Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Shaheena Attarwala: স্লাম ডগ বিলিওনেয়ার্স! মুম্বইয়ের ছোট্ট বস্তি থেকে মাইক্রোসফটের বড়কর্তা!

নিজস্ব সংবাদদাতা
মুম্বই ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:১৪
বড় হয়ে ওঠা বস্তি এলাকায়। ঘুমোতে হত রাস্তায়। দু’বেলা ঠিক করে খাওয়ারও সামর্থ ছিল না। নিজের কম্পিউটার কেনা? সে তো স্বপ্নাতীত! সেই মেয়েই এখন দুনিয়ার অন্যতম বড় সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফটের ডিজাইন বিভাগের প্রধান।

নাম শাহিনা আত্তারওয়ালা। সম্প্রতি টুইটারে তাঁর জীবন কাহিনি তুলে ধরা ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে।
Advertisement
সেই ভিডিয়োয় শাহিনা নিজের মুখে তাঁর জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের সঙ্গে লড়াই করে উঠে দাঁড়ানোর কাহিনি শুনিয়েছেন।

সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের ‘ব্যাড বয় বিলিওনেয়ার্স: ইন্ডিয়া’ ওয়েবসিরিজে মুম্বইয়ের বস্তি এলাকার একটি দৃশ্যে নিজের পুরনো বাড়ি দেখার পরে আপ্লুত হয়ে তিনি ওই টুইট করেন।
Advertisement
শাহিনা লেখেন, ‘ওই ওয়েবসিরিজে মুম্বইয়ের বস্তি এলাকার যে বাড়িগুলি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে একটি বাড়ি আমার। আমি ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই বাড়িতেই থেকেছি।’

বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে দরগা গলি বস্তিতে থাকতেন শাহিনা। তাঁর বাবা বাড়িতে বানানো তেল ফেরি করতেন। তাঁর পরিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে মুম্বই চলে আসে।

প্রথম বার স্কুলে কম্পিউটার দেখার পর থেকেই কম্পিউটার নিয়ে তাঁর আগ্রহ জন্মায়। আগ্রহ দেখে, বাবা টাকা ধার করে মেয়েকে স্থানীয় কম্পিউটার ক্লাসে ভর্তি করেন।

নিজের কম্পিউটার কিনতে শাহিনা না খেয়ে দুপুরের খাবারের টাকা জমাতে শুরু করেন। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্কুলছাত্রীকে।

এক সাক্ষাত্কারে শাহিনা বলেন, ‘‘বস্তির জীবন খুব কঠিন ছিল এবং আমাকে যৌন হয়রানির মুখোমুখিও হতে হয়েছিল।’’

শাহিনার কথায়, ‘‘১৫ বছর বয়সের মধ্যেই আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি আমার চারপাশে অনেক মহিলাকে অসহায়ভাবে নির্যাতিত হতে দেখেছি। বেশিরভাগ বিষয়েই স্বাধীনতা ছিল না।’’

তবে এই জীবন মেনে নিতে চাননি শাহিনা। সেই জেদ সম্বল করেই এগোতে থাকা। শেষে মাইক্রোসফটে চাকরি।

তবে নিজের সাফল্যের জন্য বরাবর বাবাকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে বি.কম-এ স্নাতক হন শাহিনা। পরে তিনি এনআইআইটি থেকে ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডিজাইনে ডিপ্লোমা করেন।

ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনো শেষ করে তিনি বিভিন্ন সংস্থার পণ্যের ডিজাইন শুরু করেন।

এর পরই গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে তাঁর ঝুলিতে আসে মাইক্রোসফটের চাকরি। ধীরে ধীরে ডিজাইন বিভাগের প্রধান হন।

নিম্নবিত্ত বা বস্তি এলাকার মহিলা, যাঁরা জীবনের প্রতিকূলতাকে হার মানাতে চান, সেই মেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগাবে শাহিনার জীবনের গল্প।

সম্প্রতি শাহিনা বলেছেন, ‘‘দেশে লাখ লাখ পরিবার আমারই মতো দারিদ্রের মধ্যে বাস করে। যে দারিদ্র আপনাদের চোখে পড়ে না। আশার আলো এটাই যে, ক্ষমতায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের এক জন গড়পড়তা শিক্ষিত ভারতবাসীও প্রশ্ন করতে পারেন এবং এর ফলে তাঁদের জীবনে বদল আসতে পারে।’’

শাহিনা বিয়ে করেছেন। গোছানো সংসার। সঙ্গী, স্বামী এবং বছর খানেকের এক সন্তান।