নেটে ব্যাট করতে ঢুকেই মাঠকর্মীদের অনুরোধ করলেন নেট সরিয়ে দেওয়ার জন্য। শুরুতে বোঝা যাচ্ছিল না হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন আন্দ্রে রাসেল। কিন্তু তাঁর ছক্কাবৃষ্টি দেখেই অনুমান করা গেল রাজস্থান ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন নাইটদের মূল অস্ত্র। 

যত মাঠকর্মী উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন রাসেল। মাঠকর্মীরাও রাসেলের নির্দেশ অনুযায়ী সব নেট সরিয়ে শুধু উইকেটকিপারের জায়গায় নেট লাগিয়ে দেন। তার পর থেকেই চেনা মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন জামাইকান অলরাউন্ডার। একের পর এক বল উড়ে যায় গ্যালারির উদ্দেশে। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে যা করতে পারেননি, তার শোধ হয়তো তুলতে চাইছেন রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। কারণ, কেকেআরের সামনে এটা মরণ-বাঁচন ম্যাচ। ১০ ম্যাচে আট পয়েন্ট পেয়ে লিগ তালিকার ছয় নম্বরে দীনেশ কার্তিকের দল। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য আসন্ন চার ম্যাচের মধ্যে চারটিই জিততে হবে কেকেআরকে। না হলে অন্য দলের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। রাসেলের ব্যাটিং দেখে অনুমান করা গেল, তিনি মরিয়া। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলছেন।

রাসেলের ‘পাওয়ার হিটিং’ দেখে এগিয়ে এলেন তাঁর ক্যারিবিয়ান সতীর্থেরাও। সুনীল নারাইন, কার্লোস ব্রাথওয়েটও এগিয়ে এলেন তাঁদের প্রিয় কাজ করতে। নারাইন, ব্রাথওয়েটের প্রস্তুতির সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রাসেল। ভুল হলেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন সতীর্থদের বুঝিয়ে দিতে। রাসেল যে ভাবে একের পর এক বল গ্যালারিতে ফেলছিলেন, নারাইন, ব্রাথওয়েট তা পারছিলেন না। ম্যাচেও তা দেখা গিয়েছে। রাসেলের শক্তির ধারে কাছে পাওয়া যাচ্ছে না বাকি ক্যারিবিয়ানদের। বিশেষ কোনও কৌশল ব্যবহার করেন কি না তাও জানা যায়নি।

তাই হয়তো রাসেল নিজেই তাঁর সতীর্থদের সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। ব্রাথওয়েট, নারাইনদের দেখিয়ে দিলেন শুধু টাইমিং নয়, শক্তিও প্রয়োগ করার প্রয়োজন। 

ইডেনে ছক্কাবৃষ্টির শেষ মুহূর্তে আরও একটি চমক নিয়ে এগিয়ে এলেন রাসেল। সতীর্থদের শুনিয়ে গেলেন টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্ত। কী ভাবে জেতার পরে উৎসবে মেতে উঠেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে সাংবাদিক বৈঠকে টেবলে পা তুলে দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মার্লন স্যামুয়েলস। তাও নকল করে দেখালেন সতীর্থদের।