সেনার গোপন তথ্য ফাঁস করে বেটিংয়ে কোটিপতি! বাহিনীতে জুয়ার আসক্তি বাড়াতে ‘সাট্টা বাজার’ খুলেছেন খোদ ট্রাম্প?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ অভিযানের গোপন তথ্য নিয়ে জুয়া খেলে রাতারাতি লাখ লাখ ডলারের মালিক হয়ে গিয়েছেন এক মার্কিন ফৌজি। তাঁকে গ্রেফতার করতেই প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্য দিকে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম খোলার কথা ঘোষণা করেছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প!
সেনার গোপন তথ্য ব্যবহার করে বেটিং! বাজি জিতে এক দিনে লক্ষ লক্ষ ডলার রোজগার। ইরান যুদ্ধের মধ্যে এ-হেন বিস্ফোরক অভিযোগে স্পেশাল ফোর্সের এক পদস্থ আধিকারিক গ্রেফতার হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে হেলদোল নেই একমাত্র আমেরিকার বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কারণ, তাঁর ছেলের ‘সাট্টা বাজারে’ই যে টাকা লাগিয়েছেন অভিযুক্ত ফৌজি। তবে কি ওয়াশিংটনের বাহিনীতে বাড়ছে জুয়ার আসক্তি? আর তাতে উৎসাহ দিচ্ছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধান? তুঙ্গে উঠেছে সেই বিতর্ক।
গ্রেফতার হওয়া মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের ওই আধিকারিকের নাম গ্যানন কেন ভ্যান ডাইক। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি অনুযায়ী, বাহিনীর ‘কমিউনিকেশন ইউনিট’-এ মোতায়েন ছিলেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের সময় ফৌজের গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে বেটিংয়ের অভিযোগ উঠলে তাঁকে হেফাজতে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় লগ্নি করে আসছেন আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার এই বাসিন্দা।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, মাদুরো অপহরণের মুখে ‘পলিমার্কেট’ নামের একটি অনলাইন সাট্টা বাজারে বেটিং করেন ভ্যান ডাইক। সেখানে মোট ১৩টি লেনদেনে ৩৩,০০০ ডলার বাজি ধরে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান তিনি। সংশ্লিষ্ট বেটিং প্ল্যাটফর্মটি থেকে ভ্যান চার লক্ষ ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় যেটা প্রায় ৩.৭৭ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন স্পেশাল ফোর্সের এই সেনাকর্মী।
গত বছরের (২০২৫ সাল) নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ ক্যারিবিয়ান সাগরে একের পর এক রণতরী নামিয়ে কারাকাসকে চক্রব্যূহে ঘিরে ফেলে ওয়াশিংটন। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি সেখানে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালায় মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানীতে ঢুকে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে আনে তারা। তদন্তকারীদের দাবি, এই অপারেশনের নীল নকশা পুরোপুরি জানা থাকায় সাট্টা বাজারে বেটিং করতে সুবিধা পেয়ে যান ভ্যান। বাজিতে প্রতিটা ক্ষেত্রে মিলতে থাকে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী। ফলে গুচ্ছ গুচ্ছ ডলারে অভিযুক্তর পকেট ভরে উঠতে বেশি সময় লাগেনি।
গ্রেফতারির পর নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে ভ্যানকে হাজির করানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া প্রাথমিক চার্জশিটে ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারের গোপন তথ্য ব্যবহার, ফৌজি নথি চুরি, জালিয়াতি এবং অবৈধ লেনদেনের মতো একাধিক অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা। ধৃত সেনাকর্মীর হয়ে এজলাসে কোনও আইনজীবীকে সওয়াল-জবাব করতে দেখা যায়নি। তবে ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার আড়াই লক্ষ ডলারের ব্যক্তিগত বন্ডে নর্থ ক্যারোলিনা ফেডারেল আদালতের থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
আরও পড়ুন:
