শুরু হয়ে গেল আক্রমণ! শনিবার সাউদাম্পটনে প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ড সমর্থকদের বিদ্রুপের শিকার হলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ। কিন্তু বিদ্রুপের মুখে পড়েও স্টিভ স্মিথ বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁদের দলটার নাম অস্ট্রেলিয়া।

সাউদাম্পটনে প্রস্তুতি ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে স্মিথ-ওয়ার্নারদের অস্ট্রেলিয়াই ১২ রানে হারাল ইংল্যান্ডকে। ১০২ বলে ১১৬ রান স্মিথের। ৫৫ বলে ৪৩ করেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। 

শুরুতে ব্যাট করে নয় উইকেটে ২৯৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বিশ্বকাপ জয়ের বড় ফেভারিট ইংল্যান্ড ৪৯.৩ ওভারে অলআউট ২৮৫ রানে। ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের গলাতেও স্মিথের প্রশংসা। বললেন, ‘‘ফিল্ডিং ভাল না হলেও ব্যাটিং নিয়ে খুশি। স্টিভ আজ দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দিল।’’

বল-বিকৃতি কাণ্ডে এক বছর নির্বাসিত থাকার পরে ফের অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন ওয়ার্নার ও স্মিথ। প্রত্যাবর্তনের পরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শনিবারই প্রথম বড় ম্যাচ ছিল তাঁদের। টস জিতে ফিল্ডিং নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার। ফিঞ্চের সঙ্গে ওপেন করার জন্য ওয়ার্নার মাঠে ঢুকতেই এক দর্শক চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘‘মাঠ থেকে বেরিয়ে যাও প্রতারক ওয়ার্নার।’’ রেহাই পাননি স্মিথও। তাঁকেও প্রতারক বলেন দর্শকেরা। কিন্তু দিনের শেষে সব কিছু উপেক্ষা করে দলকে জেতালেন স্মিথ।  

শনিবার সাউদাম্পটনের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে ওয়ার্নার পরিবারে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইংল্যান্ডেই তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ওয়ার্নারের স্ত্রীর। এই ঘটনার পরেই ওয়ার্নারের ম্যানেজার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের কাছে নিরাপত্তার আশ্বাস চেয়েছেন। কারণ, বিশ্বকাপের পরে ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্মিথ এই নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন। ম্যাচের মাঝে তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছি না। দর্শকরা কী করবে, সেটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’’ স্মিথ যে হাল্কা মনে খেলছেন, সেটা তাঁর ব্যাটিং দেখেই স্পষ্ট। তাঁর ব্যাটিংয়ে চাপের কোনও চিহ্ন ছিল না।

জবাবে ১৩ ওভারের মধ্যে জনি বেয়ারস্টো (১২) ও জেসন রয়ের (৩২) উইকেট হারিয়ে ৬৫-২ হয়ে যায় ইংল্যান্ড। এর পরে জেমস ভিন্স (৬৪) ও জস বাটলার (৫২) প্রতিরোধ গড়লেও জয় আসেনি। ম্যাচ শেষে বাটলার বলেন, ‘‘বেশ কয়েক জন চোটের জন্য খেলেনি।’’ এতটাই বেহাল ছিল ইংল্যান্ড শিবির যে, সহকারী কোচ পল কলিংউডকে ফিল্ডিং করতে হয়!