দু’জন বিদেশি-সহ আই লিগের জন্য নতুন পাঁচ ফুটবলার দলে চাইছেন মোহনবাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। কলকাতা লিগ জেতার পরের দিন ক্লাবের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলে দিলেন, ‘‘কলকাতা লিগের চেয়ে আই লিগ অনেক বেশি কঠিন। সেখানে ঘরে-বাইরের ম্যাচ যেমন আছে, তেমনই বিদেশি ফুটবলারেরা পার্থক্য গড়ে দেয়। সেটাই ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বলব।’’

আট বছর পর কলকাতা লিগ জিতে বুধবার রাতে যে উচ্ছ্বাস ছিল মোহনবাগান মাঠে, তা এ দিনের সকালে ছিল না। সদস্য-সমর্থকেরা তো বটেই কর্তারাও অনেকেই আসেননি। তবে দিপান্দা ডিকা, হেনরি কিসেক্কা-সহ সব ফুটবলারই এসেছিলেন। তাঁদের নিয়েই ক্লাব সচিব পতাকা তোলেন। ডিকা এবং হেনরি—১৬ গোলের জুটি একে অন্যকে রসগোল্লা খাওয়ান। কাটা হয় কেকও। তবে প্রেসিডেন্ট, সচিবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়নি কাউকে। 

কলকাতা লিগে মোহনবাগানের আরও একটি ম্যাচ বাকি। ১৮ সেপ্টেম্বর মহমেডানের সঙ্গে। ডিকা-হেনরিরা চাইছেন ওই ম্যাচ জিতে অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে। তাঁর সঙ্গে ডিকার জুটি আই লিগে আরও সফল হবে জানিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা আগে জোড়া গোল করা হেনরি বলে দিলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য শেষ ম্যাচ জেতা। অপরাজিত থেকে লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। তবে আমি এবং ডিকা বেশি গোল করেছি বলে আমাদের নিয়ে হইচই হচ্ছে। এটা আসলে দলগত জয়।’’

কলকাতা লিগ জেতার এক দিন পরে অবশ্য আই লিগের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন মোহনবাগান কোচ। এ দিন সকালে এসেই শঙ্করলাল নেমে পড়েছিলেন ইউতা কিনওয়াকিকে নিয়ে। ক্লাবের মাঠে দীর্ঘক্ষণ জাপানি মিডফিল্ডারকে নিয়ে পড়ে রইলেন তিনি। বললেন, ‘‘ওকে তাড়াতাড়ি শারীরিক ভাবে সুস্থ করে তুলতে হবে। এ ছাড়াও এক জন বিদেশি ডিফেন্ডার ও এক জন মিডফিল্ডার নেব। কলকাতা লিগ শেষ হলেই ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তবে খেলার সিডি দেখে কাউকে নেওয়ায় আমি বিশ্বাসী নই। নিজের চোখে দেখেই বিদেশি নির্বাচন করব।’’ তবে সনি নর্দের মোহনবাগানে ফেরা নিয়ে হঠাৎ ওঠা গুঞ্জন শুনে সবুজ-মেরুন কোচের মন্তব্য, ‘‘ও কী রকম অবস্থায় আছে সেটাই তো জানি না। কেউ আমাকে সনির কথা বলেনি।’’ 

কলকাতা লিগ শেষ হওয়ার পরেই ন’দিনের ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুরো দলকে। তারপর এক মাস ধরে হবে আই লিগের প্রস্তুতি। তার আগেই বিদেশি ফুটবলার নির্বাচন করে নিতে চান শঙ্করলাল। বলছিলেন, ‘‘কলকাতা লিগ জিতেছি ঠিক আছে। কয়েক দিন হইচই চলুক। আসল তো আই লিগ। এটা পেতে ঝাঁপাতে হবে এ বার।’’

মোহনবাগানে তাঁর গত সাড়ে তিন বছরের সঙ্গী প্রধান কোচ সঞ্জয় সেন স্পেন থেকে ফোন করেছিলেন বুধবার রাতেই। এ দিন শঙ্করলালকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুভাষ ভৌমিক। মোহনবাগান কোচ বললেন, ‘‘শেষ ম্যাচে মহমেডানের বিরুদ্ধে দলে কিছু পরিবর্তন করতে পারি। যারা খেলেনি, তাদের খেলাব বলে ঠিক করেছি। অপরাজিত থেকে লিগ শেষ করতে চাই।’’ এ দিন ক্লাব তাঁবুতে বসে অধিনায়ক শিল্টন পাল বললেন, ‘‘আট বছর আগের লিগ জয়ের সঙ্গে এ বারের লিগ জয় আলাদা। সে বার দলে অনেক তারকা ছিল। এ বার সব তরুণ ছেলে। আমাদের দলের সাফল্যের মূল কারণ ড্রেসিংরুমের সুস্থ পরিবেশ।’’