Nargis Ended Relationship with Married Actor Raj Kapoor After Catching Him with Another Woman in Bedroom dgtl
Bollywood Gossip
বিবাহিত অভিনেতার সঙ্গে পরকীয়া, বেডরুমে অন্য মহিলার সঙ্গে নায়ককে দেখে সম্পর্কে ইতি টানেন বলি নায়িকা
প্রেমিক-অভিনেতার আসার সময় পেরিয়ে গেলে তাঁর বাড়িতে চলে যান নায়িকা। বাড়িতে ঢুকে পড়ে সোজা অভিনেতার বেডরুমের দিকে হাঁটা লাগান তিনি। আচমকা বেডরুমে ঢুকে পড়ে অভিনেতাকে এমন অবস্থায় দেখে ফেলেন যে, সেই মুহূর্তেই সম্পর্কে দাঁড়ি টানার সিদ্ধান্ত নেন নায়িকা।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
Share:Save:
এই খবরটি সেভ করে রাখার জন্য পাশের আইকনটি ক্লিক করুন।
০১২৩
বিয়ের এক বছরের মধ্যেই এক বলি নায়িকার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। বড়পর্দায় জুটি বেঁধে একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করেছেন তাঁরা। নায়িকা-প্রেমিকার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তাও নিতেন অভিনেতা। কিন্তু সম্পর্ককে বৈধতা দিতে চাইতেন না কখনওই।
০২২৩
তিনি বলিউডের ‘শোম্যান’। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্টুডিয়ো নির্মাণেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন রাজ কপূর। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল অভিনেত্রী নার্গিসের।
০৩২৩
চল্লিশের দশক থেকে পঞ্চাশের দশকের মধ্যে বলিপাড়ায় বহুলচর্চিত ছিল রাজ-নার্গিসের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। ১৯৪৬ সালে কৃষ্ণা মলহোত্রকে বিয়ে করেছিলেন রাজ। বিয়ের এক বছরের মাথায় নার্গিসের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল রাজের।
০৪২৩
নার্গিসের মা বিভিন্ন নামকরা স্টুডিয়োয় ‘রোমিয়ো অ্যান্ড জুলিয়েট’ ছবির শুটিংয়ের জন্য ঘোরাফেরা করছিলেন। স্টুডিয়ো নির্মাণের জন্য পরামর্শ নিতে নার্গিসের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজ। সে দিনই নার্গিসকে প্রথম দেখেছিলেন তিনি।
০৫২৩
রাজ যখন নার্গিসের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছোন, তখন নার্গিসই দরজা খুলেছিলেন। সেই সময় নার্গিস পকোড়া বানাচ্ছিলেন। কাজ করতে করতেই দরজা খুলতে গিয়েছিলেন তিনি। নার্গিসের চুল-হাত তখন বেসনে মাখামাখি। এই অবস্থায় নায়িকাকে প্রথম দেখেই তাঁর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন রাজ।
০৬২৩
নার্গিসকে প্রথম দেখার দৃশ্য রাজকে এমন ভাবে প্রভাবিত করেছিল যে, তিন দশক পর তাঁর পরিচালিত এবং প্রযোজিত একটি ছবির রোম্যান্টিক দৃশ্য হিসাবে এই ঘটনাটি বড়পর্দায় তুলে ধরেছিলেন রাজ। ১৯৭৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ববি’। ছবিতে রাজের পুত্র ঋষি কপূর এবং ডিম্পল কপাডিয়াকে এই দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা যায়।
০৭২৩
নার্গিসের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় রাজের। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ৮ বছরের মধ্যে ১৬টি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন নার্গিস এবং রাজ। ‘আওয়ারা’, ‘শ্রী ৪২০’, ‘বরসাত’, ‘অন্দাজ়’, ‘চোরি চোরি’র মতো উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেন দুই তারকা।
০৮২৩
১৯৪৮ সালে মুম্বইয়ে প্রযোজনা সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন রাজ। সেই সংস্থার লোগোতেও প্রভাব পড়েছে নার্গিস-রাজের প্রেমকাহিনির। সংস্থার লোগোয় দেখা যায়, এক তরুণের এক হাতে বেহালা এবং অন্য হাত এক তরুণীর কোমরে। বলিপা়ড়ার অধিকাংশের দাবি, রাজ এবং নার্গিস অভিনীত ‘বরসাত’ ছবি থেকেই এই লোগো নির্মাণ করা হয়েছে।
০৯২৩
বলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, রাজের প্রযোজনা সংস্থা যখন লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিল তখন অভিনেতাকে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন নার্গিস। এমনকি, সেই সময় অভিনেত্রী নাকি নিজের কেরিয়ারের চেয়ে রাজের সাফল্য নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।
১০২৩
নার্গিসের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে বেশ খোলামেলা ছিলেন রাজ। এক দিকে, কৃষ্ণাকে তিনি তাঁর সন্তানদের মা হিসাবে পরিচয় দিতেন। অন্য দিকে, তাঁর ছবিগুলির ‘মা’ হিসাবে পরিচয় দিতেন নার্গিসের। কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে, রাজ নাকি তাঁর বেডরুমেও নার্গিসের একটি ছবি বাঁধিয়ে রেখেছিলেন।
১১২৩
