মোহনবাগানের বিরুদ্ধে টানা সাতটি ডার্বি জিততে না পারার যন্ত্রণা শুধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেদের মধ্যেই নয়, গ্রাস করেছে ফুটবলারদেরও।

রবিবার যুবভারতীতে দ্বিতীয়ার্ধে সামনে একা সবুজ-মেরুন গোলরক্ষক শিল্টন পালকে পেয়েও গোল করতে পারেননি মহম্মদ আল আমনা। এ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের কাছে জিততে না পারার অনুশোচনায় ক্ষমা চাইলেন তিনি। আমনা লিখেছেন, ‘‘ডার্বি জিততে না পারার জন্য সমর্থকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা কিন্তু নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও জিততে পারিনি।’’ 

এখানেই শেষ নয়। আমনা আরও বলেছেন, ‘‘চোখে সংক্রমণ হওয়ায় গত চার দিন ধরে আমি অস্বস্তিতে রয়েছি। ডাক্তার আমাকে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেই মাঠে নেমেছিলাম। কারণ, এই ম্যাচটার গুরুত্ব কী তা আমি খুব ভালই জানি।’’ শুধু ক্ষমাপ্রার্থনা নয়, সমর্থকদের কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন লাল-হলুদের এই তারকা ফুটবলার। তিনি লিখেছেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ছাড়া ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম না। আপনারাই দলের প্রাণ। জয় ইস্টবেঙ্গল।’’

আমনার আবেগঘন বার্তা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শুরু করে দিলেন আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস। চব্বিশ ঘণ্টা আগেই বড় ম্যাচের সকালে ফিজিক্যাল ট্রেনার ও ভিডিয়ো অ্যানালিস্টকে নিয়ে কলকাতায় পা দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ‘বি’ দলে কোচিং করানো আলেসান্দ্রো। যুবভারতীতে ডার্বিও দেখেন। স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে প্রশংসা করেন, দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু ফুটবলের। 

সোমবার বিকেলেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতে দুই সহকারীকে নিয়ে আলেসান্দ্রো চলে আসেন ভবিষ্যতের রূপরেখা প্রস্তুত করতে। প্রায় ঘণ্টাখানেক আলোচনা করেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুভাষ ভৌমিক, কোচ বাস্তব রায়, সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরী-সহ ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লাল-হলুদ শিবিরের টিডির কাছ থেকে তিনি জেনে নেন, কবে থেকে অনুশীলন শুরু হয়েছে ক্লাবের। কোন কোন দিন কত ঘণ্টা করে অনুশীলন করেন আমনা, কিংশুকরা। এ ছাড়াও ফুটবলারদের খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রাম, জিম নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে চান এই স্প্যানিশ কোচ। ঘুরে দেখেন লাল-হলুদের কাফেটেরিয়া, জিমন্যাসিয়াম, জাকুজি, মাঠ। তবে প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলতে চাননি তাঁরা।

প্রশ্ন উঠছে, ইস্টবেঙ্গলে আসিয়ান কাপ জয়ী কোচ সুভাষের  ভবিষ্যৎ নিয়ে। সুভাষও এ দিনও প্রচারমাধ্যমকে এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে ক্লাবের শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘কলকাতা লিগে কোনও কোচ বদল হচ্ছে না। অনুশীলন বা ম্যাচ দেখতে আলেসান্দ্রো আসবেন কি না সেটা তিনিই ঠিক করবেন।’’ ক্লাব সূত্রে খবর, কলকাতা লিগের পরে ক্লাবের বিনিয়োগকারী সংস্থার তরফে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে আলেসান্দ্রোর হাতে।