স্টিভ স্মিথকে ‘স্লেজ’ করার অপরাধে লর্ডসের প্যাভিলিয়ন থেকে বার করে দেওয়া হল এক এমসিসি সদস্যকে। নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টেস্টের চতুর্থ দিনের ঘটনায়।

শনিবার অস্ট্রেলীয় ইনিংস চলাকালীন জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে চোট পেয়ে একটা সময় বেরিয়ে যেতে হয়েছিল স্মিথকে। পরে আবার নেমে ৯২ রান করে আউট হন তিনি। স্মিথ যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, তখনই তাঁর উদ্দেশে কটূক্তি করেন ওই সদস্য। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী, ওই সদস্য নাকি স্মিথকে ‘প্রতারক’ এবং ‘লজ্জা’ বলেছিলেন। এর পরে সেই এমসিসি সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সেই সদস্যের কোনও পরিচয় জানা যায়নি।

এই বছরের মে মাসে এমসিসি তাদের আচরণবিধিতে নতুন এক নিয়ম এনেছে। যেখানে বলা হয়েছে, কারও প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করলে বা অপমানসূচক কোনও কথা বললে, সেই সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হবে। যার জেরে মনে করা হচ্ছে, ওই সদস্যকে ক্লাব থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে। 

স্মিথকে ওই ভাবে বিদ্রুপ করার ঘটনা ভাল ভাবে নেননি অনেকেই। পুরো ঘটনায় ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও স্কট মরিসনও। তিনি বলেছেন, ‘‘স্মিথ যে ভাবে খেলল তাতে ওর শুধু সম্মানই প্রাপ্য।’’ স্মিথকে যে কেউ কেউ বিদ্রুপ করছে, সে দিনই টের পেয়েছিলেন মাইকেল ভনের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা। ভন টুইট করেন, ‘‘দয়া করে স্মিথকে বিদ্রুপ করা বন্ধ করুন। ও যে ইনিংসটা খেলে গেল, তার পরে স্মিথকে দাঁড়িয়ে উঠে সবার অভিনন্দন জানানো উচিত।’’ 

আর্চারের বলে আহত হওয়ার পরেও যে ভাবে স্মিথ লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন, তাতে মুগ্ধ ক্রিকেট দুনিয়া। এমনকি লর্ডসে উপস্থিত দর্শকের একটা বড় অংশই সে দিন উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ব্যতিক্রমও ছিল। 

এক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বল-বিকৃতি কাণ্ডে জড়িয়ে নির্বাসনের কোপে পড়েন স্মিথ। শাস্তি উঠে গেলেও তাঁকে এখনও বিদ্রুপের শিকার হতে হচ্ছে।