জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জনের পরে এ বার আন্তর্জাতিক তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে স্বকীর্তি সূত্রধর। মার্চ মাসে ব্যাঙ্ককে এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশন আয়োজিত জুনিয়র এশিয়া কাপে (স্টেজ–ওয়ান) তিরন্দাজির রিকার্ভ বিভাগে দেশের হয়ে মহিলা বিভাগে ৪ জন এবং পুরুষ বিভাগে ৮ জন অংশ নেবে। ছেলেদের মধ্যে স্বকীর্তিই একমাত্র প্রতিনিধি। 

 লাভপুরের স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা স্বকৃতির অবশ্য ছোটবেলায় তিরধনুকে কোনও আর্কষণ ছিল না। স্থানীয় বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী পরিচালিত ‘সব পেয়েছি’র আসরে অন্যান্য ছেলেমেয়েদের মতোই নানা রকম খেলাতে আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে তিরন্দাজির প্রতি আকর্ষণ জন্মানোটা নেহাতই কাকতালীয়। ওই বছর বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর পরিচালনায় তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। স্বকীর্তি তাতে যোগ দেয়। মাত্র ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েই সে রাজ্য স্কুল মিটে ইন্ডিয়ান রাউন্ডে (অনুর্দ্ধ-১৪) তৃতীয় স্থান দখল করে ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে নেয়। ওই বছরই রাজ্যস্তরের পাইকা প্রতিযোগিতায় একই বিভাগে প্রথম স্থান দখল করে সোনার পদক জয় করে। ২০১৩ সালেই জাতীয় স্কুল লেভেল তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেও একই সময়ে হরিয়ানায় পাইকা আয়োজিত জাতীয় তিরন্দাজি প্রতিযোগিতা থাকায় জাতীয় স্কুল লেভেল প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া হয়নি।    

২০১৭ সালে আন্তঃ সাই সাব জুনিয়র তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ রাউন্ডে স্বকীর্তি ব্যক্তিগত ভাবে সোনা এবং দলগত ভাবে রুপোর পদক লাভ করে। ২০১৮-১৯ সালেও সে মধ্যপ্রদশের ভূপালে জুনিয়র নাশন্যাল তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় অলিম্পিক রিকার্ভ রাউন্ডের মিক্সড ডাবলে সোনা এবং ব্যক্তিগত ভাবে রুপোর পদক পেয়েছে। এ পর্যন্ত সে বিভিন্ন স্তরের প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ভাবে ১২টি সোনা, ২টি রূপো এবং ৪টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে। 

স্বভাবতই তার আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আসায় খুশি সকলে। বর্তমানে বোলপুরের সাই স্যাগ সেন্টারে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি লাভপুর যাদবলাল হাইস্কুলে পড়াশোনা করে স্বকীর্তি। এ বারে সে ওই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় এবং বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর কর্ণধার উজ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, স্বকীর্তি  আগেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আমাদের মুখ উজ্বল করেছে। এ বারেও তার অন্যথা 

হবে না আশাকরি । 

স্বকীর্তির বাবা হরিসাধন সূত্রধর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। মা স্বপ্নাদেবী সংসার সামলান। দুজনেই ভিন্ন ধারার মানুষ। খেলা নিয়ে ছেলেকে উৎসাহ দেওয়ায় খামতি নেই 

তাঁদের। স্বকীর্তি বলে, ‘‘আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের গৌরব বৃদ্ধি করতে পারলে ভাল লাগবে। এর পর অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করাই আমার লক্ষ্য।’’