২০০৮ সালে মার্কিন সেনায় যোগ দেন অভিযুক্ত ভ্যান। সম্প্রতি, নর্থ ক্যারোলিনার ফেয়েটভিল সংলগ্ন ‘ফোর্ট ব্র্যাগ’ সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিলেন তিনি। তদন্তকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় অন্তত সাতটি সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া রিয়েল এস্টেটের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের পরিচয় ফেয়েটভিলের একজন লগ্নিকারী এবং ‘প্রপার্টি ম্যানেজার’ বলে দিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার কথাও সেখানে উল্লেখ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম এবিসি নিউজ় জানিয়েছে, ভ্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর জুয়ার আসক্তি সংক্রান্ত একাধিক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী। সূত্রের খবর, বেটিং থেকে পাওয়া ডলার সরিয়ে ফেলতে একটি অনলাইন ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট খোলেন অভিযুক্ত সৈনিক। ‘সাট্টা বাজার’ থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রথমে সেখানে রাখেন তিনি। পরে ক্রিপ্টো মুদ্রার একটি বিদেশি ভল্টে সেগুলি পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আদালত সূত্রে খবর, মার্কিন সেনার ভেনেজ়ুয়েলা অভিযানের দিন ‘পলিমার্কেট’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে সিংহভাগ অর্থ তুলে নেন ভ্যান। এর ঠিক তিন দিন পর (৬ জানুয়ারি) বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হলে ই-মেল অ্যাক্সেস হারিয়ে গিয়েছে বলে দায়সারা গোছের জবাব দেন অভিযুক্ত ফৌজি। পরে সংশ্লিষ্ট সাট্টা বাজারের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁর থেকে অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধ পান ‘পলিমার্কেট’ কর্তৃপক্ষ। এর পর ভ্যানের কথামতো তাঁরা সেটা করেছেন কি না, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভ্যানের গ্রেফতারির পর এই তদন্তে উঠে আসে আরও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ‘পলিমার্কেট’ সাট্টা বাজারে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে খোদ প্রেসিডেন্টের পরিবারের। অনলাইন বেটিং ফার্মটির একটি গুরুত্বপূর্ণ লগ্নিকারী হল ‘১৭৮৯ ক্যাপিটাল্স’। এর মালিক ট্রাম্প-পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। অনলাইন বেটিং ফার্মটির পরামর্শদাতা হিসাবেও কাজ করছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেই কারণেই ভ্যান-কাণ্ডের জল বেশি দূর গড়াক তা একেবারেই চাইছেন না ট্রাম্প। গণমাধ্যমে অবশ্য এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাফ বক্তব্য, আমেরিকার সামরিক সাফল্যের উপর ভিত্তি করে জুয়া খেলেছেন ওই সৈনিক। এতে দোষের কিছু নেই। যদিও সাবেক সেনাকর্তারা এর কড়া নিন্দা করায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। ফলে কিছুটা বাধ্য হয়েই বেটিং প্ল্যাটফর্মের উপর তদন্ত চালু রেখেছেন ‘পোটাস’ (প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস)।
ভ্যানের গ্রেফতারিতে ‘পলিমার্কেট’ বিপাকে পড়লেও এর আর্থিক সমৃদ্ধিতে বেজায় খুশি হয়েছেন ট্রাম্প। তাই আগামী দিনে ‘ট্রুথ প্রেডিক্ট’ নামের একটি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম খোলার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। তবে ধৃত ফৌজির ব্যাপারে মতবদল করেছেন তিনি। বিষয়টি বেআইনি হওয়ায় কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। সাবেক সেনাকর্তাদের অবশ্য দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুশৃঙ্খল বাহিনীকে ভাড়াটে ও লুটেরা ফৌজে পরিণত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ বছরের ২২ এপ্রিল, বুধবার নৌসেনা সচিব জন ফেলানকে বরখাস্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল। সেখানে তিনি লিখেছেন, জনকে অবিলম্বে পদ থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর অপসারণের কারণ ব্যাখ্যা করেনি আমেরিকা। ওয়াশিংটনের গণমাধ্যমগুলির অবশ্য দাবি, প্রেসিডেন্টের আবাসন তথা কার্যালয় হোয়াইট হাউস এবং যুদ্ধ সদর দফতর পেন্টাগনের মতপার্থক্যের বলি হয়েছেন ফেলান।
মার্কিন সেনার ‘হাঁড়ির খবর’ ফাঁস করার ব্যাপারে সেখানকার ‘পলিটিকো’ নামের সংবাদমাধ্যমটির বেশ নামডাক রয়েছে। তাঁদের দাবি, পিট সচিব হওয়ার পর থেকেই পেন্টাগনের অন্দরে বেধে যায় ক্ষমতার লড়াই। কুর্সিতে বসা ইস্তক ফেলানকে পছন্দ করতেন না ট্রাম্পের ‘স্নেহধন্য’ হেগসেথ। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের কাজ যথেষ্ট ঢিমেতালে করছেন জন। যদিও এ ব্যাপারে দু’জনের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য রয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।
