ জন সদস্যের হাতে। যাঁরা আপাতত ট্রুডো এবং তাঁর সরকারের পাশেই রয়েছেন।
কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় আইনসভায় নতুন কোনও বিল বা আইন পাশ করা ট্রুডোর জন্য কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কানাডার আইনসভার নিম্নকক্ষের ৩৩৪টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি রয়েছে লিবারেল পার্টির হাতে।
কিন্তু কেন এমন দশা হল ট্রুডো এবং তাঁর দলের? বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে পারেনি ট্রুডো সরকার।
অন্য দিকে, সরকারের লেজুড় হয়ে থাকলেও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্প শুরুর জন্য সরকারকে চাপ দিতে সক্ষম হয়েছে এনডিপি।
উল্লেখ্য, জগমীত সমর্থন প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রুডো। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আপাতত যে দিকে নজর দেওয়া দরকার, আমরা সে দিকেই নজর দিচ্ছি। আমি সত্যিই আশা করি যে, এনডিপি রাজনীতিতে মন না দিয়ে কানাডাবাসীর কী ভাবে ভাল হয় সে দিকে মন দেবে।’’