ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০৪ রানে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। তবুও বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফ্যাফ ডু্প্লেসি। প্রাক্তন ক্রিকেটার জাক কালিসও মনে করেন, প্রথম ম্যাচ খারাপ ভাবে হারলেও বিশ্বকাপে গভীর পর্যন্ত যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। 

কাগিসো রাবাডাদের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ৩১১ রান করলেও কোনও ব্যাটসম্যান তাঁদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেনি। শেষ দশ ওভারে ইংল্যান্ড করে ৭৬ রান। অইন মর্গ্যানের দলের গভীর ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে রাবাডাদের প্রয়াসে খুশি ফ্যাফ।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে ডুপ্লেসি বলেন, ‘‘আমাদের বোলাররা যথেষ্ট ভাল পারফর্ম করেছে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপ সব চেয়ে দৈর্ঘ। জোফ্রা আর্চার পর্যন্ত ব্যাট করতে পারে। ওদের বিরুদ্ধে শেষ ১৫ ওভারে বেশি রান আমরা তুলতে দিইনি। অনেকে হাফসেঞ্চুরি করলেও সেঞ্চুরি করতে পারেনি। এই ম্যাচ থেকে সেটাই আমাদের প্রাপ্তি।’’

প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার কালিস অবশ্য বলছিলেন, ‘‘ইংল্যান্ডের পরিবেশে প্রথম ম্যাচে এ রকম হতেই পারে। আমাদের দলের যা অভিজ্ঞতা তাতে প্রতিযোগিতায় অনেক গভীর পর্যন্ত যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। হতে পারে আমরা অনেক ভুল করেছি। কিন্তু এমন কিছু ভুল করিনি যা প্রতিযোগিতা চলাকালীন শোধরানো যাবে না।’’

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং নিয়ে খুশি কালিস। বলছিলেন, ‘‘ইংল্যান্ডের যা ব্যাটিং লাইন-আপ তাতে ৩৫০ রান করা কোনও ব্যাপার না। কিন্তু আমরা না হলেও ওদের ২০ থেকে ২৫ রান কম দিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সেটাই বোলারদের উদ্বুদ্ধ করবে।’’

ইমরান তাহিরকে দিয়ে বোলিং ওপেন করানোর সিদ্ধান্তকেও প্রশংসা করেছেন কালিস। তাঁর কথায়, ‘‘ম্যাচে বেশ কয়েকটি বোলিং পরিবর্তন করেছে ফ্যাফ যা সত্যি খুব ভাল। যেমন নতুন বল তুলে দেয় তাহিরের হাতে। ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে দেয় অভিজ্ঞ লেগস্পিনার।’’ 

ডুপ্লেসি জানিয়েছেন, তাহিরকে দিয়ে বোলিং ওপেন করানোর পরিকল্পনা প্রায় এক বছর আগে থেকে করছিলেন তিনি। ডুপ্লেসি বলেন, ‘‘গত বছর অনুশীলনে তাহিরকে নতুন বল দিয়ে বল করতে দেখেই বুঝেছিলাম, যে কোনও ম্যাচে এটা ওর পক্ষে করা সম্ভব। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নতুন বলে অনুশীলন করত তাহির। তাই বিশ্বকাপের প্রথম ওভারে ওর কাঁধে দায়িত্ব তুলে দিয়েছি।’’

হাসিম আমলার চোট পাওয়াই যে তাঁদের হারের অন্যতম কারণ, তা মানছেন দু’জনেই। কালিস বলছিলেন, ‘‘আমলার চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়াটা সত্যি বড় ক্ষতি। সেই সময় বড় জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল।’’