নার্গিসের প্রেমে হাবুডুবু খেলেও সেই সম্পর্কে বৈধতা দিতে রাজি ছিলেন না রাজ। কৃষ্ণাকে বিবাহবিচ্ছেদ দিয়ে নার্গিসকে বিয়ে করার কোনও চিন্তাভাবনা ছিল না রাজের। অন্য দিকে, নার্গিস নাকি রাজকে বিয়ে করা নিয়ে আকাশকুসুম ভেবে ফেলেছিলেন।
১২২৩
শোনা যায়, বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করার কোনও আইন রয়েছে কি না তা জানতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের শরণাপন্ন হয়েছিলেন নার্গিস। তবে, অভিনেত্রীর মন ভেঙে দিয়েছিলেন রাজই।
১৩২৩
বলিপাড়ার গুঞ্জন, ১৯৫৬ সালের পর থেকে রাজের সঙ্গে মনোমালিন্য হতে শুরু করে নার্গিসের। বলি অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে রাজের। সেই কথা কানে এসেছিল নার্গিসের। তা জানার পর রাজের প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে যান নায়িকা।
১৪২৩
কেরিয়ার সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নাকি রাজের সঙ্গে আলোচনা করতেন নার্গিস। কিন্তু তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় রাজকে না জানিয়েই মেহবুব খানের ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান নার্গিস। রাজের সঙ্গে তা নিয়ে মতবিরোধ হলেও সেই ছবিটি অবশ্য বক্সঅফিসে দারুণ ব্যবসা করে।
১৫২৩
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘মাদার ইন্ডিয়া’র শুটিং চলাকালীন সেটে একসময় আগুন লেগে গিয়েছিল। তখন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আগুনে ঝাঁপিয়ে নার্গিসকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন তাঁর সহ-অভিনেতা সুনীল দত্ত। কানাঘুষো শোনা যায়, সুনীলের সাহসিকতা দেখে তাঁর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন নার্গিস।
১৬২৩
রাজের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও সেই সম্পর্কে জুড়ে থাকার চেষ্টা করছিলেন নার্গিস। শোনা যায়, রাজের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে বাইরে ঘুরতে যাবেন বলে সাজগোজ করে নিজের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন নার্গিস। অভিনেত্রীর বাড়িতে এসে তাঁকে নিয়ে বেরোনোর কথা ছিল রাজের। কিন্তু রাজের জন্য অপেক্ষা করতে করতে বেরোনোর সময় পার হয়ে যায়।
১৭২৩
রাজের আসার সময় পেরিয়ে গেলে অভিনেতার বাড়িতে চলে যান নার্গিস। বাড়িতে ঢুকে পড়ে সোজা রাজের বেডরুমের দিকে হাঁটা লাগান নায়িকা। আচমকা বেডরুমে ঢুকে পড়ে রাজকে এমন অবস্থায় তিনি দেখে ফেলেন যে, সেই মুহূর্তে সম্পর্কে দাঁড়ি টানার সিদ্ধান্ত নেন নার্গিস।
১৮২৩
রাজের বেডরুমে ঢুকে নার্গিস দেখেছিলেন যে, অভিনেতা তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণাকে নেকলেস পরিয়ে দিচ্ছেন। সামনাসামনি এই দৃশ্য দেখে রাজের জীবনে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট হয়ে যায় নার্গিসের। পরকীয়া সম্পর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।
১৯২৩
রাজের সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টেনে সুনীলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন নার্গিস। ১৯৫৮ সালে সুনীলকে বিয়েও করেন অভিনেত্রী। নার্গিসের সঙ্গে বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি রাজ। প্রেমিকাকে হারানোর দুঃখে বাড়িতে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ঢুকেছিলেন রাজ।
২০২৩
কৃষ্ণা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, এক রাতে মদ খেয়ে প্রচুর কান্নাকাটি করছিলেন রাজ। বাথটাবের ভিতর শুয়ে পড়েছিলেন তিনি। নার্গিসকে ভোলার জন্য বার বার নিজের শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিয়েছিলেন অভিনেতা।
২১২৩
সুনীলকে বিয়ের পর রাজের সঙ্গে আর কোনও ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি নার্গিসকে। এমনকি, দুই তারকার মধ্যে কথোপকথনও বন্ধ ছিল। দুই দশক পর রাজের পুত্রের সূত্রে আবার দেখা হয়েছিল রাজ-নার্গিসের।
২২২৩
কানাঘুষো শোনা যায়, ১৯৮০ সালে রাজের পুত্র ঋষি কপূরের বিয়ে উপলক্ষে নার্গিসকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কৃষ্ণা নিজেই। সেই নিমন্ত্রণ রক্ষাও করেছিলেন নার্গিস।
২৩২৩
১৯৮১ সালের মে মাসে মারা যান নার্গিস। তাঁর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ। নার্গিসের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘‘নার্গিসের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার জীবনের একটা বড় অংশেরও মৃত্যু হল।’’ নার্গিসের মৃত্যুর সাত বছর পর ১৯৮৮ সালে প্রয়াত হন রাজ।