টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের ধাক্কা পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে। শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মিতালি রাজকে বসানো নিয়ে উত্তাল দেশের ক্রিকেট মহল। মিতালির ম্যানেজার অন্বেষা গুপ্তের বিস্ফোরক টুইট আগুনে ঘি ঢেলেছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘হরমনপ্রীত এক জন মিথ্যেবাদী, প্রতারক অধিনায়ক। যে টিমের মধ্যে কুপ্রভাব তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত ভারতীয় ক্রিকেটে মেয়েদের দল খেলায় নয়, রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’’  

মনে করা হচ্ছে, আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে আগামী কয়েক দিনে। অপমানিত মিতালি নিজে মুখ খোলেন কি না, সেই আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়াও জানা গিয়েছে, মেয়েদের জাতীয় নির্বাচক কমিটির সকলে মিতালির বাদ পড়াকে সমর্থন করেননি। বরং কেউ কেউ উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের মনোভাব পরিষ্কার করে দিতে তৈরি। তাঁরা নিশ্চিত ভাবেই মনে করছেন, মিতালিকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। 

কোহালিদের মতোই মিতালিদের ক্রিকেটেও প্রথম একাদশ বাছার ব্যাপারে নির্বাচকদের কোনও ভূমিকা থাকে না। পাশাপাশি এটাও ঠিক যে,  মিতালির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সেমিফাইনালের মতো স্নায়ুর চাপের ম্যাচে বাদ দেওয়া হল কেন, এই প্রশ্ন থেকেও তাঁরা দূরে থাকতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ঘরে ফিরলে এ নিয়ে বৈঠক ডাকা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় অনেকে।   

প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, হরমনপ্রীত কৌর কি মহিলা ক্রিকেটের মহেন্দ্র সিংহ ধোনি হিসেবে উদয় হলেন? ধোনি অধিনায়ক হওয়ার পরে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়ের মতো অভিজ্ঞ এবং কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল তর্ক-বিতর্কও হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। 

ভারতে মহিলা ক্রিকেটের দুই সেরা কিংবদন্তি ঝুলন গোস্বামী এবং মিতালি রাজ। বোলিংয়ে যেমন ওয়ান ডে ক্রিকেটে ঝুলন বিশ্বের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, তেমনই মিতালি বিশ্বের সর্বোচ্চ রান স্কোরার। কয়েক দিন আগেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহালিদের টপকে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরারও হয়েছেন মিতালি। যা নিয়ে নানা জগতের তারকারা পর্যন্ত তাঁকে টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: দলের স্বার্থেই বাদ মিতালি, আফসোস নেই অধিনায়কের

দুই কিংবদন্তির মধ্যে ঝুলন নিজেই টি-টোয়েন্টি থেকে সরে গিয়েছেন, মিতালি বাদ প়ড়ে গেলেন। নতুন অধিনায়ক হরমনপ্রীতের জমানায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ দেখা দিলেও নির্বাচকদের মধ্যে এখনও সমর্থনহীন হননি, এটাই মিতালির জন্য সুখবর। যদিও এই বিশ্বকাপেই প্রথমে ওপেনারের জায়গা হারিয়েছেন মিতালি। তার পরে দল থেকেও বসিয়ে দেওয়া হল। এর পর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা তাই একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক নয়।     

আরও পড়ুন: মেরিকে হারানো কঠিন, মানছেন প্রতিদ্বন্দ্বী হানা

হরমনপ্রীত যে ভাবে ম্যাচের পরে এসে মিতালিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আগ্রাসী ভাবে সমর্থন করে গিয়েছেন, তা দেখে আবার কেউ কেউ বিস্মিত। স্পর্শকাতর বিষয় বলে এঁরা কেউ মন্তব্য করতে চাইছেন না এখনই। কিন্তু ভিতরে ভিতরে মানছেন যে, মিতালির মতো পারফর্মার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে নিয়ে হরমনপ্রীতের মতো তরুণ অধিনায়কের ব্যক্তিত্ব সংঘাতের প্রশ্নই থাকা উচিত নয়। 

ভারতীয় বোর্ডে এখন সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের (সিওএ) অন্যতম সদস্য ডায়না এডুলজি। তিনি নিজে মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি। মিতালি বিতর্কে তাঁর ভূমিকা কী হয়, সেটা দেখার অপেক্ষায় অনেকে।