‘পলিটিকো’ জানিয়েছে, গত এক বছরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল রণতরী নির্মাণে যথেষ্ট ‘গা-ছাড়া’ মনোভাব দেখান জন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ডেপুটি স্টিফেন ফাইনবার্গকে সঙ্গে নিয়ে ধীরেসুস্থে এগোচ্ছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধিতে বিকল্প একটি পরিকল্পনার নীলনকশাও ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন ফেলান। সেখানে সমুদ্র আক্রমণকারী ড্রোনের গণউৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু, তাতে খুশি হওয়া তো দূর অস্ত, নৌসচিবের উপর যথেষ্ট বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জনের উপর ট্রাম্পের ‘মেজাজ বিগড়োনো’ একেবারে অমূলক নয়। সদ্য ভোটে জিতে গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) ডিসেম্বরে ফ্লরিডায় ‘মার-এ-লাগো’ রিসর্টে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে ‘সোনালি নৌবহর’ তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। ঠিক হয়, ‘গোল্ডেন ফ্লিট’-এর রণতরীগুলি পরিচিতি পাবে ট্রাম্প শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ হিসাবে। ওই সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন যুদ্ধসচিব হেগসেথ এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতিও দেন ‘পোটাস’।
ট্রাম্পের কথায়, ‘‘সোনালি নৌবহরে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী রণতরী। দৈত্যের মতো আকার নিয়ে সমুদ্রে দাপিয়ে বেড়াবে তারা। শুধু তা-ই নয়, এখনও পর্যন্ত তৈরি হওয়া যে কোনও যুদ্ধজাহাজের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে ওই সমস্ত রণতরী।’’ শপথ নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য ১,৭০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেন তিনি। কিন্তু, গোটা বিষয়টিতে বাদ সাধেন নৌসচিব জন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীর প্রয়োজনমাফিক যুদ্ধাস্ত্র কেনায় জোর দেন তিনি। এই নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাড়তে থাকে তাঁর দূরত্ব।
নৌসচিবের আগে আমেরিকার আর্মি চিফ অফ স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে ছাঁটাই করেন ট্রাম্প। গত ২ এপ্রিল তাঁকে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন হেগসেথ। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিনই সন্ধ্যার মধ্যে একটি বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দফতরের সদর কার্যালয় পেন্টাগন। সেখানে বরখাস্তের কথা বলা হয়নি। পেন্টাগনের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘আমেরিকার ৪১তম সেনা সর্বাধিনায়ক (আর্মি চিফ অফ স্টাফ) হিসাবে অবসরগ্রহণ করেছেন জেনারেল র্যান্ডি জর্জ।’’
সাবেক সেনাকর্তাদের বড় অংশ মনে করেন, ইরানেও ভেনেজ়ুয়েলার মতো সাফল্য পেতে চাইছেন ট্রাম্প। তেহরানের প্রত্যাঘাতের জেরে বাস্তবে তা অসম্ভব। জেনারেল জর্জ হয়তো সেটাই ‘একগুঁয়ে’ প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, যার জেরে চাকরি হারাতে হয় তাঁকে। বাইডেন জমানায় আর্মি চিফ অফ স্টাফ হিসাবে নিয়োগপত্র পান জর্জ। তাঁর অপসারণের প্রভাব বাহিনীর নিচুতলায় পড়লে পশ্চিম এশিয়ায় লড়াইয়ের মধ্যে পরিস্থিতি যে জটিল হবে, তা বলাই বাহুল্য।
পেন্টাগনের দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জর্জের পাশাপাশি এপ্রিলে সেনা প্রশিক্ষক বিভাগের (আর্মি ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড) অফিসার জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং চ্যাপলেন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করেন হেগসেথ। সূত্রের খবর, ট্রাম্পের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজতে চাইছেন তিনি। এর জেরে তাঁর কলমের খোঁচায় চাকরি যাচ্ছে একের পর এক শীর্ষ সেনা অফিসারের।
এ বছরের নভেম্বরে আমেরিকায় রয়েছে ‘মধ্যবর্তী’ বা ‘মিড টার্ম’ নির্বাচন। ভোটের আগে ইরান যুদ্ধ, পদস্থ সেনাকর্তাদের ছাঁটাই এবং স্পেশাল বাহিনীর সৈনিকের বেটিং প্ল্যাটফর্মে জুয়া খেলার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া রাজনীতির জল যে ঘোলা হচ্ছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটের সময় যাবতীয় অভিযোগ ট্রাম্প কী ভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার।