• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আগে না আসার অজুহাত দিতে চান না বিরাট

Virat Kohli
মুখোমুখি: ওয়ান্ডারার্সে সাংবাদিক বৈঠকে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি। মঙ্গলবার। ছবি: এপি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে খেলে সময় নষ্ট না করে আরও আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসা উচিত ছিল ভারতীয় দলের। এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় পেলে এ রকম ফল হতো না। গত কাল হেড কোচ রবি শাস্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে গিয়েছিলেন, দশ দিন আগে এখানে এলে অন্য রকম ফল হতে পারত। বিরাট কোহালি বলছেন না।

চলতি সিরিজে ০-২ পিছিয়ে পড়া নিয়ে একেবারেই কোনও অজুহাত দিতে চান না কোহালি। এ দিনও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার কি মনে হয় এখানে আগে এলে ফল অন্য রকম হতে পারত? বিদেশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় কি দরকার নয়? কোহালি বললেন, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি না যে, আমরা ঠিক মতো প্রস্তুতি নিয়ে সিরিজ খেলতে আসিনি। সিরিজ শুরুর সময় আমরা সে রকম ভাবিনি। এখন সিরিজ হারের পরে এখানে বসে আমি এ সব কথা বলতে চাই না।’’ যোগ করলেন, ‘‘আমাদের হাতে তৈরি হওয়ার জন্য সপ্তাহখানেক ছিল। ট্র্যাভেল করার সময়টা বাদ দিলে পাঁচ দিন ধরা যেতে পারে। আমরা জানতাম এই সময়টাই পাচ্ছি এবং তাই নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম।’’ এখানেই না থেমে তিনি বলে চলেন, ‘‘এখন বাইরের কোন কোন কারণের জন্য আমরা সিরিজ হারলাম, সেটা বলাটা ঠিক হবে না। আমি বলতে চাই যে, নিজেদের ভুলে আমরা সিরিজ হেরেছি। অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েও সেগুলোকে চলে যেতে দিয়েছি। সেই কারণেই সিরিজে আমরা ০-২ পিছিয়ে।’’

বিদেশ সফরের প্রস্তুতির অজুহাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি যে এই হার থেকে মুখ লুকোতে চান না, সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁর কথায়। মনে হল, ভারতীয় বোর্ডকেও এখনই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছেন না। বললেন, ‘‘দায়িত্ব কোনও এক জনের নয়। দায়িত্ব সকলের এবং আমার মনে হয় বিদেশ সফরের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা অনেক বার বলা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোকে ০-২ ফলের কারণ হিসেবে তুলে ধরতে চাই না।’’ ওয়ান্ডারার্স ভারতীয় দলের জন্য পয়মন্ত মাঠ। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বে এখানেই ২০০৭ সালে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। পঁচিশ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় জেতা দু’টি টেস্ট জয়ের একটি এখানে। ২০১৩-তে এখানে প্রথম টেস্টেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন কোহালি। সেটা মনে করানোয় ভারত অধিনায়ক বললেন, ‘‘সেই টেস্টের ইতিবাচক দিকগুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কী সব ব্যাপার আমাদের পক্ষে কাজ করেছিল। এ বারের পিচে আগের চেয়ে বেশি ঘাস রয়েছে তবে পেস আর বাউন্স একই রকম থাকবে। ওদের বোলিং আক্রমণে তখনও ফিল্যান্ডার, মর্কেল ছিল। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে সেগুলো ছুড়ে দিয়ে আসা চলবে না।’’ কখনও ওয়ান্ডারার্সে হারেনি ভারত। বরং কোহালি-রা গত বার জেতার মুখে এসে গিয়েছিলেন। দেড় দিন মতো হাতে পেয়েও মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বোলাররা কাজ শেষ করতে পারেননি। ‘‘শেষ দিনটা খুব উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছিল। দর্শকদের জন্যও খুব উপভোগ্য ম্যাচ ছিল। ব্যক্তিগত ভাবে এবং দল হিসেবে খুবই স্মরণীয় একটা টেস্ট ছিল সেটা,’’ বলে কোহালি যোগ করেন, ‘‘আমার খুব ভাল লাগে এখানে খেলতে। শেষ বার দারুণ পরিবেশ ছিল। আশা করি, এ বারেও আমরা ভাল কিছু করতে পারব এখানে।’’ ব্যাটিংয়ের জন্যই যে এই সিরিজে ফলাফল তাঁদের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই ভারত অধিনায়কের মনে। ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি জানাচ্ছেন। ‘‘আমরা আলোচনা করেছি কোথায় ভুল হয়েছে। কোন জায়গাগুলো আমরা ঠিক করতে পারিনি। প্রত্যেকে সেই বিশ্লেষণকে খুব ভাল ভাবে নিয়েছে। যখনই মাঠে নামব, প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের কাছে ভুলত্রুটি শুধরানোর সুযোগ।’’ বরাবরের মতো অন্য কিছুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়। বরং সাহসী নাবিকের মতোই বুক চিতিয়ে কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তাঁর দল ০-২ লুটিয়ে পড়ার মধ্যেও এই নির্ভীক, সৎ বিশ্লেষণ শুনে হাততালি দিতে ইচ্ছা করবে। না হলে কী সীমাহীন চাপে রয়েছেন তিনি! বিশ্ব জুড়ে ঝড় শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথা থেকে হঠাৎ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ নিজের দেশের একটি চ্যানেলে বলেছেন, কোহালিকে সামলানোর জন্য কড়া কাউকে দরকার ছিল। যিনি কি না তাঁর মতকে খণ্ডনও করতে পারেন। একটা বিপরীত হাওয়া যেন বইতে শুরু করেছে ক্যাপ্টেন কোহালিকে নিয়ে। কিন্তু তিনি তার মধ্যেও তাঁর দর্শনে অবিচল। হারের পরে কোনও অজুহাত দেব না।

কখনওসখনও পরাভূত নায়কও এত আকর্ষণীয় হয়! 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন