ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা সমকামী! গোয়েন্দা তথ্য শুনেই হেসে ওঠেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা ব্রিফিং চলাকালীন নাকি এই তথ্য তুলে ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, এই গোপনীয় ব্রিফিংটি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি মার্কিন কর্তাদের পর্যালোচিত গোয়েন্দা মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল।
ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বেঁচে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। আমেরিকার দাবি, মার্কিন হামলায় মৃত্যু হয়েছে মোজতবার। যদিও ইরান বলছে, সর্বোচ্চ নেতা আহত হলেও বেঁচে আছেন এবং নিরাপদে আছেন। রাশিয়াতে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে যখন এত চর্চা চলছে, তখন তুঙ্গে উঠল তাঁকে নিয়ে আরও এক জল্পনা। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা সমকামী হতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা ব্রিফিং চলাকালীন নাকি এই তথ্য তুলে ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, এই গোপনীয় ব্রিফিংটি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি মার্কিন কর্তাদের পর্যালোচিত গোয়েন্দা মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল।
সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিফিংয়ের সময় মোজতবার সমকামী হওয়ার সম্ভাবনার কথা শুনে প্রথমে অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার পর নাকি হেসে ফেলেন উচ্চস্বরে।
সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘ট্রাম্প তাঁর বিস্ময় ধরে রাখতে পারেননি এবং গোয়েন্দা তথ্যটি শোনার পর উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।’’ কক্ষে উপস্থিত অন্যরাও কৌতুকবোধ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন:
রবিবার ‘সিবিএস নিউজ়’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মোজতবার ‘ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার’ কারণে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে তাঁকে নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধিতা করেছিলেন খোদ তাঁর বাবা প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তবে কোন ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে পুত্রের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া নিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন আলি খামেনেই, তা খোলসা করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। ঘটনাচক্রে, সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই এ বার চাঞ্চল্যকর অন্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হল নিউ ইয়র্ক পোস্টে।
কিন্তু মোজতবার সমকামী হওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য? সত্যিই কি সমকামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা? নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার দুজন কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাঁদের কাছে এই দাবিটি প্রকাশ করেছেন। ওই তিন জন নাকি সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন যে, কোনও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা করছেন না তাঁরা। এই তথ্যকে নাকি বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী সূত্রগুলি জানিয়েছে যে, অবিশ্বাস্য শোনালেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মোজতবার সমকামী হওয়ার দাবিটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করছেন। অন্য একটি সূত্রও নাকি আমেরিকার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে যে, এই গোয়েন্দা তথ্যটি সরকারের সবচেয়ে সুরক্ষিত সূত্রগুলির একটি থেকে পাওয়া গিয়েছে।
আর একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় যে তথ্যটির উপর অনেকেরই যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন গোয়েন্দারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মোজতবা সম্ভবত এক জন পুরুষের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে সম্পর্কে ছিলেন এবং তিনি সম্ভবত ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার শৈশবের গৃহশিক্ষক ছিলেন।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দু’টি সূত্র জানিয়েছে, সম্পর্কটি অনেক দিন ধরে চলেছিল। অন্য দিকে তৃতীয় আর একটি সূত্র আবার জানিয়েছে যে, মোজতবার সঙ্গী পূর্বে খামেনেই পরিবারের জন্য কাজ করতেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় মোজতবা পুরুষ পরিচর্যাকারীদের প্রতি ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ করে থাকতে পারেন।
তবে প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে মোজতবার সমকামী হওয়ার দাবির সমর্থনে কোনও ছবি বা অন্য কোনও প্রমাণ নেই। তবে উদ্ধৃত সূত্রগুলি জোর দিয়ে বলেছে যে তথ্যটি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে তারা।
সূত্রগুলি সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি নিহত হওয়ার পর ইরানের রাজনৈতিক মহলে মোজতবার যৌন পরিচয় নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল।
প্রতিবেদনটিতে মোজতবার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে পূর্ববর্তী তথ্যেরও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের নথি অনুযায়ী, মোজতবা প্রায় ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন।
মোজতবার পরিবারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় নাকি তার আগে বিয়ে করতে পারেননি তিনি। তবে বিয়ের পর মোজতবা দ্রুত সন্তানের বাবা হবেন বলে তাঁর পরিবার আশা করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের জন্য বিষয়টি যথেষ্ট সংবেদনশীল। ইরানে সমকামিতা অবৈধ এবং দেশটির আইন অনুযায়ী এর জন্য কঠোর ফৌজদারি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও মোজতবার সমকামী হওয়ার বিষয়টিকে ভুয়ো এবং মিথ্যা বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষজ্ঞদের ওই অংশের দাবি, মোজতবা সমকামী নন এবং তাঁর সম্মানহানি করার জন্যই ওই ধরনের ভুয়ো বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মোজতবার বাবা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গেই মার্কিন হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রী জ়াহরা এবং কিশোর পুত্র মহম্মদ বাঘেরের। মনে করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আরও এক পুত্র এবং কন্যা রয়েছে।