বিদায়ী টেস্টে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালেস্টেয়ার কুককে জয়ের চেয়ে ভাল উপহার আর কী দিতে পারেন তাঁর সতীর্থরা? তাই কুকের জন্যই ওভালে জিততে চায় ইংল্যান্ড। এই টেস্টে এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তবে শুধু কুককে বিদায়ী উপহার দেওয়াই না, ভারতকে ৪-১ সিরিজ হারিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ার কাছে একটা বার্তাও দিতে চান তাঁরা।

শেষ টেস্ট শুরুর আগে সাংবাদিকদের ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘‘এই সপ্তাহটা সবাই খুব আবেগপ্রবণ থাকব আমরা। যারা ওঁর নেতৃত্বে অনেক ম্যাচ খেলেছে, তারাও। কুকের না থাকাটা আমাদের দলের পক্ষে ক্ষতিকর। তবে খেলাটা যে উপভোগ করার  সুযোগ পেয়েছে ও, সেটাই আমাদের কাছে ভাল।’’

ম্যাচটা যে কোনও মূল্যে জিততে চান রুট। বলেন, ‘‘এই টেস্টে জয়টা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এক নম্বর টেস্ট খেলিয়ে দলকে ৪-১ হারিয়ে প্রমাণ করতে হবে, আমরা কতটা ভাল জায়গায় আছি। দল হিসেবে আমরা কোন দিকে যেতে চাই, তাও বোঝানো যাবে। প্রতিকূল পরিবেশে এই মরসুমটা যে আমাদের ভালই কাটল, তা বোঝাতে এই টেস্ট জিততেই হবে।’’ 

যদিও কুক চান না, তাঁর অবসর নিয়ে প্রচুর হইচই হোক। তাতে দলের ‘ফোকাস’ নষ্ট হতে পারে। তবে রুট বলছেন, এটাই তাঁকে শেষ সম্মানটুকু জানানোর সেরা সময় ও সুযোগ। তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু পরিকল্পনা  নেই আমাদের। কিন্তু সবাই মিলে স্বতস্ফূর্তভাবে কিছু একটা তো করতেই হবে। এতে আমরা লক্ষ্যভ্রষ্ট হব বলে মনে হয় না। বরং আরও উজ্জীবিত হব। কুকের মতো একজনকে স্মরণীয় বিদায় জানানোর জন্য সবাই মরিয়া হয়ে থাকবে। ইংল্যান্ডের পরিবেশে ১২ বছর ধরে টপ অর্ডারে সাফল্যের সঙ্গে খেলে যাওয়াটা মোটেই মুখের কথা নয়। ওকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়াটা আমাদের কর্তব্য।’’

সাউদাম্পটনেই কুক তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের কথা অধিনায়ককে জানান। সেই সিদ্ধান্ত শোনার পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে কুক বলেন, ‘‘একটু অবাকই হয়ে গিয়েছিলাম কুকের কথা শুনে। কিন্তু ও ওর সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। ওঁর কথা শুনে, মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, কতটা ভাবনা-চিন্তার পরে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাই ওকে আর বোঝানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। আমার ক্রিকেট জীবনে কুকের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ওঁর নেতৃত্বেই আমি দেশের হয়ে খেলা শুরু করি। ওর অভাব বোধ করব। শুধু ভাল ক্রিকেটার বলে নয়, ভাল মানুষ বলেও।’’ 

ভারতের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে প্রথম ইংল্যান্ড দলে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেন কুক। জনি বেয়ারস্টো-ই যে স্টাম্পের পিছনে দাঁড়াবেন এবং মইন আলিই যে তিন নম্বরে ব্যাট করবেন, তাও জানিয়ে দেন তিনি। রুট ব্যাট করবেন চার নম্বরেই। উইকেটকিপারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটাও ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন তিনি। বলেন, ‘‘জনি বহু দিন ধরে টেস্ট কিপিং করে যাচ্ছে। জস (বাটলার) এখন ভাল ফর্মে রয়েছে। ওদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটা থাকা খুবই ভাল। আমাদের সামনে যে পরিমান ক্রিকেট আছে, তাতে ওরা দু’জনে দায়িত্ব ভাগ করে নিলে দলের ভালই হবে।’’ ব্যাটিং অর্ডারে বদল নিয়ে রুট বলছেন, ‘‘কাউন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ও খুবই ভাল খেলেছে। সাউদাম্পটনেও দ্বিতীয় ইনিংসে যথেষ্ট ভাল খেলেছে ও। তাই মইনের ওপর আস্থা রেখেই আমি চার নম্বরে নামছি। চার নম্বর জায়গাটা তো আমার পছন্দেরই।’’