ইডেনে গোলাপি বলে ঐতিহাসিক দিনরাতের টেস্টে অন্যতম প্রধান অতিথি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন সিএবি-র শীর্ষ কর্তারাও।

শনিবার বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান-সহ শেখ হাসিনার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ২১ সদস্যের দল ইডেন ঘুরে দেখেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ইডেনে প্রবেশপথ, মাঠের মধ্যে অনুষ্ঠানের সময় তাঁর অবস্থান কোথায় থাকবে, হাসিনার জন্য নির্ধারিত অতিথি কক্ষ ও যে বক্সে বসে তিনি খেলা দেখবেন তা ঘুরে দেখেন বাংলাদেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ইডেনে আসার আগে ভবানীভবনে সিএবি কর্তা, বিদেশমন্ত্রকের সদস্য, বিমানবন্দর ও হোটেল কর্তৃপক্ষ, গোয়েন্দা ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন তাঁরা। তার পরে ইডেনে এসে সেখানেও আরও ঘণ্টা দেড়েক সরেজমিনে স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন। পরে ইডেন ছাড়ার সময়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলে যান, ‘‘সিএবি কর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা  ঠিকঠাক আছে।’’

জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনার বক্সে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ একাধিক সুপারিশ করে গিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বন্দোবস্ত করছেন সিএবি কর্তারা। জানা গিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে গিয়ে তার পরে মাঠে আসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। 

এ দিকে, এ দিনই ইনদওরে তিন দিনে শেষ হয়ে গিয়েছে ভারত বনাম বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। গোলাপী বলে দিনরাতের টেস্টে বাইশ গজ কী রকম হবে, সে সম্পর্কে ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘গোলাপি বলে খেলা হলে পিচে একটু ঘাস থাকলে ভাল। না হলে, দ্রুত বলের পালিশ উঠে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের খেলতে অসুবিধা হতে পারে।’’ ফলে ইডেনেও বাংলাদেশের জন্য গতিময় পিচই তৈরি হচ্ছে বলে খবর। যে হোটেলে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের থাকার কথা, সেখানে চিকিৎসকদের সম্মেলন থাকায় ঘর পাওয়া যাবে না। তাই রবিবারেই দুই দল শহরে ঢুকছে না। মঙ্গলবার একই উড়ানে কলকাতায় আসবেন বিরাট কোহালি, মুশফিকুর রহিমেরা। 

এ দিকে টিকিট নিয়ে হাহাকার তুঙ্গে। কেন কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, এই দাবি তুলে শনিবার সিএবির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কয়েক জন ক্রিকেট ভক্ত। সিএবি কর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম তিন দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে অনলাইনে। উদ্বৃত্ত টিকিটের পরিমাণ জানার পরে কাউন্টার বিক্রির কথা ভাবা হতে পারে। কিন্তু সেই পরিমাণ স্বল্প হলে কাউন্টারে বিশৃঙ্খলা হতে পারে, সে কথাও ভাবছেন তাঁরা। ফলে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছে।