ইংল্যান্ড আর বেলজিয়ামের মধ্যে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মনোভাব সকলকে অবাক করেছে। ব্রাজিলকে খেলবেন না বলে জিততে না চাওয়ায় ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের খুব সমালোচনাও হল।

আমি কিন্তু খুব খুশি দেখে যে, আমার দেশ বেলজিয়াম জেতার জন্য খেলতে নেমেছিল। ইচ্ছে করে গ্রুপের দ্বিতীয় হয়ে ওরা নক-আউট পর্বে যেতে চায়নি। বরং মাঠে সর্বস্ব দিয়ে খেলে ম্যাচ জিতে গ্রুপের এক নম্বর হয়ে যেতে চেয়েছে। তাতে যদি একটা ম্যাচ জেতার পরে নক-আউট পর্বে ব্রাজিলের সামনে পড়তে হয় তো ঠিক আছে। এত ভয় পেয়ে তো আর ফুটবল খেলা হয় না। বিশেষ করে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন যদি দেখো, তা হলে ও রকম বেছে বেছে খেলা যায় না যে, আমি অমুক বড় দলের সামনে পড়ব না। অপেক্ষাকৃত সহজ রাস্তা ধরে উপরে ওঠার চেষ্টা করব।

আমি নিজে বহু দেশে কোচিং করিয়েছি। এত বড় প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেলে প্রধান ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়ার মধ্যে কোনও দোষ দেখি না। আর ইংল্যান্ড একেবারে চেষ্টা করেনি বেলজিয়ামের সঙ্গে জেতার, সেটাও ঠিক বলে মনে করি না। ওরা জিততে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। বেলজিয়াম ওই দিনটায় ওদের চেয়ে ভাল দল ছিল। আমার মনে হয় যে কোনও প্রতিপক্ষের সামনে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে রাশিয়ায় গিয়েছে বেলজিয়াম।

টিনটিনের দেশকে নিয়ে এ বারের বিশ্বকাপে খুবই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তথাকথিত ফেভারিটরা বিদায় নিতে শুরু করায়, আরও বেশি করে আলোচিত হবে আমার দেশের নাম। এমনিতেই এই দলটাকে আমরা বলি, দেশের সোনার প্রজন্ম। এক সঙ্গে এত দুর্ধর্ষ ফুটবলার আর কখনও আমাদের আসেনি। গোলকিপার থিবো কর্তুয়া, মিডফিল্ডে কেভিন দ্য ব্রুইন, মারুয়ান ফেলাইনি, ফরোয়ার্ডে এডেন অ্যাজার,  রোমেলু লুকাকু। প্রত্যেকে ক্লাব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেভিন দ্য ব্রুইনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। চেলসির প্রধান অস্ত্র অ্যাজার। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে অনেক গোল করেছে লুকাকু। সঙ্গে রয়েছে আদনান জানুজাই। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খুব সুন্দর গোল করল। ব্রাসেলসে আমার ক্লাবে বেড়ে উঠেছে জানুজাই। আরও একটা নাম আমি বলছি। দেদোভিক বোয়োতা। ডিফেন্সে দারুণ খেলছে।   মুসা দেম্বেলে আছে। টেকনিক্যালি দারুণ ও। আমাদের দেশে কারও কারও মত, শুরু থেকেই ওকে নামানো উচিত। জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে একটা পরিসংখ্যান নিশ্চয়ই কোচ রবের্তো মার্তিনেজকে স্বস্তি দেবে। গত বাইশটি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে বেলজিয়াম। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অ্যাজাররা এখন তিন নম্বরে। কয়েক দিন আগেও শীর্ষে ছিল। যারা বেলজিয়ামের থেকে শীর্ষ স্থান ছিনিয়ে নিয়েছিল, তারা বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে— জার্মানি।

 ইন্টারনেটে পড়লাম, অ্যাজার বলেছে, শেষ ম্যাচে বিশ্রাম নেওয়ায় লাভ হয়েছে না ক্ষতি, সেটা জাপান ম্যাচেই বোঝা যাবে। এটাও বলেছে যে, ও সব সময় খেলতেই চায়। বিশ্রামে গেলে ছন্দ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তার মানে ইংল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের বিতর্কিত বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও ডামাডোল অব্যাহত। মার্তিনেজকে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে, ইংল্যান্ড ম্যাচ থেকে বেরিয়ে দলকে জাপান নিয়ে মনঃসংযোগ করানো। কম কার্ড দেখার ভিত্তিতে নক-আউটে গেলেও জাপান দলটা মরিয়া থাকবে। ওদের হারানোর কিছু নেই বলে চাপও অনেক কম থাকবে। অনেক ক্ষেত্রেই এ সব পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাই বেলজিয়াম যতই সোনার প্রজন্মের ফুটবলারে ভর্তি হোক, যতই ফেভারিট হোক, সতর্ক থাকতে হবে।